খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলবিশ্বকাপ জিততে পারবে ব্রাজিল? ১-১ ম্যাচে উঠে এলো কঠিন সত্য!

বিশ্বকাপ জিততে পারবে ব্রাজিল? ১-১ ম্যাচে উঠে এলো কঠিন সত্য!

২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলটা আসলে খুব অবাক করার মতো ছিল না। কারণ তার আগেই মরক্কো কয়েকবার বিপজ্জনক আক্রমণ করেছে। ওই সময় ব্রাজিলের ডিফেন্স আর মিডফিল্ড পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন দেখাচ্ছিল।

ব্রাজিল মানেই ফুটবলের রাজা—এই ধারণাটা এখনো সবার মাথায় গেঁথে আছে। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন কথা বলছে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র সেই সত্যিটাকেই সামনে এনে দিয়েছে। ম্যাচটা দেখে মনে হয়েছে, এই দলটা এখনো পুরোপুরি তৈরি না। বরং অনেকটা একপেশে, কিছুটা অগোছালো, আর সবচেয়ে বড় কথা—একজন খেলোয়াড়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল।

এই ম্যাচে যদি কেউ ব্রাজিলকে বাঁচিয়ে থাকে, সে একজনই—ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

খেলা শুরু হতেই বোঝা যাচ্ছিল, কিছু একটা ঠিক নেই। মরক্কো খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলছিল, আর ব্রাজিল যেন একটু ভয় নিয়ে। প্রথম ২০-২৫ মিনিটে মরক্কো এমনভাবে আক্রমণ করছিল, যেন তারা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করছে।

২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলটা আসলে খুব অবাক করার মতো ছিল না। কারণ তার আগেই মরক্কো কয়েকবার বিপজ্জনক আক্রমণ করেছে। ওই সময় ব্রাজিলের ডিফেন্স আর মিডফিল্ড পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন দেখাচ্ছিল।

ভাবো, একটা দল যদি শুরুতেই নিজের অর্ধে চাপে পড়ে যায়, তাহলে তাদের আত্মবিশ্বাস কোথায় থাকে?

ঠিক যখন মনে হচ্ছিল ব্রাজিল হয়তো ভেঙে পড়বে, তখনই দৃশ্যপটে আসে ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ৩২ মিনিটে তার গোলটা শুধু সমতা ফেরায়নি, পুরো ম্যাচের মুড বদলে দিয়েছে।

বাম দিক থেকে বল নিয়ে ঢুকে, ডিফেন্ডার কাটিয়ে, দূরের কোণায় জোরালো শট—এক কথায় অসাধারণ। এটা শুধু একটা গোল না, এটা ছিল আত্মবিশ্বাস ফেরানোর মুহূর্ত।

এই ধরনের গোল আমরা সাধারণত বড় তারকাদের কাছ থেকেই আশা করি। আর ভিনি সেই দায়িত্বটা নিয়েছেন দারুণভাবে।

কার্লো আনচেলোত্তি বিশ্বমানের কোচ—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ম্যাচে তার কিছু সিদ্ধান্ত প্রশ্ন তুলেছে।

মাঝমাঠে ৩৪ বছর বয়সী ক্যাসিমিরো আর ব্রুনো গুইমারেসকে একসাথে খেলানোটা অনেকটা ঝুঁকির মতো ছিল। গরম আবহাওয়া, দ্রুত গতির ম্যাচ—এই পরিস্থিতিতে তাদের গতি আর সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

ফলাফল? মাঝমাঠে ব্রাজিল বারবার হার মানছিল।

প্রথমার্ধে তাদের এমনভাবে দৌড়াতে হয়েছে, যা একেবারে অস্বস্তিকর দেখাচ্ছিল। এটা দেখে মনে হচ্ছিল, দলটা ঠিকভাবে প্রস্তুত না।

এই ব্রাজিল দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ভারসাম্যের অভাব। সামনে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়—ভিনিসিয়াস, আক্রমণভাগের শক্তি, নতুন মুখ—সবই আছে।

কিন্তু মাঝমাঠ আর ডিফেন্সে সেই শক্ত ভিত্তি নেই।

একটা উদাহরণ দিই। ধরো একটা বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো, কিন্তু ভিত মজবুত না। বাইরে থেকে ভালো লাগবে, কিন্তু ঝড় এলে টিকবে না। ব্রাজিলের অবস্থাও এখন অনেকটা সেরকম।

ডিফেন্সে ভুল, গোলকিপারের অনিশ্চয়তা, আর সবচেয়ে বড় কথা—দলের মধ্যে ঐক্যের অভাব। সবাই যেন নিজের মতো খেলছে, একসাথে না।

অনেকে ভাবতে পারে, মরক্কোর সাথে ড্র মানে খারাপ ফল। কিন্তু বাস্তবে মরক্কো এখন খুব শক্তিশালী দল।

২০২২ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল খেলেছে—এটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার না। এই ম্যাচেও তারা দেখিয়েছে, তারা সংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী, আর সুযোগ কাজে লাগাতে জানে।

তারা শুধু ডিফেন্স করেনি, বরং আক্রমণেও ধার দেখিয়েছে। প্রথমার্ধে চাইলে তারা আরও গোল করতে পারত।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ব্রাজিল এখনো ভিনিসিয়াসের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করছে।

একজন খেলোয়াড় যতই ভালো হোক, একা একটা দলকে টানা সম্ভব না। তাকে সাহায্য করার জন্য আরও ১০ জন দরকার।

যদি বাকিরা ঠিকমতো পারফর্ম না করে, তাহলে বড় ম্যাচে সমস্যা হবেই।

ম্যাচ শেষে আনচেলোত্তি নিজেই স্বীকার করেছেন, দলটা প্রথমার্ধে ভালো খেলেনি। তিনি বলেছেন, দলটা কিছুটা নার্ভাস ছিল।

তিনি এটাও বলেছেন, উন্নতি হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—কত দ্রুত?

কারণ বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে সময় খুব কম। এখানে ভুল করার সুযোগও কম।

আনচেলোত্তি অনেকদিন ধরে ৪-২-৪ ফর্মেশন ব্যবহার করছেন। কিন্তু এই ম্যাচে দেখা গেছে, এতে বড় ফাঁক রয়ে যাচ্ছে।

মাঝমাঠে সংখ্যা কম থাকায় প্রতিপক্ষ সহজেই জায়গা পাচ্ছে। ফলে ডিফেন্সের ওপর চাপ বাড়ছে।

এই ফর্মেশনটা আক্রমণের জন্য ভালো, কিন্তু ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ইগর থিয়াগোকে দলে নেওয়া ছিল বড় সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই ম্যাচে তিনি সেই আস্থা ফিরিয়ে দিতে পারেননি।

সহজ হেড মিস, বল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা—সব মিলিয়ে তার পারফরম্যান্স খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য ছিল না।

তবে এটা তার মাত্র পঞ্চম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তাই তাকে সময় দেওয়া দরকার।

একটা মজার ব্যাপার—ড্রিঙ্কস ব্রেক এই ম্যাচে বড় ভূমিকা রেখেছে।

যখন খেলা থামানো হয়, তখন ব্রাজিল এক গোলে পিছিয়ে ছিল। ওই ছোট বিরতিতে কোচের নির্দেশনা আর একটু বিশ্রাম—এই দুটোই দলকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

তারপরই আসে ভিনিসিয়াসের গোল।

এই ড্র খারাপ না, কিন্তু সতর্কবার্তা অবশ্যই। যদি ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে চায়, তাহলে কয়েকটা জিনিস ঠিক করতেই হবে—

প্রথমত, দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মাঝমাঠে শক্তি বাড়াতে হবে।
তৃতীয়ত, শুধু একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

সহজভাবে বললে, শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হবে না—জিততে হলে লড়াইও করতে হবে।

এই ব্রাজিল দলের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু প্রতিভা আর সাফল্যের মধ্যে একটা বড় ফারাক আছে—যেটা পূরণ করতে লাগে দলগত মানসিকতা, শৃঙ্খলা আর ভারসাম্য।

ভিনিসিয়াস জুনিয়র হয়তো ম্যাচ বাঁচাতে পারেন, কিন্তু বিশ্বকাপ জেতাতে হলে পুরো দলকে একসাথে জ্বলে উঠতে হবে।

না হলে, এই ড্রটাই ভবিষ্যতের বড় বিপদের ইঙ্গিত হয়ে থাকবে।