খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বাজার নিয়ন্ত্রণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু

দেশে অতিবৃষ্টির কারণে হঠাৎ কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, তিনি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। সফরটি প্রায় ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে বলে সরকারের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে নিউইয়র্কে তার সম্মানে একটি বড় পরিসরের নাগরিক সংবর্ধনারও আয়োজন করা হচ্ছে।

বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক সংকটসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অধিবেশনের আলোচনায় স্থান পাবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এই অধিবেশনে দেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সফরসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও প্রস্তুতি কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমন্বয় করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈঠকের সময়সূচি, আবাসন, প্রটোকল এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আরও পড়ুন :  ব্রাজিলকে চমকে দিল জাপান! কাইশু সানোর গোলে বিশ্বকাপে তোলপাড়

দলীয় ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মূল মিলনায়তনে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দিতে পারেন।

তার এই ভাষণে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, বৈদেশিক সম্পর্ক, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া বৈশ্বিক সংঘাত, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন তিনি।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা, উন্নয়ন সহায়তা, জনশক্তি রপ্তানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সফরকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

জানা গেছে, নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে একটি বড় নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্যের নেতারা অংশ নিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন :  লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও আর যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে যাওয়া হয়নি।

ফলে এবার তার সফরকে ঘিরে শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

নিউইয়র্কের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো সফর করবেন বলে জানা গেছে।

সেখানে দুই দিনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ওই কর্মসূচির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিভিন্ন প্রবাসী প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকতে পারে।

সানফ্রান্সিসকোর কর্মসূচি শেষ করেই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরে যাবেন। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি নির্ধারণের কাজ চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এবারের অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দুই অবস্থানে একসঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব দেখা যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন :  ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে লাইভ: অতিরিক্ত সময়ের দ্বারপ্রান্তে রুদ্ধশ্বাস বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সফরের কূটনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সফরের প্রশাসনিক ও প্রটোকল সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকি করছে।

এছাড়া বাংলাদেশ মিশন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি দল এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত দূতাবাসও সফরের বিভিন্ন প্রস্তুতিতে যুক্ত রয়েছে।

সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর সম্পন্ন করেছেন।

গত ২১ থেকে ২৬ জুলাই তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। ওই সফরে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, করিডোর উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সরকারি সূত্র বলছে, ওই সফরকে সফল বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তার ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের আগে অন্য কোনো দেশে সফরের পরিকল্পনা নেই।

সরকার বর্তমানে জাতিসংঘ সফরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সফর শেষে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও সরকারি কর্মসূচি বিবেচনা করে পরবর্তী বিদেশ সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, বিনিয়োগের সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা আসতে পারে।

নিউইয়র্কে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এটি হবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা।