খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার

৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার

প্রজ্ঞাপনে কোথাও নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং জনস্বার্থে তাঁদের অবসর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আইনগত যে ক্ষমতা সরকারের রয়েছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কারণ, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা সবাই একসময় মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং দেশের বহুল আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তথ্য সূত্র” ইত্তেফাক

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরে পাঠানো এসব কর্মকর্তা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে জনস্বার্থ বিবেচনায় ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করার পর সরকার প্রয়োজন মনে করলে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাঁকে অবসরে পাঠাতে পারে। এই বিধান দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরির কাঠামোর অংশ হিসেবে কার্যকর রয়েছে। যদিও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তবে আইনগতভাবে সরকার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য সব ধরনের অবসর সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হবেন না। এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও তাঁদের চাকরিজীবনের আর্থিক অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের অধিকাংশই গত কয়েক মাস ধরে ওএসডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রশাসনে ওএসডি পদে সংযুক্ত থাকা মানে কোনো নির্দিষ্ট দপ্তর বা মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বে না থেকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে অবস্থান করা। বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, বদলি অথবা বিশেষ পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের ওএসডি করা হয়ে থাকে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাঁদের অতীত দায়িত্ব। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁরা দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন। ফলে নির্বাচন পরিচালনা, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রশাসনিক তদারকি এবং ফলাফল ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁদের ওপরই ন্যস্ত ছিল।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ তোলে। ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের ভূমিকা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও তৎকালীন সরকার নির্বাচনকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিল এবং নির্বাচন কমিশনও ভোটগ্রহণকে সফল বলে দাবি করেছিল।

তবে সরকারের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে কোথাও নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং জনস্বার্থে তাঁদের অবসর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আইনগত যে ক্ষমতা সরকারের রয়েছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এই ধারার আওতায় সরকার কোনো কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠাতে চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। আবার অবসরে পাঠানোর আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ারও বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বাধ্যতামূলক অবসরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁর চাকরিজীবনের আর্থিক সুবিধা ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাকে একই আইনের আওতায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর নজির রয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পুনর্বিন্যাস, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠ প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভূমি প্রশাসন এবং জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাঁদের নিয়োগ, বদলি কিংবা অবসর—প্রতিটি সিদ্ধান্তই প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাঁদের মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অতীতে যেসব বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটে ওই সময় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসর স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় নির্বাচন বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ নেই, তবুও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরির আনুষ্ঠানিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। তবে তাঁরা সরকারি বিধি অনুযায়ী অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বলে জানা গেছে।