টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই এবার দুধ, চিনি ও সয়াবিন তেলেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার (মাইক্রোপ্লাস্টিক) উচ্চমাত্রার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক গবেষণায় উঠে আসা এ তথ্য নতুন করে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কেবল সয়াবিন তেলের মাধ্যমেই বছরে গড়ে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। একজন শিশু বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা খাদ্যের সঙ্গে শরীরে নিচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় প্রতি ১০ মিলিলিটার প্রক্রিয়াজাত দুধে গড়ে ১৫৬ দশমিক ০৬টি এবং কাঁচা দুধে ৯৩ দশমিক ৩৯টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধাপে এ দূষণ ঘটছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে প্রায় ৪০৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। প্লাস্টিকের বস্তা, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে এর প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে সয়াবিন তেলে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের যৌথ গবেষণায় খোলা সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারে প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার এবং বোতলজাত তেলে ৪৪ হাজার থেকে ৫৪ হাজার পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও বস্তা থেকে খাদ্যে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মিশছে। পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ক্ষয়ে যাওয়া এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য ভেঙে পানি, মাটি ও বাতাসের মাধ্যমে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করাও এ দূষণের বড় কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন হলেও ক্ষুদ্র কণাগুলো রক্তে প্রবেশ করে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো পণ্যকে অনিরাপদ বলা যাবে না। গবেষণাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মানদণ্ডে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বিষয়টিকে একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে উল্লেখ করে খাদ্য, পানি ও পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

