খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপে রেফারি বিতর্ক! আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কি শাস্তি আনছে ফিফা?

বিশ্বকাপে রেফারি বিতর্ক! আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কি শাস্তি আনছে ফিফা?

ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, ম্যাচ অফিসিয়ালদের সততা, নিরপেক্ষতা বা পেশাদারিত্ব নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে তাঁর বক্তব্যও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিশ্বকাপ শেষ হলেও মাঠের লড়াই যেন এখন প্রশাসনিক পর্যায়ে গড়িয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা করা কয়েকজন কোচ ও ফুটবলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা রেফারিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য এবং ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে বিতর্কিত অভিযোগের কারণেই এই পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।

যদিও সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ফলে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের আবেগ শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে দেওয়া মন্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রে। টুর্নামেন্ট চলাকালে বিভিন্ন ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কয়েকজন কোচ ও খেলোয়াড়। সেই বক্তব্যগুলো এখন ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির নজরে এসেছে।

জানা গেছে, ম্যাচ কমিশনার ও রেফারিদের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য মূল্যায়ন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কয়েকটি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সম্ভাব্য তদন্তের আওতায় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—

  • ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল
  • মিশরের প্রধান কোচ হোসেম হাসান
  • সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি
  • মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো
আরও পড়ুন :  শাকিরার আগুন ঝলকানিতে বিশ্বকাপ ২০২৬ উদ্বোধন! মেক্সিকোতে উৎসব নাকি বিতর্ক?

এঁদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ একটিই—ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলন বা গণমাধ্যমে রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করা এবং ম্যাচ পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা।

মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জ্যারেল কোয়ানসাকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তকে তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

টুখেলের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন, একটি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে রেফারিংয়ের মান আরও উন্নত হওয়া উচিত ছিল এবং কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাঁর দলের জন্য হতাশাজনক হয়েছে।

সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের ম্যাচ। শেষ ষোলোতে পরাজয়ের পর মিশরের কোচ হোসেম হাসান সরাসরি রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি দাবি করেন, ম্যাচের আগে থেকেই ফলাফল যেন নির্ধারিত ছিল এবং মাঠের অনেক সিদ্ধান্ত তাঁদের বিপক্ষে গেছে। তাঁর বক্তব্যে আর্জেন্টিনার প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিতও উঠে আসে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন :  বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

অন্যদিকে ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকোও ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাঁদের দলের পরিশ্রমকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। এই মন্তব্যগুলোও এখন ফিফার তদন্তের অংশ হতে পারে।

সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজিও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ম্যাচ শেষে দেওয়া তাঁর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, ম্যাচ অফিসিয়ালদের সততা, নিরপেক্ষতা বা পেশাদারিত্ব নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে তাঁর বক্তব্যও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।

সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁও রেফারিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট রেফারি আদৌ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার উপযুক্ত ছিলেন কি না।

যদিও তিনি সরাসরি কোনো পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেননি, তবুও ম্যাচের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাঁর দলের বিপক্ষে গেছে বলে মন্তব্য করেন।

বর্তমানে স্পষ্ট নয়, তাঁর বক্তব্যও আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আসবে কি না। ফিফা এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী, ম্যাচ অফিসিয়ালদের বিরুদ্ধে অপমানজনক, অবমাননাকর অথবা ভিত্তিহীন অভিযোগ আনলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে নতুন স্ট্রাইকার সেনসেশন! ডেনিজ উন্ডাভের জোড়া গোলের ঝড়ে জার্মানির জয়

সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে থাকতে পারে—

  • আর্থিক জরিমানা
  • নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা
  • আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা
  • ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা (গুরুতর ক্ষেত্রে)

তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্ত, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রায় প্রতিটি আসরেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি চালু হওয়ার পরও বিতর্ক পুরোপুরি কমেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগের মুহূর্তে দেওয়া মন্তব্য অনেক সময় খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য বিপদ ডেকে আনে। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাঠের বাইরের আচরণকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।

বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে সমালোচনা এখন শুধুমাত্র আলোচনা বা বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিফা যদি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, তবে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এলেও ফিফার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি। তাই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে।