খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বাংলাদেশ কিনছে চীনা J-10CE যুদ্ধবিমান!

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ২০টি...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়বাংলাদেশ কিনছে চীনা J-10CE যুদ্ধবিমান!

বাংলাদেশ কিনছে চীনা J-10CE যুদ্ধবিমান!

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই চুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার এই উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং এটি ভারত-চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের কৌশলগত হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সামরিক আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই চুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বিমান বাহিনীকে আধুনিক করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ পরিকল্পনার আওতায় পুরোনো যুদ্ধবিমান পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তির ফাইটার জেট যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে থাকা পুরোনো এফ-৭ যুদ্ধবিমান এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯-এর পরিবর্তে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। এই কারণেই চীনের জে-১০সিই বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে।

জে-১০সিই একটি ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, যা আকাশ প্রতিরক্ষা, ভূমিতে হামলা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা অভিযানে ব্যবহার করা যায়। আধুনিক রাডার প্রযুক্তি, উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা এবং দ্রুত আক্রমণ সক্ষমতার কারণে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নজর কেড়েছে।

জানা গেছে, এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকায় বাংলাদেশের ওপর তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।

চুক্তির অংশ হিসেবে শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ।

এই ধরনের বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি সাধারণত শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হয়। ফলে চীন ও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টি ভারত সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

ভারতের অন্যতম বড় উদ্বেগ হলো শিলিগুড়ি করিডোর, যা দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগ স্থাপন করেছে। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কোনো বিমানঘাঁটিতে যদি আধুনিক চীনা যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়, তাহলে ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় নতুন হিসাব যুক্ত হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ বারবার বলে আসছে, তাদের প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত নিজেদের সার্বভৌম নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়া হয়। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান তৈরি করা এর উদ্দেশ্য নয়।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে রয়েছে অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার, যা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্য শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।

এই যুদ্ধবিমান চীনের তৈরি দূরপাল্লার পিএল-১৫ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করতে পারে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দূর থেকে শত্রু বিমানে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।

এছাড়া উন্নত ডেটা লিংক প্রযুক্তির কারণে এটি অন্য সামরিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখে।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ আরও বেড়ে যায় পাকিস্তানের জে-১০সি ব্যবহারের পর। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় এই যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

এরপর অনেক দেশ এই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা এবং মূল্য-কার্যকারিতা নিয়ে আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তি এবং তুলনামূলক কম খরচের কারণে এটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে ওঠে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। এর আগে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম, নৌযান, সাঁজোয়া যান এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়েছে।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

অন্যদিকে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা গেছে। বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি বণ্টন এবং আঞ্চলিক রাজনীতির মতো বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।

এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে এটি সরাসরি কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত নয়, বরং প্রতিটি দেশ নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবেই প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন করে থাকে।

বাংলাদেশের জন্য এটি আকাশসীমা সুরক্ষা এবং সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। একই সঙ্গে ভারত, চীন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো এই পরিবর্তনকে নিজেদের কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করবে।

সব মিলিয়ে, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয় শুধু একটি সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিষয় নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।