খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলএমবাপেই গোলাপ, এমবাপেই কাঁটা! বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফ্রান্স শিবিরে বিস্ফোরক নাটক

এমবাপেই গোলাপ, এমবাপেই কাঁটা! বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফ্রান্স শিবিরে বিস্ফোরক নাটক

এমবাপের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দেশঁ স্পষ্ট করে জানান, এটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। তিনি চান দলের অধিনায়ক সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে নিজের খেলায় পুরো মনোযোগ দিক।

বিশ্বকাপ মানেই উত্তেজনা, প্রত্যাশা এবং অজস্র গল্পের জন্ম। আর যখন সেই বিশ্বকাপ অভিযানে নামে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্স, তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন এক ব্যক্তিই—কিলিয়ান এমবাপে। মাঠে তাঁর গতি, দক্ষতা ও গোল করার ক্ষমতা যেমন প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর, তেমনি মাঠের বাইরের নানা বিতর্কও বারবার শিরোনাম হয়ে ওঠে।

নতুন বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই ফরাসি শিবিরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এমবাপের অনুপস্থিতি। ম্যাচের আগে সরকারি সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কের উপস্থিতি প্রায় অলিখিত নিয়ম হলেও, এবার সেখানে দেখা যায়নি ফরাসি তারকাকে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই কৌশলগত সিদ্ধান্ত, নাকি ফরাসি ড্রেসিংরুমের ভেতরে অন্য কোনো গল্প লুকিয়ে আছে?

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এমবাপেকে ঘিরে বিতর্ক

ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বের সংবাদমাধ্যম অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল এমবাপের জন্য। কিন্তু সবাইকে অবাক করে তাঁর পরিবর্তে উপস্থিত হন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এনগোলো কন্তে।

এমবাপের এই অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সাবেক ক্লাবের সঙ্গে আর্থিক বিরোধ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি না হয়ে নিজেকে আড়ালে রাখার সিদ্ধান্তই হয়তো নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।

তবে সংবাদমাধ্যমের কৌতূহল থামেনি। বরং তাঁর অনুপস্থিতি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দলের প্রধান তারকার এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

দিদিয়ের দেশঁর কৌশলী অবস্থান

ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশঁ দীর্ঘদিন ধরেই ড্রেসিংরুম সামলানোর দক্ষতার জন্য পরিচিত। তিনি জানেন কীভাবে তারকাখচিত দলের ভেতরের চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।

এমবাপের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দেশঁ স্পষ্ট করে জানান, এটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। তিনি চান দলের অধিনায়ক সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে নিজের খেলায় পুরো মনোযোগ দিক।

কোচের বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি বিষয়টিকে বড় করে দেখতে রাজি নন। বরং বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তবে ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন থামে না। কোচ যতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন, এমবাপেকে ঘিরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ফ্রান্সের ড্রেসিংরুমে কি সত্যিই কোনো বিভাজন আছে?

বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো—ফ্রান্সের ড্রেসিংরুম কি সত্যিই ঐক্যবদ্ধ?

ফুটবল ইতিহাস বলছে, অনেক শক্তিশালী দল অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বড় মঞ্চে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ফরাসি শিবিরে কোনো ধরনের মতবিরোধের গুঞ্জন স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

তবে দেশঁ বারবার দাবি করেছেন, দলে কোনো বিভক্তি নেই। তাঁর মতে, ক্লাব ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে কোনো প্রভাব ফেলে না। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই জানেন, দেশের হয়ে খেলতে নামলে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয় লক্ষ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—ফ্রান্সের একমাত্র লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা।

ব্যালন ডি’অর জয়ী দেম্বেলে, তবুও আলোচনায় এমবাপে

ফরাসি দলে তারকার অভাব নেই। সাম্প্রতিক সময়ে উসমান দেম্বেলে ব্যক্তিগতভাবে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই সাফল্যও এমবাপের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি।

ফ্রান্সের বর্তমান দলকে ঘিরে যত আলোচনা, তার বড় অংশই আবর্তিত হয় এমবাপেকে কেন্দ্র করে। তাঁর উপস্থিতি, তাঁর সিদ্ধান্ত এবং তাঁর পারফরম্যান্সই যেন পুরো দলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

এদিকে তরুণ প্রতিভা মাইকেল ওলিসেও প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন আলোচনায়। ফলে আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

তবে দেশঁ ব্যক্তিগত পুরস্কার বা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বিশ্বকাপ জেতার চাবিকাঠি।

শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে ফ্রান্স

মাঠের বাইরের আলোচনা যতই হোক, বাস্তবতা হলো ফ্রান্স এখনও বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর দল।

সম্ভাব্য ৪-৩-৩ ফরমেশনে নামতে পারে ফরাসিরা। গোলপোস্টের নিচে আস্থা রাখবেন মাইক মাইগনান। রক্ষণভাগে থাকবেন জুল কুন্দে, দায়ো উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা এবং থিও হার্নান্দেজ।

বিশেষ করে সালিবার উপস্থিতি ফরাসি রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার-ব্যাকে পরিণত করেছে।

মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও এনগোলো কন্তের অভিজ্ঞতা এবং শক্তি দলকে ভারসাম্য এনে দেবে।

আর আক্রমণভাগ? সেখানে রয়েছে বিশ্বমানের প্রতিভার সমাহার। ডানদিকে উসমান দেম্বেলে, মাঝখানে মার্কাস থুরাম এবং বাঁ-প্রান্তে কিলিয়ান এমবাপে। এই ত্রয়ী যে কোনো প্রতিরক্ষার জন্য বড় হুমকি।

এমবাপে-নির্ভর ফ্রান্স কি বিশ্বকাপ জিততে পারবে?

ফ্রান্সের বর্তমান স্কোয়াড কাগজে-কলমে অত্যন্ত শক্তিশালী। অভিজ্ঞতা, তারুণ্য, গতি এবং সৃজনশীলতার দারুণ মিশেল রয়েছে এই দলে।

তবে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দলীয় ঐক্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা।

এমবাপে নিঃসন্দেহে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ আলোচনার জন্ম দেয়। ফলে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বও এবার বড় পরীক্ষার মুখে।

যদি তিনি দলকে একত্রিত রাখতে পারেন এবং নিজের সেরা ফুটবল খেলতে পারেন, তাহলে ফ্রান্স আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠবে।

বিশ্বকাপের প্রথম অধ্যায়ে নজর সবার এমবাপের দিকে

বিশ্বকাপের গল্প মাত্র শুরু হয়েছে। সামনে আরও অনেক নাটক, উত্তেজনা এবং স্মরণীয় মুহূর্ত অপেক্ষা করছে। কিন্তু প্রথম ম্যাচ শুরুর আগেই যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে, সেটি কিলিয়ান এমবাপে।

তিনি কি মাঠে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সব বিতর্কের জবাব দেবেন? নাকি ড্রেসিংরুমের গুঞ্জন আরও বড় আলোচনার জন্ম দেবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান যত এগোবে, এমবাপেকে ঘিরে আগ্রহও ততই বাড়বে। আর সেই কারণেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র হয়ে থাকবেন তিনি।