খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে ফকল্যান্ডস বিতর্ক

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথে আবারও জয়ী হলো আর্জেন্টিনা। উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলমেক্সিকো বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান: শাকিরার ঝলক, উত্তেজনায় মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ

মেক্সিকো বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান: শাকিরার ঝলক, উত্তেজনায় মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরেকটি আলোচিত মুহূর্ত ছিল জে বালভিনের প্রবেশ। তার এন্ট্রিটা একটু অদ্ভুতই বলা যায়। দুইটা খরগোশের মতো মাসকট আর অদ্ভুত শব্দ—পুরো ব্যাপারটা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর লেগেছে।

বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফুটবল নয়, এর সাথে থাকে আবেগ, সংস্কৃতি আর দারুণ সব আয়োজন। আর এবারের মেক্সিকো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যেন সেই প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। রঙ, সুর, আলো আর দর্শকদের উন্মাদনায় ভরে উঠেছিল পুরো স্টেডিয়াম। তার ওপর ছিল শাকিরার অসাধারণ পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে এক কথায় চোখ ধাঁধানো শুরু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরার ম্যাজিক

স্টেডিয়ামে যখন শাকিরা মঞ্চে উঠলেন, তখন পুরো পরিবেশটাই বদলে গেল। তিনি হলুদ পোশাকে হাজির হন, যা তার নিজের দেশ কলম্বিয়ার প্রতীক। তার কণ্ঠে গাওয়া গান আর পারফরম্যান্স দর্শকদের একদম মুগ্ধ করে দেয়।

তার সাথে যোগ দেন বার্না বয়, ফলে মঞ্চ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। যদিও অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, পারফরম্যান্সটি পুরোপুরি লাইভ ছিল না—লিপসিঙ্কিং বেশ স্পষ্ট ছিল। তবুও শাকিরার উপস্থিতি আর এনার্জি সেই বিষয়টাকে খুব একটা গুরুত্ব পেতে দেয়নি।

জে বালভিনের অদ্ভুত এন্ট্রি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরেকটি আলোচিত মুহূর্ত ছিল জে বালভিনের প্রবেশ। তার এন্ট্রিটা একটু অদ্ভুতই বলা যায়। দুইটা খরগোশের মতো মাসকট আর অদ্ভুত শব্দ—পুরো ব্যাপারটা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর লেগেছে।

তার পারফরম্যান্সও খুব একটা মন জেতেনি। তবে একটা বিষয় ঠিক—তিনি অন্তত লাইভ গেয়েছেন, যা অনেকেই প্রশংসা করেছেন।

মেক্সিকান ব্যান্ড ‘মানা’ মাতালো দর্শকদের

উদ্বোধনের শুরুতেই মেক্সিকোর জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মানা’ মঞ্চে উঠে পারফর্ম করে। আর অবাক করার মতো বিষয় হলো—প্রায় পুরো স্টেডিয়াম তাদের সাথে গাইছিল।

ভাবো, হাজার হাজার মানুষ একসাথে গান গাইছে—একটা অন্যরকম আবেগ তৈরি হয়। এমন মুহূর্ত সত্যিই ভোলার মতো নয়।

স্টেডিয়ামের পরিবেশ: শব্দ আর উন্মাদনার ঝড়

ম্যাচ শুরুর তিন ঘণ্টা আগেই দর্শকদের ঢুকতে দেওয়া হয়। আর তখন থেকেই শুরু হয় চিৎকার, গান আর স্লোগান।

সময় যত গড়িয়েছে, ততই সেই আওয়াজ বেড়েছে। এমনকি আতশবাজির শব্দও দর্শকদের চিৎকার ঢাকতে পারেনি। পুরো স্টেডিয়াম যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।

তবে একটি বিষয় চোখে পড়ার মতো—দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থক খুব বেশি দেখা যায়নি।

আতশবাজিতে রঙিন সমাপ্তি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষটা ছিল একদম সিনেমার মতো। স্টেডিয়ামের উপরের অংশজুড়ে বিভিন্ন দলের রঙে আতশবাজি ফোটানো হয়।

এই দৃশ্যটা যেন পুরো আয়োজনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। শব্দ, আলো আর রঙের মিশেলে তৈরি হয় এক দারুণ মুহূর্ত।

ম্যাচের আগে দল ঘোষণা: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উত্তেজনার মাঝেই আসে ম্যাচের টিম নিউজ।

মেক্সিকোর আক্রমণে থাকছেন রাউল হিমেনেজ। তিনি সম্প্রতি উলভারহ্যাম্পটনে ফিরে গেছেন, যারা এখন চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছে। আজকের ম্যাচে তার পারফরম্যান্সই অনেকটা নির্ধারণ করতে পারে মেক্সিকোর ভাগ্য।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান ভরসা লাইল ফস্টার। বার্নলির এই স্ট্রাইকারই আজ তাদের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা: অবমূল্যায়ন করা ঠিক হবে না

অনেকেই মনে করছেন দক্ষিণ আফ্রিকা খুব শক্তিশালী দল নয়। কিন্তু ফুটবল এমন একটা খেলা, যেখানে যেকোনো কিছুই হতে পারে।

স্ট্যাটিসটিকস হয়তো মেক্সিকোর পক্ষে, কিন্তু মাঠের খেলায় সব হিসাব বদলে যেতে সময় লাগে না। দক্ষিণ আফ্রিকা হয়তো চমক দেখাতেই পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেরিতে শুরু: দর্শকদের অপেক্ষা

একটা মজার বিষয় হলো—অনুষ্ঠানটা একটু দেরিতে শুরু হয়েছে। আগের বছর ক্লাব বিশ্বকাপেও এমনটা দেখা গিয়েছিল।

দর্শকরা অপেক্ষা করছিল, আর উত্তেজনা ধীরে ধীরে বাড়ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান শুরু হলে সেই অপেক্ষাটা সার্থকই মনে হয়েছে।

দর্শকদের অনুভূতি: শুধু ফুটবলের অপেক্ষা

সবকিছু মিলিয়ে অনুষ্ঠান যতই জমজমাট হোক, শেষ পর্যন্ত সবাই চায় একটা জিনিস—ফুটবল।

অনেকেই বলছিল, “ঠিক আছে, এখন খেলা শুরু হোক!” কারণ এই পুরো আয়োজনের আসল আকর্ষণ তো মাঠের খেলাই।

শেষ কথা: এক স্মরণীয় সূচনা

মেক্সিকো বিশ্বকাপের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শাকিরার পারফরম্যান্স, দর্শকদের উন্মাদনা, আর দারুণ আয়োজন—সব মিলিয়ে এক অসাধারণ শুরু।

এখন সবার চোখ মাঠে—মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে কে জিতবে, সেটাই দেখার বিষয়।

ফুটবল শুরু হোক, উত্তেজনা চলুক!