খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ভারতের ভুখন্ডে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে না পারেন, সহযোগীতার প্রত্যাশা বাংলাদেশের

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়ভারতের ভুখন্ডে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে না পারেন, সহযোগীতার প্রত্যাশা বাংলাদেশের

ভারতের ভুখন্ডে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে না পারেন, সহযোগীতার প্রত্যাশা বাংলাদেশের

বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় বিবেচনায় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতে নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারণায় দাবি করা হয়, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আগামী ৫ আগস্ট একটি প্রকাশ্য বক্তব্য দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের নজরে আসে এবং কূটনৈতিক আলোচনায় স্থান পায়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যদি ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়া হয় কিংবা এমন কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন :  রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শেষ জল্পনা, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সংবিধান কী বলছে?

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারতের হাইকমিশনারের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ জানান।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ আশা করে ভারত এমন কোনো কার্যক্রমের সুযোগ দেবে না, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা বা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রম যদি ভারতের মাটি থেকে পরিচালিত হয়, তাহলে তা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সম্মান প্রদর্শনের নীতি অনুসরণ করে। একইভাবে ভারত থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি জানান, বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি এ ধরনের বিষয় যাতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে দিকেও নজর রাখা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন :  এআই, ড্রোন ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কৃষিতে নতুন যুগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

যদিও বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে শুধু শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যের বিষয়ই নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করেন যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, সমতা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা বিশ্বাস করেন, নিয়মিত সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল বিষয় সমাধান করা সম্ভব।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের দৃষ্টিতে বিদেশের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে।

এ কারণেই বাংলাদেশ বিষয়টিকে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও পড়ুন :  রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: গুরুতর অসুস্থতার কারণেই দায়িত্ব ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে একে অপরের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়গুলোকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। এ ধরনের কূটনৈতিক বার্তা সেই নীতিরই প্রতিফলন।

বৈঠকে উভয় পক্ষই একমত হন যে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বা সংবেদনশীল ইস্যু সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা।

বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ, সীমান্ত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ বিনিময় এবং আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন বা সাময়িক মতপার্থক্য থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও উন্নত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়া উভয় দেশই নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ, গঠনমূলক সম্পৃক্ততা এবং অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল বিষয় সমাধানের সুযোগ তৈরি হয় এবং এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। তথ্য সূত্র:বিবিসি বাংলা