বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব দেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়া অফিস।
ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজধানী ঢাকার আকাশে জমতে শুরু করে কালো মেঘ। রাতের শেষ প্রহর পেরোতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় বৃষ্টি। কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি, কোথাও আবার মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিতে দিনের শুরু হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কাজে বের হওয়া নাগরিকদের কিছুটা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সকাল থেকে ছাতা, রেইনকোট এবং জলরোধী ব্যাগ নিয়ে অনেককে ঘর থেকে বের হতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে এবং কিছু এলাকায় যানজটও সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতির কারণে অফিসগামী মানুষকে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। অনেক স্থানে সড়কে পানি জমে যাওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে পথচারীদের চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যায়।
শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও আজ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের একাধিক বিভাগে দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, দিনের বিভিন্ন সময় মেঘের ঘনত্বের পরিবর্তনের কারণে কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য ভারী বর্ষণও হতে পারে।
রাজধানীতে সকালবেলার বৃষ্টির কারণে নগরজীবনে এর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। তবে বৃষ্টির কারণে গাড়ির গতি কমে যাওয়ায় অনেককে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় রাস্তায় কাটাতে হয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহীরা রেইনকোট ব্যবহার করে চলাচল করলেও অনেক পথচারীকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও দোকানের ছাউনির নিচে।
সকালের বৃষ্টিতে নগরীর কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নিচু সড়ক এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যায়। এতে রিকশা, অটোরিকশা এবং ছোট ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। যদিও দিনের বেলায় পানি ধীরে ধীরে নেমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব দেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু মাঝারি অবস্থায় সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই কারণেই আগামী কয়েকদিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষাকালে এ ধরনের আবহাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশি বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দেয়।
আজকের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাত হলেও সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের দিকেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করবে। তবে বৃষ্টির সময় এবং বৃষ্টির পর কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে, যা গরম থেকে স্বস্তি এনে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রসহ বৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করাই নিরাপদ। কৃষিজমি, খেলার মাঠ কিংবা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থানকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীতে আজ যাদের জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হবে, তাদের ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দিনের বিভিন্ন সময় হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হতে পারে। এছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের ধীরগতিতে চলাচল এবং ভেজা সড়কে প্রয়োজনীয় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নদীবন্দরগুলোর জন্য আলাদা কোনো সতর্ক সংকেত জারি না হলেও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ছোট নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলেও স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষি খাতের জন্য এই বৃষ্টিপাত অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আমন ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের জন্য নিয়মিত বৃষ্টিপাত উপকারী। তবে অতিবৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। তাই কৃষকদের স্থানীয় আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

