Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeলাইফস্টাইলদাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য: কীভাবে ডিম্বাণুর গুণমান ও প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে

দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য: কীভাবে ডিম্বাণুর গুণমান ও প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে

মনে রেখো, শরীরের প্রতিটি অংশ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। আর মুখই সেই দরজা, যেখান থেকে অনেক সমস্যার শুরু হতে পারে—আবার সঠিক যত্ন নিলে সেখান থেকেই সুস্থতার পথও খুলে যায়।

আমরা অনেকেই ভাবি দাঁত বা মাড়ির সমস্যা মানে শুধু ব্যথা, ক্যাভিটি বা মুখের দুর্গন্ধ। কিন্তু বিষয়টা এত সহজ নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মুখগহ্বরের সংক্রমণ শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে না—এটা পুরো শরীরকে প্রভাবিত করতে পারে, এমনকি প্রজনন ক্ষমতার উপরেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভাবো, তুমি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করছ না, মাড়িতে রক্ত পড়ছে—তুমি হয়তো বিষয়টাকে ছোট করে দেখছ। কিন্তু ভিতরে ভিতরে সেটা শরীরের অন্য জায়গায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

দাঁতের ক্ষয়, ক্যাভিটি, মাড়ির প্রদাহ—এসব খুবই পরিচিত সমস্যা। বেশিরভাগ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় এই সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়।

কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন এগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিই না। দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমণ থাকলে সেটা ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, মুখের ভিতরের এই সংক্রমণ রক্তের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। আর এখানেই শুরু হয় আসল ঝামেলা।

আগে মনে করা হত, দাঁত বা মাড়ির সমস্যা শুধুই মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এখন গবেষণা বলছে, মুখের ব্যাক্টেরিয়া রক্তপ্রবাহে ঢুকে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পৌঁছে যেতে পারে।

বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ ডিম্বাশয় এবং জরায়ুতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ধরো, শরীরের কোথাও আগুন জ্বলছে—তুমি সেটা দেখতে পাচ্ছ না, কিন্তু তার ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মুখের সংক্রমণ ঠিক তেমনই কাজ করে।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন, দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণ শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

এই সংক্রমণের জীবাণুগুলো রক্তের মাধ্যমে ডিম্বাশয়ে পৌঁছাতে পারে। সেখানে গিয়ে তারা প্রদাহ তৈরি করে এবং ডিম্বাণুর স্বাভাবিক গঠন ও গুণমান নষ্ট করে দিতে পারে।

এমনকি জরায়ুর ভেতরের আস্তরণেও এই সংক্রমণ প্রভাব ফেলতে পারে, যা গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

মুখে কিছু বিশেষ ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে, যেগুলো খুবই ক্ষতিকর হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো:

  • পরফাইরোমোনাস জিঞ্জিভালিস
  • প্রিভোটেলা ইন্টারমিডিয়া

এই ব্যাক্টেরিয়াগুলো মাড়ির প্রদাহ বাড়ায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।

ফলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, যা ডিম্বাশয়ের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ডিম্বাশয়ের ভিতরে ছোট ছোট থলির মতো গঠন থাকে, যেগুলোকে বলা হয় ‘ফলিকল’। এখানেই ডিম্বাণু তৈরি ও পরিপক্ব হয়।

যখন সংক্রমণ ঘটে, তখন এই ফলিকলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে:

  • ডিম্বাণুর গঠন দুর্বল হয়
  • কোষের ক্ষয় শুরু হয়
  • পরিপক্ব হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়

ফলাফল? ডিম্বাণুর গুণমান কমে যায় এবং গর্ভধারণ কঠিন হয়ে ওঠে।

যখন ডিম্বাণুর গুণমান খারাপ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়।

তার সঙ্গে যদি জরায়ুতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ভ্রূণ ঠিকভাবে বসতে পারে না। ফলে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

এটা এমন, যেন তুমি ভালো বীজ পেলেও মাটিটা যদি ঠিক না থাকে, তাহলে গাছ জন্মাবে না।

শুধু প্রজননই নয়, মুখের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—ক্যানসার।

মুখ, গলা, স্বরযন্ত্র, টনসিল, থাইরয়েড, নাক, সাইনাস—এই সব জায়গায় যে ক্যানসার হয়, তাকে একসঙ্গে বলা হয় ‘হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার’।

মুখের স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে এই ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ভালো খবর হলো, কিছু সহজ অভ্যাস বদলালেই তুমি এই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারো।

প্রতিদিন ঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করা, ফ্লস ব্যবহার করা, আর নিয়মিত ডেন্টিস্ট দেখানো—এই ছোট ছোট কাজগুলোই বড় সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে।

যেমন ধরো, গাড়ি ঠিক রাখতে নিয়মিত সার্ভিসিং করো—ঠিক তেমনই মুখের যত্নও নিয়মিত নিতে হবে।

দাঁত ও মাড়ির সমস্যা অনেক সময় তুচ্ছ মনে হয়। কিন্তু এর প্রভাব শরীরের গভীরে গিয়ে পড়তে পারে—এমনকি প্রজনন ক্ষমতার উপরও।

তাই এখন থেকেই সচেতন হও। মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা মানে শুধু সুন্দর হাসি নয়, বরং সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।

মনে রেখো, শরীরের প্রতিটি অংশ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। আর মুখই সেই দরজা, যেখান থেকে অনেক সমস্যার শুরু হতে পারে—আবার সঠিক যত্ন নিলে সেখান থেকেই সুস্থতার পথও খুলে যায়।