খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

হুইস্কি হাতে রেকুন নিয়ে দেশে ফিরলেন হালান্ড! ভাইরাল ছবির আসল রহস্য জানুন

বিশ্বকাপ শেষ হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার তিনি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন একেবারে ভিন্ন কারণে।...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালহুইস্কি হাতে রেকুন নিয়ে দেশে ফিরলেন হালান্ড! ভাইরাল ছবির আসল রহস্য জানুন

হুইস্কি হাতে রেকুন নিয়ে দেশে ফিরলেন হালান্ড! ভাইরাল ছবির আসল রহস্য জানুন

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালান্ড একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তাঁকে দেখা যায় কাঁধে ব্যাগ, চোখে রোদচশমা এবং হাতে একটি রেকুন নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসতে। ছবির সঙ্গে তিনি মজার ছলে লেখেন, “এ আমার সঙ্গে বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে।”

বিশ্বকাপ শেষ হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার তিনি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন একেবারে ভিন্ন কারণে। অসলো বিমানবন্দরে দেশে ফেরার সময় তাঁর হাতে দেখা গেল একটি হুইস্কির বোতল ধরা রেকুন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনুরাগীদের একটাই প্রশ্ন—হঠাৎ করে এই রেকুনই বা কেন? আর প্রিমিয়ার লিগ শুরু হলে কি এটিকেই সঙ্গে নিয়ে ম্যাঞ্চেস্টারে ফিরবেন হালান্ড?

চলতি বিশ্বকাপে হালান্ড ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলারদের একজন। পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি গোল করে তিনি নরওয়েকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে হেরে নরওয়ের স্বপ্ন থেমে যায়, তবুও হালান্ডের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।

দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে হাজারো সমর্থক এবং সংবাদমাধ্যমের চোখ ছিল তাঁর দিকেই। তবে সবার নজর কেড়ে নেয় গোল কিংবা ট্রফি নয়, বরং তাঁর হাতে থাকা অদ্ভুত একটি সংগ্রহযোগ্য রেকুন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালান্ড একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তাঁকে দেখা যায় কাঁধে ব্যাগ, চোখে রোদচশমা এবং হাতে একটি রেকুন নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসতে। ছবির সঙ্গে তিনি মজার ছলে লেখেন, “এ আমার সঙ্গে বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে।”

এই ছোট্ট ক্যাপশনই ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই ভেবেছিলেন এটি হয়তো জীবন্ত কোনো প্রাণী। পরে জানা যায়, বাস্তবে এটি একটি ট্যাক্সিডার্মি রেকুন, অর্থাৎ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি একটি সংগ্রহযোগ্য স্মারক।

অনেকের কাছেই বিষয়টি নতুন। ট্যাক্সিডার্মি হলো এমন একটি শিল্প, যেখানে কোনো প্রাণীর চামড়া সংরক্ষণ করে তার ভেতরে বিশেষ উপকরণ, যেমন ফোম বা তারের কাঠামো বসিয়ে বাস্তবের মতো আকৃতি দেওয়া হয়।

হালান্ডের সংগ্রহে থাকা রেকুনটির হাতে রয়েছে একটি ছোট হুইস্কির বোতল। এই মজার নকশার কারণেই এটি সাধারণ স্মারকের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন সাজসজ্জার সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী অনেক পর্যটকের কাছেই জনপ্রিয়।

বিশ্বকাপ চলাকালীন একদিন ছুটি পেয়ে হালান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস শহরে ঘুরতে যান। সেখানে তিনি বিখ্যাত ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোর-এ কেনাকাটা করেন।

স্টোর থেকে তিনি কাউবয় হ্যাট, চামড়ার বুট, টি-শার্টসহ আরও কয়েকটি সামগ্রী কেনেন। কেনাকাটার মাঝেই তাঁর নজরে আসে হুইস্কির বোতল হাতে থাকা এই রেকুন। সেটিই তাঁর এতটাই পছন্দ হয় যে সঙ্গে সঙ্গেই কিনে ফেলেন।

স্টোর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলারের কেনাকাটার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনলাইনে একই ধরনের রেকুনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।

স্টোরের মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হালান্ডের ছবি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই অনলাইনে থাকা একই ধরনের ‘হুইস্কি রেকুন’ বিক্রি হয়ে যায়।

এই ঘটনাকে অনেকেই মজা করে ‘হালান্ড এফেক্ট’ নামে উল্লেখ করছেন। ফুটবল মাঠের বাইরে তাঁর জনপ্রিয়তা যে কতটা, সেটিই আবারও প্রমাণ হলো। তিনি যা ব্যবহার করেন বা কেনেন, সেটিই মুহূর্তে ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে।

হালান্ডের ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মজার মন্তব্য দেখা যায়।

কেউ লিখেছেন, “বিশ্বকাপ থেকে গোল নয়, রেকুনই সবচেয়ে বড় ট্রফি।”

আবার কেউ বলেছেন, “ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ড্রেসিংরুমে এবার নতুন সদস্য যোগ হচ্ছে!”

অনেক ভক্ত আবার জানতে চেয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগে নতুন মৌসুম শুরু হলে এই রেকুনটিও কি হালান্ডের সঙ্গে ইংল্যান্ডে যাবে?

যদিও এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি, তবে ছবিটি ইতোমধ্যেই লাখো মানুষের নজর কেড়েছে।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর খুব শিগগিরই প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু হবে। হালান্ড আবারও ম্যাঞ্চেস্টার সিটির হয়ে মাঠে নামবেন।

সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, ব্যক্তিগত সংগ্রহের এই অদ্ভুত স্মারকটি কি তিনি ইংল্যান্ডেও নিয়ে যাবেন? যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, তবুও ভক্তদের আগ্রহ কমছে না।

হালান্ড নিজে এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর পোস্টের মজার ক্যাপশন দেখে অনেকেই মনে করছেন, রেকুনটি হয়তো তাঁর প্রিয় সংগ্রহের একটি হয়ে থাকবে।

হালান্ড শুধু গোল করার জন্যই নয়, নিজের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের কারণেও সবসময় আলোচনায় থাকেন। কখনও ভিন্নধর্মী পোশাক, কখনও রসবোধ, আবার কখনও অদ্ভুত সংগ্রহ—সব মিলিয়ে তিনি মাঠের বাইরেও সমান জনপ্রিয়।

এই রেকুনের ঘটনাও তারই আরেকটি উদাহরণ। একটি সাধারণ স্মারককে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা প্রমাণ করে হালান্ডের জনপ্রিয়তা কতটা বিস্তৃত।

বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার হয়তো ‘হুইস্কি রেকুন’ও আলাদা করে মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা। ডালাসের একটি দোকান থেকে কেনা এই সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

নরওয়ের তারকা ফুটবলারের একটি সাধারণ কেনাকাটাই কীভাবে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে, সেটিই আবারও দেখিয়ে দিল এই ঘটনা। এখন দেখার বিষয়, নতুন মৌসুমে মাঠে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হালান্ডের এই অদ্ভুত স্মারকও কি তাঁর সঙ্গে নতুন ঠিকানায় জায়গা করে নেয়, নাকি এটি শুধুই বিশ্বকাপ সফরের একটি স্মরণীয় স্মারক হয়ে থেকে যায়।