খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন: ব্রবির ১৭ মিনিটের ঝড়ে কাঁপল সুইডেন

নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা, গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক অসাধারণ প্রদর্শনী। বিশ্বকাপ গ্রুপ ‘এফ’-এর গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসের হয়ে নায়ক...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালপ্রথম জয়ের পর ব্রাজিলের জন্য দারুণ সুখবর! নেইমার ফিরছেন মাঠে

প্রথম জয়ের পর ব্রাজিলের জন্য দারুণ সুখবর! নেইমার ফিরছেন মাঠে

নেইমার মাঠে ফিরলে মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হতে পারে। পাশাপাশি পাকেতার ওপরও বাড়তি দায়িত্ব কমে আসবে। ফলে পুরো দল আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়ার পর আরও একটি বড় সুখবর পেল ব্রাজিল। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন দলের অন্যতম তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। হাইতির বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর ব্রাজিল শিবিরে এই খবর নতুন করে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে। দলের প্রধান কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি জানিয়েছেন, আসন্ন স্কটল্যান্ড ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া যাবে। তবে তিনি শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি।

প্রায় এক মাস আগে সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব স্যান্টোসের হয়ে খেলতে গিয়ে কাফ মাসলে চোট পান তিনি। সেই চোটের কারণে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে তার জায়গা পাওয়া কঠিন হবে। তবে কঠোর পরিশ্রম ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে তিনি আবারও মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নেইমারের ফিটনেস নিয়ে আলোচনা চলছিল। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক দল তাকে পুরোপুরি ফিট ঘোষণা করেনি। ফলে সেই ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার। এর আগের ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে নেইমারকে ডাগআউটে দেখা গেলেও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের সময় তিনি নিউ জার্সিতে পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যস্ত ছিলেন।

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি নেইমারের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নেইমার আরও একটি দিন আলাদা অনুশীলন করবেন এবং এরপর দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে যোগ দেবেন।

আন্সেলোত্তির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেইমারকে মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও ম্যাচের শুরু থেকেই তাকে খেলানো হবে কি না, সে বিষয়ে কোচ এখনও সিদ্ধান্ত জানাননি। দলের মেডিকেল স্টাফ এবং ফিটনেস কোচদের পরামর্শ নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগামী ২৫ জুন মায়ামি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচটি গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নেইমারের প্রত্যাবর্তন দলের জন্য বড় ইতিবাচক খবর।

নেইমার শুধু একজন গোলদাতা নন, তিনি আক্রমণভাগের সৃজনশীলতারও প্রধান উৎস। তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বাড়তি চাপ তৈরি করে। ফলে ব্রাজিলের অন্যান্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রাও নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেন।

যেখানে নেইমারের ফেরার খবর আনন্দ দিচ্ছে, সেখানে রাফিনহার চোট কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই তারকা উইঙ্গার।

ম্যাচ শেষে আন্সেলোত্তি জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত রাফিনহার চোটের প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব নয়। ফলে স্কটল্যান্ড ম্যাচে তার খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল সমর্থকরা এখন চিকিৎসা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি একদিকে গোল করেছেন, অন্যদিকে সতীর্থদের দিয়ে গোলও করিয়েছেন। পুরো ম্যাচজুড়ে তার গতি, দক্ষতা এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা ব্রাজিলকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

একসময় ব্রাজিল দলের আক্রমণভাগ অনেকটাই নেইমারনির্ভর ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভিনিসিয়াস নিজেকে দলের অন্যতম ভরসার প্রতীকে পরিণত করেছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চেও তিনি সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছেন।

তবে নেইমার ফিরে এলে ভিনিসিয়াসের ওপর থাকা অতিরিক্ত চাপ কমে যাবে। দুই তারকা একসঙ্গে খেললে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

হাইতির বিপক্ষে জয় পেলেও ব্রাজিলের সব বিভাগ সমানভাবে সন্তোষজনক ছিল না। বিশেষ করে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা চলছে। ম্যাচে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি।

নেইমার মাঠে ফিরলে মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হতে পারে। পাশাপাশি পাকেতার ওপরও বাড়তি দায়িত্ব কমে আসবে। ফলে পুরো দল আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

হাইতির বিপক্ষে জয় ব্রাজিলকে শুধু তিন পয়েন্টই দেয়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসও। আর সেই আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের খবর।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে এখন ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। ভিনিসিয়াসের দুর্দান্ত ফর্ম, নেইমারের প্রত্যাবর্তন এবং দলের সামগ্রিক উন্নতি সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল হিসেবে ব্রাজিল সবসময়ই শিরোপার দাবিদার। আর নেইমার যদি পূর্ণ ফিট অবস্থায় মাঠে ফিরতে পারেন, তাহলে সেলেকাওদের শিরোপা অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।