Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিঅ্যাপল গ্যাজেটসঅ্যাপলের ‘কনফ্লিক্ট মিনারেল’ রিপোর্ট: আইফোন কি সত্যিই বিতর্কিত খনিজ দিয়ে তৈরি?

অ্যাপলের ‘কনফ্লিক্ট মিনারেল’ রিপোর্ট: আইফোন কি সত্যিই বিতর্কিত খনিজ দিয়ে তৈরি?

‘কনফ্লিক্ট মিনারেল’ বলতে মূলত টিন, ট্যান্টালাম, টাংস্টেন আর সোনা—এই চারটা খনিজকে বোঝানো হয়। এগুলোকে একসাথে বলা হয় “3TG”। সমস্যা হচ্ছে, আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এই খনিজগুলো উত্তোলনের সাথে যুদ্ধ, সহিংসতা আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্পর্ক আছে।

অ্যাপলের নতুন দাবি: আইফোনে নেই ‘কনফ্লিক্ট মিনারেল’

অনেকদিন ধরেই একটা অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—আইফোন আর আইপ্যাড তৈরিতে নাকি আফ্রিকার সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে আনা খনিজ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অ্যাপল এবার সরাসরি বলছে, এই অভিযোগ ঠিক না। তাদের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের কোনো পণ্যেই এমন খনিজ ব্যবহার করা হয় না, যা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই রিপোর্টটা আসলে অ্যাপলের সাপ্লাই চেইন নিয়ে নতুন করে স্বচ্ছতা আনার একটা চেষ্টা। কারণ গত কয়েক বছর ধরে কোম্পানিটা এই ইস্যুতে অনেক চাপের মুখে ছিল।

কেন ‘কনফ্লিক্ট মিনারেল’ নিয়ে এত কথা?

‘কনফ্লিক্ট মিনারেল’ বলতে মূলত টিন, ট্যান্টালাম, টাংস্টেন আর সোনা—এই চারটা খনিজকে বোঝানো হয়। এগুলোকে একসাথে বলা হয় “3TG”। সমস্যা হচ্ছে, আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এই খনিজগুলো উত্তোলনের সাথে যুদ্ধ, সহিংসতা আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্পর্ক আছে।

অনেক মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করে, এসব খনিজ বিক্রি করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো টাকা পায়। আর সেই টাকাই তারা যুদ্ধ চালাতে ব্যবহার করে।

এই কারণেই বড় বড় টেক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ থাকে যেন তারা এসব উৎস থেকে খনিজ না নেয়।

অ্যাপলের সাপ্লাই চেইন কেমন কাজ করে?

অ্যাপল বলছে, তাদের “রেসপনসিবল মিনারেল সোর্সিং প্রোগ্রাম” আছে, যা পুরো সাপ্লাই চেইনকে কভার করে। মানে শুধু সরাসরি সাপ্লায়ার না, তাদের সাপ্লায়ারদের সাপ্লায়ারও এই নিয়মের মধ্যে পড়ে।

কোম্পানির দাবি অনুযায়ী—

  • তাদের সাপ্লাই চেইনে থাকা সব স্মেল্টার ও রিফাইনারদের প্রতি বছর স্বাধীন তৃতীয় পক্ষ দিয়ে অডিট করানো বাধ্যতামূলক
  • প্রতিটি সাপ্লায়ারকে “Conflict Minerals Reporting Template” জমা দিতে হয়
  • কোনো কোম্পানি এই নিয়ম না মানলে, অ্যাপল তাদের সাথে কাজ বন্ধ করে দেয়

ভাবো, এটা একটু স্কুলের মতো—যেখানে সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হয়, না হলে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের রিপোর্ট কী বলছে?

অ্যাপলের নতুন রিপোর্টে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে—২০২৫ সালের শেষে তাদের সাপ্লাই চেইনে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা দেখায় যে এই খনিজগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কঙ্গো বা আশেপাশের দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সাহায্য করেছে।

এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তারা কয়েকটা উৎস ব্যবহার করেছে:

  • থার্ড-পার্টি অডিট রিপোর্ট
  • সাপ্লায়ারদের দেওয়া তথ্য
  • স্বাধীন গবেষণা
  • মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (US Geological Survey)
  • স্মেল্টার ও রিফাইনারদের সার্ভে

মানে শুধু নিজের কথায় বিশ্বাস না করে, তারা বাইরে থেকেও ডাটা যাচাই করেছে।

তবুও একটা সীমাবদ্ধতা আছে

এখানে একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার আছে। অ্যাপল নিজেই স্বীকার করেছে যে তারা সবসময় নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না, প্রতিটি নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশে থাকা খনিজ কোন দেশ থেকে এসেছে।

কারণ স্মেল্টাররা সাধারণত সব খনিজ একসাথে প্রসেস করে, আলাদা আলাদা করে না। তাই সোর্স ট্র্যাক করা একটু কঠিন হয়ে যায়।

এটা একটু এমন—তুমি যদি একসাথে অনেক চাল মিশিয়ে ফেলো, পরে বলা কঠিন কোনটা কোন গ্রামের।

আইনি ঝামেলা আর অভিযোগের ইতিহাস

অ্যাপল যতই পরিষ্কার থাকার চেষ্টা করুক, গত কয়েক বছরে তারা বেশ কিছু বড় অভিযোগের মুখে পড়েছে।

২০২৫ সালের মামলা

২০২৫ সালের নভেম্বরে “International Rights Advocates” নামে একটি সংগঠন মামলা করে। তাদের দাবি ছিল, তিনটি চীনা কোম্পানি—Ningxia Orient, JiuJiang JinXin এবং Jiujiang Tanbre—রুয়ান্ডার মাধ্যমে পাচার করা খনিজ প্রসেস করেছে।

আর অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই কোম্পানিগুলো অ্যাপলের সাপ্লাই লিস্টে ছিল।

২০২৪ সালের ইউরোপীয় অভিযোগ

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে অ্যাপলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেখানে বলা হয়, কোম্পানিটি হয়তো এখনো সন্দেহজনক উৎস থেকে খনিজ নিচ্ছে।

প্রতিবাদ আর আন্দোলন

একই বছর সেপ্টেম্বরে, কিছু প্রতিবাদকারী অভিযোগ করে যে উগান্ডা ও রুয়ান্ডা সমর্থিত মিলিশিয়ারা কোলটান খনিজ দখল করে মানুষকে হত্যা, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করছে।

তাদের দাবি ছিল—অ্যাপল এই কোলটান কিনছে।

কঙ্গো সরকারের প্রশ্ন

২০২৪ সালের এপ্রিলে কঙ্গো সরকারও অ্যাপলের সাপ্লায়ার কোড অব কন্ডাক্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা জানতে চায়, এই নিয়মগুলো আদৌ কতটা কার্যকর।

তাহলে আসল সত্যটা কী?

এখানে বিষয়টা একটু ধূসর। একদিকে অ্যাপল বলছে তারা যতটা সম্ভব পরিষ্কার সাপ্লাই চেইন বজায় রাখছে। তারা নিয়ম করছে, অডিট করছে, আর সন্দেহজনক সাপ্লায়ার বাদ দিচ্ছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন সংগঠন আর সরকার বলছে—এখনো ঝুঁকি আছে, আর পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না।

মানে এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে দুই পাশেই যুক্তি আছে।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

এই ইস্যুটা এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে আরও তদন্ত, অভিযোগ বা নতুন তথ্য আসতে পারে।

কারণ এখন মানুষ শুধু ভালো ফোন চায় না—চায় সেটা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, সেটাও জানতে।

অ্যাপলের জন্য চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে—শুধু ভালো পণ্য বানানো না, সেই পণ্য তৈরির গল্পটাও যেন পরিষ্কার আর বিশ্বাসযোগ্য হয়।

শেষ কথা

সব মিলিয়ে বলা যায়, অ্যাপল নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে—তারা মনে করে তাদের পণ্যে কনফ্লিক্ট মিনারেল নেই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন এত জটিল যে পুরোপুরি নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন।

তাই এই বিতর্কটা এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও নতুন তথ্য, নতুন প্রশ্ন—সবই আসতে পারে।

আর আমরা যারা ব্যবহারকারী, তাদের জন্য এটা একটা ভালো সময়—কারণ এখন আমরা শুধু ফোন না, তার পেছনের গল্পটাও জানতে পারছি।