খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ছাত্রীকে অশালীন মেসেজ: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চাকরিচ্যুত

ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে...
Homeআইন ও অপরাধসরকারি স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার! বদলাচ্ছে কৌশল,বাড়ছে উদ্বেগ

সরকারি স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার! বদলাচ্ছে কৌশল,বাড়ছে উদ্বেগ

রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার কিংবা অভিজাত আবাসিক এলাকার পরিচয় ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহনের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার এবং একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হলেও তদন্তকারীদের মতে, এসব ঘটনার নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং মাদকবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও এই অবৈধ ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাচারকারীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। আগে যেখানে নৌপথ কিংবা সীমান্তের দুর্গম এলাকা বেশি ব্যবহার করা হতো, বর্তমানে সড়কপথে বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি, ভুয়া সরকারি পরিচয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জই তৈরি হচ্ছে না, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

সম্প্রতি কক্সবাজার জেলায় একের পর এক অভিযানে এমন কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার কিংবা অভিজাত আবাসিক এলাকার পরিচয় ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহনের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার এবং একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হলেও তদন্তকারীদের মতে, এসব ঘটনার নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।

গত ১৫ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) একটি অভিযানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকার থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুই নারীসহ তিন সদস্যের একটি চক্রকে আটক করা হয়। অভিযানে ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি পর্যটকের ছদ্মবেশে চলাচল করছিল এবং সরকারি স্টিকার ব্যবহার করে বিভিন্ন চেকপোস্ট সহজেই অতিক্রম করার পরিকল্পনা করেছিল।

এর কিছুদিন পর, ২৭ জুলাই টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে আরও একটি বড় চালান আটক করা হয়। বিজিবির সদস্যরা একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকার তল্লাশি চালিয়ে এক লাখ ছয় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম খোকনকে গ্রেফতার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এটি অন্যতম বড় ইয়াবা জব্দের ঘটনা।

শুধু এই দুটি ঘটনাই নয়, জুলাই মাসজুড়ে কক্সবাজার, রামু ও উখিয়ায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে লক্ষাধিক ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এসব ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িগুলোর অধিকাংশেই ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টিকার কিংবা এমনভাবে তৈরি গোপন চেম্বার, যা সাধারণ তল্লাশিতে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

আরও পড়ুন :  মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: কৃষক ও খামারিদের জন্য বড় সংকেত?

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর মডেল থানা পুলিশ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগানো একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিটের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে গাড়িটি আটক করা হয়। এ ঘটনায় সাবেক সেনাসদস্য ওবায়দুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। যদিও তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তদন্তকারীরা পুরো ঘটনার সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন।

এর একদিন আগে উখিয়ার শীলখালী এলাকায় ৬৪ বিজিবির চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামগামী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ইঞ্জিনের পাশে বিশেষভাবে তৈরি গোপন কুঠুরি থেকে ১০ হাজার ৬৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা মো. ফরিদকে গ্রেফতার করা হয়। বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় রামু থানা পুলিশের চেকপোস্টে নম্বরবিহীন একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্যাস সিলিন্ডারটি বিশেষভাবে পরিবর্তন করে সেটিকে মাদক বহনের গোপন চেম্বারে পরিণত করা হয়েছিল। বাইরে থেকে দেখে সেটি সাধারণ সিএনজি গ্যাস সিলিন্ডারের মতোই মনে হচ্ছিল, ফলে সাধারণ তল্লাশিতে এটি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ইয়াবা পাচারকারীরা এখন আর একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে না। প্রতিনিয়ত তারা নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে। কখনও গাড়ির সিটের নিচে, কখনও এসি প্যানেলের ভেতরে, কখনও ইঞ্জিনের ফাঁকা অংশে, আবার কখনও গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা গাড়ির বডির ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারে ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। এসব কৌশল এতটাই আধুনিক যে অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ স্ক্যানিং প্রযুক্তি ছাড়া মাদক শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

আরও পড়ুন :  এমবাপে ও জাভির একসুর! কেন এখনও বিশ্বের সেরা লিওনেল মেসি?

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শুধু সরকারি স্টিকার নয়, অনেক সময় সেনাবাহিনী, আইনজীবী, বিচারক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের ‘প্রেস’ স্টিকারও ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। অতীতেও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বিচারক এবং বিভিন্ন মূলধারার সংবাদমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে হ্যারিয়ার, প্রাডো, নোয়া ও অন্যান্য দামি গাড়িতে ইয়াবার বড় বড় চালান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ সাধারণ মানুষ কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে সরকারি বা সামরিক প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহনকারী যানবাহন স্বাভাবিকভাবেই কম সন্দেহের উদ্রেক করে। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে মাদক সিন্ডিকেট। বর্তমানে সাধারণ কম্পিউটার বা প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে অল্প খরচেই সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টিকার বা লোগোর হুবহু নকল তৈরি করা সম্ভব। অন্যদিকে, চেকপোস্টগুলোতে এমন কোনো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ নেই, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে কোনো ব্যক্তি বা গাড়ি প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কি না। ফলে অপরাধীরা এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্যমতে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বর্তমানে ইয়াবা পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবা প্রথমে কক্সবাজার শহরে এনে বিভিন্ন ব্যক্তিগত গাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে নারী, শিশু কিংবা পর্যটকের ছদ্মবেশও ব্যবহার করা হয়, যাতে চেকপোস্টে সন্দেহের মাত্রা কম থাকে।

এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যৌথভাবে নজরদারি জোরদার করেছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টগুলোতে এখন বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা সরকারি স্টিকারযুক্ত যানবাহন হলেও প্রয়োজন মনে করলে তল্লাশি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বাহক বা চালককে গ্রেফতার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং এই চক্রের অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং সীমান্ত থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে একাধিক ঘটনার তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে।

আরও পড়ুন :  বিদ্যুতের দাম আবার বৃদ্ধি: গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে নতুন মূল্যহার ঘোষণা

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এসব ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র রয়েছে কিনা, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ সরকারি পরিচয় বা প্রতীক ব্যবহার করে অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পরিবহন একটি নতুন এবং উদ্বেগজনক প্রবণতা। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব চক্র শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং চেকপোস্টে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আগের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে।

উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিলাসবহুল গাড়ির মাধ্যমে ইয়াবা পাচারের ঘটনা বেড়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পাচারকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ রোধে বিজিবির অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়াবা পাচারের ধরন বদলে যাওয়ায় শুধু প্রচলিত তল্লাশি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রয়োজন আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি, আন্তঃসংস্থার সমন্বিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ভুয়া সরকারি স্টিকার ও পরিচয় শনাক্তে ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা এবং সীমান্ত থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত সমন্বিত নজরদারি। একই সঙ্গে মাদক সিন্ডিকেটের অর্থের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক ইয়াবার চালান জব্দ হলেও বাস্তবতা হলো, পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে। ফলে শুধু অভিযান নয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণই ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।