খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালফাইনাল শেষে রণক্ষেত্র! পারেদেসের ঘুষি, লাল কার্ড ও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত

ফাইনাল শেষে রণক্ষেত্র! পারেদেসের ঘুষি, লাল কার্ড ও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পেরেদেস গাভিকে ধাক্কা দেন, মাটিতে ফেলে দেন এবং একাধিকবার ঘুষি মারার চেষ্টা করেন। মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের আরও কয়েকজন ফুটবলার সেখানে জড়ো হলে পুরো মাঠে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্বকাপের ফাইনাল সাধারণত ফুটবল ইতিহাসে গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে। কিন্তু এবারের ফাইনাল ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই আনন্দের বদলে দেখা গেল উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি এবং মারামারির এক অস্বস্তিকর দৃশ্য। স্পেনের কাছে হেরে হতাশ আর্জেন্টিনা দলের একাধিক ফুটবলার নিজেদের সংযম হারিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাঠের পরিবেশ উৎসব থেকে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পুরো ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে স্পেন ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি গোছানো এবং কার্যকর। আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে ব্যর্থ হয়। আক্রমণে ধার ছিল না, মাঝমাঠে ছিল সমন্বয়ের অভাব এবং রক্ষণেও দেখা যায় একাধিক ভুল। শেষ পর্যন্ত স্পেন শিরোপা নিশ্চিত করলে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের হতাশা চরমে পৌঁছে যায়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই হতাশা রূপ নেয় উত্তেজনায়, যা পরে বড় ধরনের সংঘর্ষে পরিণত হয়।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই স্পেনের ফুটবলাররা শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রথমে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে স্পেনের উদযাপনে মাঠে প্রবেশ করা এক বদলি খেলোয়াড়ের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পেরেদেস স্পেনের তরুণ তারকা গাভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন :  বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন অভিযোগ, শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তায় নারী-শিশুসহ ১০-১৩ জন

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পেরেদেস গাভিকে ধাক্কা দেন, মাটিতে ফেলে দেন এবং একাধিকবার ঘুষি মারার চেষ্টা করেন। মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের আরও কয়েকজন ফুটবলার সেখানে জড়ো হলে পুরো মাঠে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন ম্যাচ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। সংঘর্ষের ভিডিও এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি লিয়ান্দ্রো পেরেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও লাল কার্ড দেখানোর এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয় যে, মাঠে অসংযত আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ম্যাচ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ম্যাচ চলাকালেই আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবার্সির ওপর বেপরোয়া ট্যাকলের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা দশজন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়।

ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ও জনপ্রিয় ফুটবল বিশ্লেষক অ্যালান শিয়ারার ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় আর্জেন্টিনার আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

তার মতে, পেরেদেস প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের মুখের দিকে একাধিক ঘুষি ছুড়ে মারার চেষ্টা করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শিয়ারার বলেন, বড় ফাইনালে হার যে কতটা কষ্টের তা সবাই বোঝে। কিন্তু পরাজয় মেনে নেওয়ারও একটি মর্যাদাপূর্ণ উপায় রয়েছে। তার ভাষায়, খেলোয়াড়দের আচরণ পুরো ফাইনালের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে এবং এমন দৃশ্য ফুটবলের জন্য ভালো বার্তা দেয় না।

আরও পড়ুন :  কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সুখবর! ন্যায্য মূল্যে কেনাকাটার আশ্বাস ব্যবসায়ীদের

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষের ভিডিও। ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনেকেই মন্তব্য করেন, পেরেদেসের আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

কেউ লেখেন, এমন আচরণ বিশ্বকাপ ফাইনালের মর্যাদার সঙ্গে যায় না। আবার অনেকে বলেন, পরাজয় মেনে নিতে না পারা একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য বড় ব্যর্থতা।

আরও অনেক সমর্থক মনে করেন, মাঠে প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখানোই ক্রীড়াসুলভ আচরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা এই ঘটনায় অনুপস্থিত ছিল।

শুধু ফুটবলাররাই নন, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে স্পেনের ডিফেন্ডার ও সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবলার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে কোচদের এমন আচরণও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বকাপ ফাইনাল এমন একটি মঞ্চ, যেখানে কোটি কোটি দর্শক শুধু ফলাফল নয়, খেলোয়াড়দের আচরণও পর্যবেক্ষণ করেন। তাই ম্যাচ-পরবর্তী এই সংঘর্ষ ফুটবলের ইতিবাচক বার্তাকে অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু! শাকিরার ঝলক, মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল সূচনা

স্পেনের ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দের পাশাপাশি আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের আচরণ। বিশেষ করে পেরেদেসের লাল কার্ড এবং মাঠের সংঘর্ষ বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সাধারণত ম্যাচ-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। ভিডিও ফুটেজ, রেফারির প্রতিবেদন এবং ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্ট পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়া হতে পারে।

যদি তদন্তে শারীরিক আক্রমণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে লিয়ান্দ্রো পেরেদেসসহ সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের কয়েক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কিংবা আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

বিশ্বকাপ ফাইনাল সবসময়ই আবেগের লড়াই। জয় যেমন উচ্ছ্বাস এনে দেয়, তেমনি পরাজয় সৃষ্টি করে গভীর হতাশা। তবে সেই হতাশা কখনোই সহিংস আচরণের অজুহাত হতে পারে না। স্পেনের শিরোপা জয়ের আনন্দের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড়ের অসংযত আচরণ এবারের ফাইনালকে বিতর্কিত করে তুলেছে। এখন সবার নজর ফিফার সিদ্ধান্তের দিকে—এই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।