খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটর

বিদ্বেষমূলক বা আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন না হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার কিংবা প্রকাশে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের...
Homeআইন ও অপরাধবিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটর

বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটর

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতের আদেশকে অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনার সব ধরনের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। বরং আদালত কেবল বিদ্বেষমূলক, উসকানিমূলক বা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বক্তব্যের প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

বিদ্বেষমূলক বা আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন না হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার কিংবা প্রকাশে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কেবল সেইসব বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো বিদ্বেষ ছড়ায়, বিচারিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করে বা ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আদালতের আদেশের ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, সাধারণ বক্তব্য প্রকাশের ওপর কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বক্তব্যের বিষয়বস্তু যদি আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী হয়, সেক্ষেত্রে তা প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতের আদেশকে অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনার সব ধরনের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। বরং আদালত কেবল বিদ্বেষমূলক, উসকানিমূলক বা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বক্তব্যের প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি এমন বক্তব্য দেন, যা আইনসম্মত এবং আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে না, তাহলে সেটি প্রকাশ বা প্রচারের ক্ষেত্রে আইনি বাধা নেই। ফলে বিষয়টি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বক্তব্যের প্রকৃতি ও বিষয়বস্তুকেই গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন :  Heatwave Horror: উত্তরপ্রদেশে ৮ হাজার মৃত্যুর আশঙ্কা, আতঙ্কে বিশেষজ্ঞরা!

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো এমন বক্তব্য প্রতিরোধ করা, যা সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে, বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে অথবা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো বক্তব্য যদি ঘৃণা ছড়ায়, সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করে অথবা বিচারাধীন বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তাহলে সেটি আদালতের আদেশের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য বা ব্যক্তিগত মতামত, যদি এসব সীমা অতিক্রম না করে, তাহলে তা প্রচারে আইনগত বাধা নেই।

ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। আদালতের নির্দেশনা মেনে এবং আইনগত সীমার মধ্যে থেকেই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।

তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বক্তব্য প্রকাশের আগে সেটি আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে VAR নাকি ভিলেন? এমবাপের পেনাল্টি মিসের আসল কারণ জানালেন হালান্ড!

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আগে দেখা যাক আদৌ কোনো বক্তব্য আসে কি না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখি। আসলে কোনো বক্তব্য দেয় নাকি সব ফাঁকা আওয়াজ

এ সময় তিনি হিন্দি ভাষায় “সব ঝুট হ্যায়” মন্তব্যও করেন, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার এই মন্তব্যকে সম্ভাব্য বিভিন্ন গুঞ্জব বা প্রচারিত তথ্যের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আদালতের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা বজায় রাখা। তিনি বলেন, যে ধরনের বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে কিংবা বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা তৈরি করে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

তার মতে, বিচারাধীন বিষয়ে এমন কোনো প্রচার হওয়া উচিত নয়, যা আদালতের প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করে বা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে সেই স্বাধীনতা আইন দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রয়োগ করতে হয়। আদালতের নির্দেশনাও সেই আইনগত কাঠামোর অংশ।

আরও পড়ুন :  সিঁথি সাহা ফিরলেন রোম্যান্টিক গান ‘বসন্তের কোকিল’ নিয়ে

তার ভাষায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেটি এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে আদালতের আদেশ অমান্য হয় বা বিচার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য, গুঞ্জব ও দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্য বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল শেখ হাসিনা নয়, যে কোনো ব্যক্তির বক্তব্যের ক্ষেত্রেই একই আইনগত নীতি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বক্তব্যের বিষয়বস্তু যদি আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন না করে এবং বিদ্বেষমূলক না হয়, তাহলে সেটি প্রচারে আইনগত বাধা থাকবে না।

ব্রিফিংয়ে মো. আমিনুল ইসলাম সবাইকে আদালতের আদেশ সম্পর্কে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনাকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে এবং সেটির ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, আইন ও আদালতের প্রতি সম্মান রেখে গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এতে বিচারিক প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন থাকবে এবং জনমনে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তিও তৈরি হবে না।