খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমেসির যোগাসন, রোনাল্ডোর লেবুর জল! ৪০ পেরিয়েও কীভাবে ফিট বিশ্বকাপের তারকারা?

মেসির যোগাসন, রোনাল্ডোর লেবুর জল! ৪০ পেরিয়েও কীভাবে ফিট বিশ্বকাপের তারকারা?

নয়্যারের ফিটনেস রুটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যালান্স ট্রেনিং। গোলরক্ষকদের জন্য শরীরের ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই ব্যায়াম তাঁকে সেই সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে গতি, শক্তি, সহনশীলতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এই খেলায় তরুণ খেলোয়াড়দেরই বেশি প্রাধান্য দেখা যায়। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু কিংবদন্তি আছেন, যারা বয়সকে কেবল একটি সংখ্যায় পরিণত করেছেন। চলমান বিশ্বকাপেও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ তারকা ফুটবলার তাঁদের অসাধারণ ফিটনেস, পারফরম্যান্স এবং মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে কোটি কোটি ভক্তকে মুগ্ধ করে চলেছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, দীর্ঘ দুই দশক বা তারও বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পরও কীভাবে তাঁরা এতটা ফিট এবং কর্মক্ষম থাকেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাঁদের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং মানসিক প্রশিক্ষণের মধ্যে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি এখনও মাঠে নেমে প্রতিপক্ষকে ভোগাচ্ছেন তাঁর অসাধারণ দক্ষতায়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরও তাঁর ফিটনেস অনেক তরুণ ফুটবলারের কাছেও অনুকরণীয়।

মেসির দৈনন্দিন রুটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগব্যায়াম। শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখতে এবং চোটের ঝুঁকি কমাতে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের যোগাসন অনুশীলন করেন। উত্তনাসন, অধোমুখ শ্বানাসন এবং কাকাসনের মতো ব্যায়াম তাঁর শরীরকে ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।

খাদ্যাভ্যাসেও তিনি অত্যন্ত সচেতন। অতিরিক্ত চিনি, ময়দাজাতীয় খাবার এবং সফট ড্রিংকস থেকে দূরে থাকেন। পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করেন। ভেষজ চা তাঁর পছন্দের পানীয়গুলোর মধ্যে অন্যতম, যা তাঁকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

বিশ্ব ফুটবলে ফিটনেসের কথা উঠলে প্রথম সারিতেই থাকেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। চল্লিশের কোঠা পেরিয়েও তাঁর শরীরের গঠন, গতি এবং কর্মক্ষমতা অনেক তরুণ খেলোয়াড়কেও বিস্মিত করে।

রোনাল্ডোর দিনের শুরু হয় লেবুর জল দিয়ে। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন।

শরীরচর্চার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ পছন্দ পিলাটেস। এই ব্যায়াম পদ্ধতি শরীরের মূল পেশিগুলোকে শক্তিশালী করে এবং নমনীয়তা বাড়ায়। পিলাটেসের মাধ্যমে কার্ডিও ট্রেনিং, স্ট্রেংথ ট্রেনিং এবং স্ট্রেচিংয়ের সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করা সহজ হয়।

ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন। তাঁর খেলার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং সহনশীলতা এখনও ঈর্ষণীয়।

প্রতিদিনের অনুশীলন বা ম্যাচের আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্রেচিং করেন। বিশেষ করে ইলাস্টিক ব্যান্ড ব্যবহার করে পেশির নমনীয়তা বাড়ানোর কাজ করেন। এতে শরীর প্রস্তুত হয় এবং ইনজুরির ঝুঁকি কমে।

এছাড়া রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং তাঁর অন্যতম প্রিয় ব্যায়াম। মানসিক প্রশান্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে তিনি নিয়মিত প্রাণায়াম অনুশীলন করেন। এই অভ্যাস তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।

স্কটল্যান্ডের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন প্রমাণ করেছেন যে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স কোনো বাধা নয়। একাধিক গুরুতর চোট, পা ভাঙা এবং হাঁটুর সমস্যার পরও তিনি বারবার মাঠে ফিরেছেন।

তাঁর খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই খাবার তাঁকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শরীরের পেশি শক্তিশালী রাখতে তিনি নিয়মিত ওজন উত্তোলন এবং বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেচিং করেন। পাশাপাশি প্লাইওমেট্রিক ব্যায়াম তাঁর অন্যতম পছন্দ। এই ব্যায়াম শরীরের বিস্ফোরণধর্মী শক্তি বৃদ্ধি করে এবং দ্রুত গতির খেলায় বাড়তি সুবিধা দেয়।

ফুটবল, টেনিস এবং ব্যাডমিন্টনের মতো খেলায় এই ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার বহু বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত। গুরুতর চোটের পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর ক্যারিয়ার হয়তো শেষের পথে। কিন্তু তিনি দারুণভাবে ফিরে এসে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

নয়্যারের ফিটনেস রুটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যালান্স ট্রেনিং। গোলরক্ষকদের জন্য শরীরের ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই ব্যায়াম তাঁকে সেই সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মানসিক প্রশান্তির জন্য তিনি নিয়মিত মেডিটেশন করেন। খাদ্যতালিকায় মাছ ও মুরগির মাংসের পাশাপাশি গ্রিন টি রয়েছে। এছাড়া কলা তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। ম্যাচের সময় দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে অনেক সময় তাঁকে কলা খেতেও দেখা যায়।

বিশ্ব ফুটবলের এই অভিজ্ঞ তারকাদের জীবনযাপন বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি সাধারণ বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রথমত, তাঁরা সবাই নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট ফিটনেস পরিকল্পনা অনুসরণ করেন। দ্বিতীয়ত, খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে তাঁরা অত্যন্ত সচেতন। তৃতীয়ত, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সমান গুরুত্ব দেন। যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম কিংবা মেডিটেশনের মতো অভ্যাস তাঁদের মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শৃঙ্খলা। প্রতিদিন একই নিয়ম মেনে চলার অভ্যাসই তাঁদের অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, লুকা মদ্রিচ, ক্রেগ গর্ডন এবং ম্যানুয়েল নয়্যারের মতো তারকারা দেখিয়ে দিয়েছেন যে সঠিক জীবনযাপন, নিয়মিত অনুশীলন এবং মানসিক দৃঢ়তা থাকলে বয়স কখনও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। তাঁদের ফিটনেসের রহস্য শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই দীর্ঘদিন সক্রিয় ও কর্মক্ষম থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।