Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeভাইরাল নিউজপ্রণীত মোরের শোতে নতুন বিতর্ক! চিকিৎসকের কৌতুক ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে নেটদুনিয়া

প্রণীত মোরের শোতে নতুন বিতর্ক! চিকিৎসকের কৌতুক ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে নেটদুনিয়া

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মৃতদেহের প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হয় বলে মত দিয়েছেন সমালোচকরা।

ভারতের স্ট্যান্ড-আপ কমেডি জগতকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্ক সামনে এসেছে। জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল, তা থামার আগেই নতুন একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এবার সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সেজল পওয়ার নামের এক তরুণী চিকিৎসক, যিনি দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রণীতের একটি অনুষ্ঠানে।

প্রণীত মোরের অনুষ্ঠানকে ঘিরে কেন বারবার বিতর্ক?

স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শিল্পে সাহসী ও ব্যতিক্রমী কনটেন্টের জন্য পরিচিত প্রণীত মোরে সম্প্রতি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এর আগে তাঁর একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক তরুণ দর্শকের মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

২৩ বছর বয়সী হিমাংশু জাংরা নামের ওই তরুণ দাবি করেছিলেন যে, তিনি এক তরুণীর সঙ্গে ডেটে গিয়ে ৩৭০ টাকার চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ানোর বিনিময়ে যৌন সুবিধা প্রত্যাশা করেছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন দেওয়া এই মন্তব্যের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক নিন্দার ঝড় ওঠে।

ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখনই একই অনুষ্ঠানের আরেকটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

চিকিৎসকের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা

নতুন বিতর্কের সূত্রপাত সেজল পওয়ারের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি মুম্বইয়ের কেইএম হাসপাতালে কর্মরত একজন চিকিৎসক।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সেজল জানান যে, তিনি এবং তাঁর এক নারী সহকর্মী হাসপাতালে থাকা পুরুষ মৃতদেহগুলোর গোপনাঙ্গের আকার নিয়ে মাঝে মাঝেই আলোচনা করেন। মঞ্চে দেওয়া এই মন্তব্যকে অনেকেই অত্যন্ত অসংবেদনশীল এবং পেশাগত নীতিবিরোধী বলে মনে করছেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মৃতদেহের প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হয় বলে মত দিয়েছেন সমালোচকরা।

মৃতদেহের প্রতি সম্মান দেখানোর দাবি

ঘটনাটি সামনে আসার পর বহু চিকিৎসক, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

একজন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, চিকিৎসা শিক্ষার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় মানবদেহ, বিশেষ করে দান করা মৃতদেহের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করতে। তাঁর মতে, মৃতদেহ নিয়ে উপহাস করা চিকিৎসা নীতির পরিপন্থী।

আরেকজন মন্তব্য করেন, জীবনে কিছু বিষয় রয়েছে যা কখনওই ঠাট্টা বা উপহাসের বিষয় হওয়া উচিত নয়। মৃতদেহ তার অন্যতম। কারণ মৃত্যুর পরও একজন মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সমাজ ও পেশাগত দায়িত্বের অংশ।

এই মন্তব্যগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দেয়।

বিতর্কের মুখে সেজলের পদক্ষেপ

তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সেজল পওয়ার তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত বা ‘প্রাইভেট’ করে দেন। পাশাপাশি তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন বলে জানা গেছে।

তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। অনেকেই মনে করছেন, জনসমক্ষে করা এমন মন্তব্য চিকিৎসা পেশার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে, কিছু মানুষ আবার মত দিয়েছেন যে, ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়াটা ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং বিষয়টিকে শিক্ষা হিসেবে নেওয়া উচিত।

‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ মন্তব্যের জের

সেজলের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার আগে হিমাংশু জাংরার মন্তব্য নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যকে নারীদের প্রতি অসম্মানজনক এবং আপত্তিকর বলে অভিহিত করেছিলেন বহু মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবল প্রতিক্রিয়ার পর প্রণীত মোরেও চাপে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেন বলে জানা যায়।

চাকরি হারালেন হিমাংশু

বিতর্কিত মন্তব্যের পরিণতি শুধু সামাজিক সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। হিমাংশু জাংরা যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, সেই গুরুগ্রামভিত্তিক ডিজাইন সংস্থা ‘স্টারভিক ডিজাইন’-এর পক্ষ থেকেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা বিবেক বিশ্বকর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে, বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে হিমাংশুকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি আরও বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন

এই দুই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে জনসমক্ষে দেওয়া মন্তব্য, পেশাগত নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে। অনেকেই মনে করছেন, বিনোদনের নামে কিংবা হাস্যরসের পরিবেশে বলা কথা হলেও তার সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।

বিশেষ করে চিকিৎসক, শিক্ষক বা অন্য যেকোনো পেশাজীবীর ক্ষেত্রে জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য মানুষের আস্থা ও পেশার মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে এমন মন্তব্য সহজেই বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

প্রণীত মোরের অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাম্প্রতিক দুই বিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ মন্তব্য, অন্যদিকে মৃতদেহ নিয়ে চিকিৎসকের কৌতুক— উভয় ঘটনাই মানুষের সংবেদনশীলতা, পেশাগত নৈতিকতা এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ব্যক্তিগত ও পেশাগত পর্যায়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।