উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও বাগদা সীমান্ত ঘিরে বড়সড় অনুপ্রবেশ চক্রের খোঁজে নেমেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সবচেয়ে বড় অভিযোগ— এই চক্রের মূল ‘কিংপিন’ হিসেবে উঠে এসেছে এক পঞ্চায়েত সদস্যের নাম।
তদন্তকারীদের দাবি, সাহাবুদ্দিন মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তি বাইরে থেকে সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও, তার আড়ালেই চলছিল এই অবৈধ নেটওয়ার্ক। এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব এবং আর্থিক সামর্থ্য— দুই মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল এই চক্র।
শুধু সীমান্ত পার করানো নয়, বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।
বনগাঁ ও বাগদা এলাকায় এমন বেশ কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে কাঁটাতার নেই বা নজরদারি তুলনামূলক কম। কোথাও আবার নদীপথও রয়েছে। এই দুর্বল এলাকাগুলোকেই ‘ব্ল্যাকস্পট’ হিসেবে ব্যবহার করত সিন্ডিকেট।
সহজভাবে ভাবো— যেখানে পাহারা কম, সেখান দিয়েই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো করা হয়। এখানেও ঠিক সেটাই হয়েছে।
এই চক্র শুধু লোক ঢোকানোতেই থামত না। পুরো বিষয়টা ছিল একটা ‘প্যাকেজ ডিল’-এর মতো।
প্রথমে সীমান্ত পার করানো, তারপর সীমান্ত লাগোয়া গ্রামে লুকিয়ে রাখা। অনেক ক্ষেত্রে ভিড়া গ্রামেই আশ্রয় দেওয়া হতো। এরপর ভুয়ো কাগজ তৈরি করে তাদের কলকাতা বা দেশের অন্য বড় শহরে পাঠানো হত।
তদন্তে জানা গিয়েছে, সহযোগীরা গাড়িতে করে অনুপ্রবেশকারীদের হাওড়া স্টেশনে নিয়ে যেত। সেখান থেকে আবার অন্যদের মাধ্যমে দিল্লি, মুম্বই-সহ বিভিন্ন শহরে পৌঁছে দেওয়া হত।
এই সিন্ডিকেটে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে— খয়রুল, রানা, আজহারুল, রাজু ও রাশেদ। গোয়েন্দাদের মতে, এরা সকলে মিলে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল, যার শাখা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে।
মানে, এটা শুধু একটা গ্রামের সমস্যা নয়— পুরো একটা চেইন তৈরি হয়েছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই অনুপ্রবেশ চক্রের সঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপ বা তহবিল লেনদেনের কোনও যোগ আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে এনআইএ।
এই অংশটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যদি এমন যোগ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টা আরও বড় নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে।
ইতিমধ্যেই এনআইএ এই মামলার সমস্ত নথি নিজেদের হাতে নিতে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, সীমান্ত এলাকায় যেমন এই চক্র সক্রিয় ছিল, তেমনই কলকাতা ও দেশের অন্যান্য শহরেও রয়েছে নথি তৈরির ও আশ্রয়ের আলাদা নেটওয়ার্ক।
পুরো ঘটনাটা যদি সহজ করে বলি— সীমান্তের দুর্বল জায়গা, স্থানীয় যোগাযোগ আর টাকার লোভ— এই তিনে মিলে তৈরি হয়েছে একটা বড়সড় অনুপ্রবেশ চক্র।
এখন সবার নজর এক জায়গায়— এই তদন্ত থেকে আর কী কী নতুন তথ্য সামনে আসে, আর এর পেছনে আসল কারা জড়িত।

