খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? চলছে আলোচনা, সংবিধান কী বলছে?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় স্পিকার...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? চলছে আলোচনা, সংবিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? চলছে আলোচনা, সংবিধান কী বলছে?

বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও একজন অভিজ্ঞ আমলার নাম আলোচনায় রয়েছে। যদিও সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিশ্চিত করেনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও একজন অভিজ্ঞ আমলার নাম আলোচনায় রয়েছে। যদিও সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিশ্চিত করেনি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এমন অবস্থায় বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে চারটি নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আবদুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এবং বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম নাসিমুল গনি

আরও পড়ুন :  ৩৯ বছরেও বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক: লিওনেল মেসির ফিটনেস, ডায়েট ও সাফল্যের গোপন রহস্য

তবে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের ধারণা, আলোচনার বাইরে থাকা কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক জীবনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং দলীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি ঠাকুরগাঁও থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। ২০০১ সালে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিএনপির কঠিন সময়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলের ভেতরে ও বাইরে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা, সংযত নেতৃত্ব এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা তাকে রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অন্যতম করে তুলেছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও পড়ুন :  আবহাওয়া অফিসের জরুরি বার্তা: ঝড়, বজ্রপাত আর ভারী বৃষ্টির শঙ্কা!

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খানও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির তালিকায় রয়েছেন। তিনি নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

মিষ্টভাষী, ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন।

অনেকের ধারণা, সরকার গঠনের পর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভায় তাকে অন্তর্ভুক্ত না করায় রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে।

রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম নাসিমুল গনির নামও আলোচনায় উঠে এসেছে।

তিনি দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। ১৯৮২ ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরি শুরু করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান এবং পরে সিনিয়র সচিবের মর্যাদা লাভ করেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতায় তাকেও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চললেও সরকার কিংবা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম প্রকাশ করেনি।

আরও পড়ুন :  কেটি পেরির বিশ্বকাপ উদ্বোধনী পারফরম্যান্সে হতাশ ভক্তরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সেটি সময়ই বলে দেবে।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানও বলেছেন, এ মুহূর্তে কে রাষ্ট্রপতি হবেন তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব স্পিকারই পালন করবেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। ১৯৯১ সালে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে। সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

যদি একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে কয়েকটি মৌলিক যোগ্যতা থাকতে হবে। বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে অযোগ্য ঘোষিত হওয়া যাবে না।

এসব শর্ত পূরণ করেই একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।