বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গঠিত দলকে ঘিরে যেমন সমর্থকদের আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি আলোচনায় উঠে আসছেন খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও প্রেমিকারাও, যাদের সাধারণত WAGs (Wives and Girlfriends) নামে ডাকা হয়।
একসময় ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম, শেরিল কোল কিংবা অ্যাবি ক্ল্যান্সির মতো তারকাদের কারণে WAG সংস্কৃতি ছিল সংবাদমাধ্যমের অন্যতম আকর্ষণ। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। বর্তমান প্রজন্মের অনেক WAG-ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকে ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন।
হ্যারি কেইনের স্ত্রী কেটি গুডল্যান্ড, ডেকলান রাইসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী লরেন ফ্রায়ার, বুকায়ো সাকার বাগদত্তা টোলামি বেনসন কিংবা জর্ডান পিকফোর্ডের স্ত্রী মেগান পিকফোর্ডের নাম অনেকেরই পরিচিত। তবে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে যুক্ত এমন কয়েকজন নতুন মুখ রয়েছেন, যাদের সম্পর্কে অনেক ফুটবলপ্রেমী এখনও জানেন না।
মিয়া ম্যাকক্লেনাঘান: রিস জেমসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী
চেলসি ও ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার রিস জেমসের দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মিয়া ম্যাকক্লেনাঘান পেশাগত জীবনেও বেশ সফল। ২৬ বছর বয়সী মিয়া লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
বর্তমানে তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা যায়। এর আগে তিনি ঋণ পুনর্গঠন সংক্রান্ত আইনি সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সাল থেকে রিস জেমসের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরু বলে ধারণা করা হয়।
একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উল্লেখযোগ্য অনুসারী থাকলেও বর্তমানে তিনি অনলাইন জগত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রাখার সিদ্ধান্তই তার এই অবস্থানের প্রধান কারণ।
অলিভিয়া কেট পারভিয়া: এলিয়ট অ্যান্ডারসনের নীরব সমর্থক
নটিংহ্যাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের প্রেমিকা অলিভিয়া কেট পারভিয়া একজন প্যারালিগ্যাল। তিনি ২০২৪ সালে সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
যদিও এই জুটি তাদের সম্পর্ক নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেন না, তবুও অলিভিয়াকে একাধিক নটিংহ্যাম ফরেস্ট ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা গেছে। সমর্থকদের কাছে ‘জিওর্ডি ম্যারাডোনা’ নামে পরিচিত এলিয়টের প্রতি তার সমর্থন বরাবরই স্পষ্ট।
অ্যানি কিটিং: অ্যান্থনি গর্ডনের শৈশবের ভালোবাসা
লিভারপুলে বেড়ে ওঠা অ্যানি কিটিং বর্তমানে বার্সেলোনার তারকা ফুটবলার অ্যান্থনি গর্ডনের সঙ্গী। তাদের প্রেমের গল্প শুরু হয় শৈশব থেকেই, যা আজও অটুট রয়েছে।
পেশায় মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত অ্যানির সঙ্গে গর্ডনের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে, যার জন্ম ২০২৩ সালের নভেম্বরে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও এই জুটি সুখী পারিবারিক জীবন উপভোগ করছেন।
সম্প্রতি গর্ডন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারসহ তারা যুক্তরাজ্য ছেড়ে স্পেনে স্থায়ী হতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে তার এই স্থানান্তর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লায়লা রয়: কোবি মাইনুর স্টাইলিশ সঙ্গী
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ মিডফিল্ডার কোবি মাইনুর প্রেমিকা লায়লা রয় ইতোমধ্যেই ফ্যাশন জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন।
২২ বছর বয়সী লায়লা একটি মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। পাশাপাশি তিনি সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন বিজনেস ও প্রমোশন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ফ্যাশন ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি তিনি কোবি মাইনুর ক্যারিয়ারেরও ঘনিষ্ঠ সমর্থক।
লুসিয়া লোই: মার্কাস রাশফোর্ডের পুরোনো প্রেম
বার্সেলোনায় ধারে খেলতে যাওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা মার্কাস রাশফোর্ডের দীর্ঘদিনের সঙ্গী লুসিয়া লোই একজন পরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার।
স্কুলজীবন থেকেই তাদের সম্পর্কের শুরু। ২০২২ সালে তারা বাগদান সম্পন্ন করলেও পরে তা ভেঙে যায়। এর আগে ২০২১ সালেও তাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল, পরে আবার এক হন। ওঠানামায় ভরা এই সম্পর্কের কারণে অনেক ফুটবলপ্রেমীর নজর থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছেন লুসিয়া।
তবে রাশফোর্ডের জীবনে তার উপস্থিতি এখনও গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে তারা একে অপরের পাশে রয়েছেন।
অ্যাশলিন কাস্ত্রো: জুড বেলিংহামের আলোচিত প্রেমিকা
রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আলোচনায় এসেছেন মার্কিন মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলিন কাস্ত্রো।
২৮ বছর বয়সী অ্যাশলিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক লাখ অনুসারী রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা শুরু হয় বলে জানা যায়।
লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই মডেল অতীতেও বিভিন্ন তারকার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনে শিরোনাম হয়েছেন। তবে বর্তমানে তার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে জুড বেলিংহামের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই।
নাইমা করবিন: এবেরেচি এজের জীবনের শক্তি
আর্সেনালের মিডফিল্ডার এবেরেচি এজের স্ত্রী নাইমা করবিনের গল্প অনেকটাই অনুপ্রেরণামূলক। স্কুলজীবনে তাদের পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব থেকে শুরু হয় ভালোবাসা।
নাইমা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রথমে তারা শুধুই বন্ধু ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হয় এবং ১৮ বছর বয়সে তারা প্রেম শুরু করেন। ২০২১ সালে বাগদান সম্পন্ন করার পর পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
কিংস কলেজ লন্ডন থেকে নার্সিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করা নাইমা পেশাগত জীবনেও সফল। তিনি মজা করে বলেন, তার সময় কাটে হাসপাতালের আইসিইউ এবং স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্স—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতে।
তাদের বিয়ে উদযাপনের জন্য তিনটি পৃথক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, যা তাদের সম্পর্কের বিশেষত্বকে আরও তুলে ধরে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নতুন প্রজন্মের WAGs কেন আলোচনায়?
আগের প্রজন্মের WAGs যেখানে নিয়মিত মিডিয়ার নজরে থাকতেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দেন। তারা ক্যারিয়ার, শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলছেন।
আইনজীবী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, মডেল কিংবা উদ্যোক্তা—বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত এই নারীরা শুধু ফুটবল তারকাদের সঙ্গী নন, বরং নিজ নিজ ক্ষেত্রেও সফল ব্যক্তিত্ব।
বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির এই পরিচিত ও নতুন মুখগুলোকেও ঘিরে বাড়বে সমর্থক ও গণমাধ্যমের আগ্রহ। ইংল্যান্ড দলের সাফল্যের যাত্রায় তারকারা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের পাশে থাকা এই নারীরাও নীরবে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

