আইপিএল ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই আরও এক বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হল গুজরাট টাইটান্সকে। ফাইনাল ম্যাচে পরাজয়ের পর আহমেদাবাদ থেকে হোটেলে ফেরার পথে আচমকাই আগুন ধরে যায় দলের টিম বাসে। মুহূর্তের মধ্যে বাসের ভেতর ধোঁয়ায় ভরে গেলে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিটের কারণেই আগুন লাগার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচ শেষে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম থেকে দলের সদস্যরা হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। বাসটি কিছুদূর এগোনোর পর হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে শুরু করে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে চালক সঙ্গে সঙ্গে বাস থামিয়ে দেন। এরপর নিরাপত্তাকর্মী ও টিম ম্যানেজমেন্ট দ্রুত ক্রিকেটারদের বাস থেকে নামিয়ে আনেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাসটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। পরে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা করে দলের সদস্যদের নিরাপদে হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় বাসে উপস্থিত ছিলেন অধিনায়ক শুভমান গিল, মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা এবং দলের অন্যান্য ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা। স্বস্তির বিষয়, এই দুর্ঘটনায় কেউ আহত হননি।
তবে এমন একটি ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দলের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। ফাইনালে হারের মানসিক ধাক্কার পর এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি গুজরাট শিবিরকে আরও চাপে ফেলে।
আগুন লাগার ঘটনার পর বিকল্প বাস পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগে যায়। ফলে ক্রিকেটার ও টিম স্টাফদের প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় রাস্তার ধারে অপেক্ষা করতে হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে বাস থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
এই অতিরিক্ত ভোগান্তি এমন এক সময়ে এল, যখন টানা ম্যাচ ও ভ্রমণের কারণে দল ইতিমধ্যেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিল।
গুজরাট টাইটান্সের দুর্ভোগ অবশ্য ফাইনালের দিন শুরু হয়নি। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর থেকেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় দলটিকে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চণ্ডীগড় থেকে চার্টার্ড বিমানে আহমেদাবাদ ফেরার কথা ছিল দলের। কিন্তু পাঞ্জাব ও রাজস্থানের একাধিক অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে উড়ান সম্ভব হয়নি।
এই কারণে পুরো যাত্রা পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়। ক্রিকেটারদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং যাত্রা বিলম্বিত হওয়ায় বিশ্রামের সময়ও কমে আসে।
অবশেষে শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে আহমেদাবাদে পৌঁছায় গুজরাট টাইটান্স। সেখান থেকে আবার সড়কপথে প্রায় আধঘণ্টা ভ্রমণ করে গান্ধীনগরের হোটেলে যেতে হয়।
অর্থাৎ, গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের আগে দলের ক্রিকেটারদের দীর্ঘ ভ্রমণ, অনিশ্চয়তা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এতে ম্যাচ প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়ে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
ফাইনালের আগে গুজরাট টাইটান্সের হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না। হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টারও কম বিশ্রাম নিয়ে মাঠে নামতে হয়েছিল দলকে। টানা ম্যাচ, দীর্ঘ যাত্রা এবং মানসিক চাপ ক্রিকেটারদের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলেছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে গুজরাট টাইটান্সের ক্রিকেট ডিরেক্টর বিক্রম সোলাঙ্কি বলেন, দল পরপর অনেক ম্যাচ খেলেছে এবং ক্রিকেটাররা ক্লান্ত ছিল। তবে তিনি একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের জয়কে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
আইপিএল ফাইনালে হার যে কোনও দলের জন্যই বড় ধাক্কা। কিন্তু গুজরাট টাইটান্সের ক্ষেত্রে সেই হতাশার সঙ্গে যোগ হয়েছে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। সৌভাগ্যবশত, দ্রুত উদ্ধারকাজের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে এবং দলের সব সদস্য নিরাপদ রয়েছেন।
তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, খেলোয়াড়দের নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। ফাইনালের হার হয়তো সময়ের সঙ্গে ভুলে যাওয়া যাবে, কিন্তু টিম বাসে আগুন লাগার এই ঘটনা গুজরাট টাইটান্সের জন্য দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

