খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে ফকল্যান্ডস বিতর্ক

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথে আবারও জয়ী হলো আর্জেন্টিনা। উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালইয়ামালের জাদুতে এমবাপেদের হারিয়ে ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিল দে লা ফুয়েন্তের মাস্টারপ্ল্যান

ইয়ামালের জাদুতে এমবাপেদের হারিয়ে ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিল দে লা ফুয়েন্তের মাস্টারপ্ল্যান

এমবাপে ও দেম্বেলে দু-একবার স্প্যানিশ রক্ষণ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক উনাই সিমন। সময়মতো বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এসে শট নেওয়ার জায়গা সংকুচিত করে দেন তিনি।

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। একদিকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন, অন্যদিকে শক্তিশালী ফ্রান্স। দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির এই লড়াইয়ে যেমন নজর ছিল লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপের মতো তারকাদের দিকে, তেমনই সমান আগ্রহ ছিল দুই কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে এবং দিদিয়ের দেশঁর কৌশলগত লড়াই নিয়েও। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে যেমন স্পেন এগিয়ে গেল, তেমনই ট্যাকটিক্যাল দ্বৈরথেও স্পষ্ট ব্যবধানে জয় পেলেন দে লা ফুয়েন্তে। ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল স্পেন।

ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে স্পেন। মাঝমাঠে দারুণ সংগঠিত প্রেসিং এবং সুচারু অফসাইড ট্র্যাপের মাধ্যমে ফরাসি আক্রমণকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয় স্প্যানিশরা।

পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তে ও পেদ্রো পোরোর সমন্বিত রক্ষণভাগ এমবাপে ও উসমান দেম্বেলেকে একাধিকবার অফসাইডে ফেলে দেয়। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্স নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতেই পারেনি। বিশেষ করে কুবারসির কড়া মার্কিংয়ে এমবাপে প্রায় অদৃশ্য হয়ে যান।

১০ মিনিটে স্পেন একটি বিপজ্জনক ফ্রিকিক পেলেও গোল করতে পারেনি। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।

২০ মিনিটে বক্সের ভেতরে লামিনে ইয়ামালকে ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ফাউল করেন লুকাস ডিগনে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

স্পট কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি মিকেল ওয়ারজাবাল। ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে চলতি মৌসুমে নিজের ১৪তম গোল করেন ওয়ারজাবাল। স্পেনের ইতিহাসে এক মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে এত গোল করার নজির আর কোনো ফুটবলারের নেই।

গোল হজমের পর ফ্রান্স ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। মাঝমাঠে বলের দখল বাড়িয়ে কয়েকটি আক্রমণও গড়ে তোলে তারা।

এমবাপে ও দেম্বেলে দু-একবার স্প্যানিশ রক্ষণ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক উনাই সিমন। সময়মতো বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এসে শট নেওয়ার জায়গা সংকুচিত করে দেন তিনি।

অন্যদিকে ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল এবং আলেক্স বায়েনা একের পর এক দ্রুত আক্রমণে ফরাসি রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন।

৩০ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন উইলিয়াম স্যালিবা। তাঁর পরিবর্তে নামানো হয় ম্যাক্সিন্স লাক্রোইক্সকে।

তবে এই পরিবর্তনেও রক্ষণে স্থিতি ফেরেনি। স্পেন ধারাবাহিকভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ফ্রান্সকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে।

বিরতির পর সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। কিন্তু শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে তাদের আক্রমণ বারবার ভেঙে যায়।

৫৮ মিনিটে দুর্দান্ত একটি পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় স্পেন। ফরাসি রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে একেবারে ফাঁকায় বল পান পেদ্রো পোরো।

ডান পায়ের জোরালো শটে মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

দ্বিতীয় গোল হজমের পরই পরিবর্তনের পথে হাঁটেন দিদিয়ের দেশঁ।

৫৯ মিনিটে ব্র্যাডলি বার্কোলার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় ডেজিরে ডুয়েকে। পরে মাইকেল ওলিসে ও লুকাস ডিগনের জায়গায় রায়ান চেরকি এবং থিয়ো হার্নান্দেজকে নামানো হয়।

তবে নতুন ফুটবলারদের উপস্থিতিতেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। বরং বল ছাড়া অবস্থায়ও স্পেনের খেলোয়াড়দের অবস্থান ও প্রেসিং ছিল প্রশংসনীয়।

৬৪ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে বল জালে পাঠান লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায় তিনি সামান্য অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে ইয়ামালের গতি, ড্রিবলিং এবং বল নিয়ন্ত্রণ ফরাসি রক্ষণকে দারুণ চাপে রেখেছিল।

ম্যাচের শেষ দিকে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স।

৮৭ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ একটি ফ্রিকিকের সুযোগ পান কিলিয়ান এমবাপে। তবে তাঁর নেওয়া শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।

সংযুক্ত সময়েও উসমান দেম্বেলের একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন উনাই সিমন।

শেষ পর্যন্ত আর গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স।

এই ম্যাচে শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নয়, কোচিং বেঞ্চেও স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

লুই দে লা ফুয়েন্তের পরিকল্পিত প্রেসিং, নিখুঁত অফসাইড ট্র্যাপ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং বল ছাড়া অবস্থায় খেলোয়াড়দের চলাফেরা ফ্রান্সকে পুরো ম্যাচে অস্বস্তিতে রেখেছে।

অন্যদিকে দিদিয়ের দেশঁর একাধিক পরিবর্তনও ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেনি। এমবাপে, দেম্বেলে কিংবা অলিসের মতো তারকারা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে পারেননি।

২-০ গোলের এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন শুধু বিশ্বকাপের ফাইনালেই উঠল না, ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্সকে টানা তৃতীয়বারের মতো হারানোর কৃতিত্বও অর্জন করল।

উনাই সিমনের নির্ভরযোগ্য গোলকিপিং, কুবারসির দৃঢ় রক্ষণ, ওয়ারজাবালের গোল এবং ইয়ামালের সৃজনশীল ফুটবল—সব মিলিয়ে স্পেন আবারও প্রমাণ করল, তারা এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল।

অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপের সামনে ছিল দলকে একাই ম্যাচে ফেরানোর সুযোগ। অতীতে লিওনেল মেসি যেভাবে বড় ম্যাচে নিজের দলকে টেনে তুলেছেন, সেই ধরনের নেতৃত্ব এদিন দেখাতে পারেননি ফরাসি অধিনায়ক। ফলে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল সেমিফাইনালেই, আর ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেল লামিনে ইয়ামালের স্পেন।