খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে ফকল্যান্ডস বিতর্ক

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথে আবারও জয়ী হলো আর্জেন্টিনা। উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশাল‘আমরাই বিশ্বের সেরা দল’! ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই চান স্পেন কোচ লুই দে লা...

‘আমরাই বিশ্বের সেরা দল’! ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই চান স্পেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে

সেমিফাইনালে নামার আগে ফ্রান্স টুর্নামেন্টে ১৬টি গোল করেছিল। কিন্তু স্পেনের রক্ষণভাগ তাদের সম্পূর্ণ আটকে দেয়। রদ্রি, আয়মেরিক লাপোর্তে এবং সতীর্থদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে একটিও গোল করতে পারেনি ফরাসিরা।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে স্পেন। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে পরাস্ত করে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লা রোহা। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। সেই গৌরবময় স্মৃতি এবার আবার ফিরিয়ে আনতে চান প্রধান কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর বিশ্বাস, বর্তমান স্পেন দল শুধু প্রতিভাতেই নয়, মানসিক দৃঢ়তা, ঐক্য এবং দলগত খেলাতেও বিশ্বের সেরা।

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের জয়ের পর স্পেনের শিবিরে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ম্যাচ শেষে ফুয়েন্তে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁর দল বিশ্বসেরা হওয়ার যোগ্যতা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যদি ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া যায়, তবে সেটাই হবে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই।

স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে ২০১০ সাল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সেই বছর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিল তারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৬ সালে আবার ফাইনালে পৌঁছে নতুন করে সেই গৌরব ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

লুই দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, বর্তমান দলটি সেই ঐতিহাসিক দলের মতোই আত্মবিশ্বাসী এবং ঐক্যবদ্ধ। তাঁর মতে, শুধু প্রতিভা নয়, দলের মধ্যে থাকা বিশ্বাস এবং একে অপরের প্রতি আস্থা স্পেনকে আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সেমিফাইনালে জয় স্পেনের জন্য শুধু ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, নতুন ইতিহাসও লিখিয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্পেন। এই রেকর্ডে তারা ইতালির ঐতিহাসিক নজির স্পর্শ করেছে।

এর পাশাপাশি ইউরো কাপ এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা আটটি নকআউট ম্যাচ জিতে প্রথম ইউরোপীয় দল হিসেবে অনন্য কীর্তিও গড়েছে স্পেন। ধারাবাহিক এই সাফল্য প্রমাণ করছে, বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে তারা।

সেমিফাইনালে নামার আগে ফ্রান্স টুর্নামেন্টে ১৬টি গোল করেছিল। কিন্তু স্পেনের রক্ষণভাগ তাদের সম্পূর্ণ আটকে দেয়। রদ্রি, আয়মেরিক লাপোর্তে এবং সতীর্থদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে একটিও গোল করতে পারেনি ফরাসিরা।

স্পেনের রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ—তিন বিভাগেই ছিল অসাধারণ ভারসাম্য। পুরো ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগ দিয়েছে এবং নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

ম্যাচ শেষে দলের মানসিকতার প্রশংসা করে লুই দে লা ফুয়েন্তে বলেন, সেমিফাইনালের আগে তিনি ফুটবলারদের একটাই কথা বলেছিলেন।

তাঁর ভাষায়, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামলেও নিজেদের আত্মবিশ্বাস হারানো চলবে না। বরং প্রতিপক্ষকেও বুঝিয়ে দিতে হবে যে তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের সামনেই খেলছে।

এই বিশ্বাসই মাঠে স্পেনের ফুটবলারদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল বলে মনে করেন তিনি।

ফুয়েন্তের মতে, স্পেনের বর্তমান সাফল্যের মূল রহস্য ব্যক্তিগত তারকাখ্যাতি নয়, বরং দলগত ঐক্য।

তিনি বলেন, প্রতিটি ফুটবলার নিজেদের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছে। মাঠে যারা সুযোগ পাচ্ছে না, তারাও সমান গুরুত্ব দিয়ে অনুশীলন করছে এবং দলের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।

কোচের মতে, এই মানসিকতাই একটি চ্যাম্পিয়ন দলের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

স্পেনের ড্রেসিংরুমে কোনও অহংকার বা ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার জায়গা নেই বলেই দাবি করেছেন ফুয়েন্তে।

তিনি বলেন, একটি সফল দল গড়তে শুধু ভালো খেলোয়াড় থাকলেই হয় না। প্রয়োজন সঠিক মানসিকতার মানুষ। স্পেন দলে প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই সংস্কৃতিই স্পেনকে অন্য দলগুলোর থেকে আলাদা করেছে বলে মনে করেন তিনি।

লুই দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, তাঁর দলের এখনও আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ফুটবলে শেখার কোনও শেষ নেই। প্রতিদিন আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তবে বর্তমান সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, পরিশ্রম এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে এগিয়ে চলা।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্পেন নিজেদের সেরা ছন্দে রয়েছে বলেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।

স্পেন কোচের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনির দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক মাঠে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করেন ফুয়েন্তে।

তিনি বলেন, বিশ্বকাপের ফাইনাল কখনও সহজ হয় না। যে দলই উঠুক, তারা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। তবে যদি প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনা আসে, তাহলে সেই ম্যাচ হবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ফাইনাল।

ফুয়েন্তের মতে, স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা ফাইনাল হলে সেটি হবে “কেকের উপরে চেরি”—অর্থাৎ টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সমাপ্তি।

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের অন্যতম ফেভারিটে পরিণত করেছে। শক্তিশালী রক্ষণ, কার্যকর মাঝমাঠ, দ্রুত আক্রমণ এবং অসাধারণ দলগত সমন্বয়ে তারা প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

এখন তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য—ফাইনালে জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জেতা। ২০১০ সালের সেই সোনালি স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে এনে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া স্পেন। লুই দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এই দল বিশ্বাস করছে, ঐক্য, পরিশ্রম এবং সঠিক মানসিকতা ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি আবারও মাদ্রিদে ফিরবে।