Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজঅমিত শাহের নাম টেনে মমতার চাঞ্চল্যকর বক্তব্য! বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক

অমিত শাহের নাম টেনে মমতার চাঞ্চল্যকর বক্তব্য! বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক

ওই ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন মন্ত্রী তাকে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল এবং কারা জড়িত ছিল সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে তিনি কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সংঘটিত একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অনেক তথ্য জানেন এবং সেই ঘটনায় কারা জড়িত ছিল সে সম্পর্কেও অবগত আছেন। তার এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশ্লেষক ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত এক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন বড় অপরাধীকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল, যা বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন মন্ত্রী তাকে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল এবং কারা জড়িত ছিল সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে তিনি কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।

রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশ মনে করছে, মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য সম্ভবত আলোচিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ বাংলাদেশে সংঘটিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল। পরে আরও একজন সন্দেহভাজনকে নদীয়া জেলার শান্তিপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়।

এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও ফয়সাল করিম মাসুদকে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

যদিও মমতা ব্যানার্জী তার বক্তব্যে সরাসরি ওসমান হাদির নাম উচ্চারণ করেননি, তবুও ঘটনাপ্রবাহ ও সময়কাল বিবেচনায় অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার বক্তব্যের মিল খুঁজে পাচ্ছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন।

তিনি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে একটি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং নানা ইস্যুতে সরব ভূমিকা পালন করতেন। ফলে তার হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংযত অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Shama Obaed সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, মমতা ব্যানার্জী মূলত তার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও জানান, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে এবং এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না এলেও দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেছেন যে, একটি বিদেশি রাজনৈতিক বিতর্কে বাংলাদেশের নাম টেনে আনা অপ্রত্যাশিত।

তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

Bangladesh Jamaat-e-Islami মনে করছে, মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ভারতের প্রভাব বিস্তারের একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

দলটির নেতারা বলছেন, বক্তব্যটি শুধুমাত্র একটি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ নয়; বরং এটি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

তাদের মতে, এমন মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারের উচিত বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে উত্থাপন করা।

National Citizen Party (এনসিপি) সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলটির নেতারা মনে করেন, মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য স্পষ্টভাবে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করছে।

তাদের দাবি, যদি সত্যিই ভারতের কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ বিষয়ে অবগত থেকে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া।

এনসিপির মতে, সীমান্তে কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কীভাবে দ্রুত ভারতে প্রবেশ করেছিল, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক Mahfuhuddin Ahmed মনে করেন, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেই পরস্পরকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়ার সংস্কৃতি রয়েছে।

তার মতে, মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যে গুরুতর ইঙ্গিত থাকলেও এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মন্তব্যটির রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও বাস্তবতা যাচাই ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু বক্তব্যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর নাম এসেছে, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা আসে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।

যদিও এখন পর্যন্ত বক্তব্যটির সত্যতা বা নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও এটি দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।

আগামী দিনে ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এই বিতর্ককে কোন দিকে নিয়ে যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।