খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপে VAR নাকি ভিলেন? এমবাপের পেনাল্টি মিসের আসল কারণ জানালেন হালান্ড!

বিশ্বকাপে VAR নাকি ভিলেন? এমবাপের পেনাল্টি মিসের আসল কারণ জানালেন হালান্ড!

হালান্ডের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি মনে করেন এমন দীর্ঘ বিরতি কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই সুবিধাজনক নয়। পেনাল্টি এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে মানসিক দৃঢ়তা এবং মুহূর্তের আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত অপেক্ষা সেই স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে দিতে পারে।

বিশ্বকাপের উত্তেজনা যত শিখরে উঠছে, ততই বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক। মাঠে অসাধারণ গোল, নাটকীয় প্রত্যাবর্তন এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ‘ভার’ (VAR)। ফুটবলের এই প্রযুক্তি ন্যায্য সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার জন্য চালু হলেও চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক সিদ্ধান্ত ঘিরে সমর্থক, সাবেক ফুটবলার এবং বর্তমান তারকাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তিনি প্রকাশ্যে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, একটি পেনাল্টি নেওয়ার আগে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। তাঁর মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে— ‘ভার’ কি সত্যিই ফুটবলের উন্নতি করছে, নাকি খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে?

চলতি বিশ্বকাপে গোল বাতিল, অফসাইড, ফাউল এবং পেনাল্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বারবার ‘ভার’-এর সাহায্য নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রযুক্তির উদ্দেশ্য ভুল কমানো, অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নিতে অতিরিক্ত সময় লাগায় খেলোয়াড়দের মনোযোগ এবং ম্যাচের গতি দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সিদ্ধান্ত যদি কয়েক মিনিট ধরে ঝুলে থাকে, তাহলে ম্যাচের স্বাভাবিক উত্তেজনা নষ্ট হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।

ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে ফ্রান্স একটি পেনাল্টি পায়। তবে রেফারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে তিন মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যায়। ‘ভার’ রুমে একাধিক রিপ্লে দেখা এবং বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল যাচাই করার কারণে খেলা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে।

অবশেষে পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পেলেও কিলিয়ান এমবাপে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তাঁর শট প্রত্যাশামতো না হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ অপেক্ষা একজন খেলোয়াড়ের মানসিক প্রস্তুতি এবং একাগ্রতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান আর্লিং হালান্ড। এমবাপের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, একটি পেনাল্টি নেওয়ার আগে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করা সত্যিই অনেক দীর্ঘ সময়।

হালান্ডের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি মনে করেন এমন দীর্ঘ বিরতি কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই সুবিধাজনক নয়। পেনাল্টি এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে মানসিক দৃঢ়তা এবং মুহূর্তের আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত অপেক্ষা সেই স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে খেলোয়াড়দের আবেগ এবং মনোযোগ গভীরভাবে জড়িত। যখন কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়, তখন চাপ আরও বেড়ে যায়।

বিশেষ করে পেনাল্টির মতো পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় প্রথমে একটি মানসিক প্রস্তুতি নেন। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির কারণে সেই প্রস্তুতি ভেঙে যেতে পারে। অনেক কোচ এবং সাবেক ফুটবলারও মনে করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন হলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি আরও বাড়ানো উচিত।

হালান্ডের মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেক সমর্থক তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, ‘ভার’ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সিদ্ধান্ত নিতে অতিরিক্ত সময় নেওয়া উচিত নয়।

অন্যদিকে আরেকটি অংশ মনে করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় নেওয়াই ভালো। কারণ ভুল সিদ্ধান্ত একটি দলের পুরো বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দিতে পারে।

এই দুই মতের সংঘর্ষই দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এখনও ফুটবল বিশ্ব পুরোপুরি একমত নয়।

‘ভার’ চালুর পর থেকেই ফিফা বারবার জানিয়েছে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্পষ্ট ভুল কমিয়ে আনা। তবে চলতি বিশ্বকাপে সময়ক্ষেপণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতি নিয়ে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে নিয়ম পরিবর্তনের আলোচনাকে আরও জোরালো করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ‘ভার’ সিদ্ধান্ত দেওয়ার নিয়ম চালু হতে পারে। এতে প্রযুক্তির সুবিধাও বজায় থাকবে, আবার ম্যাচের গতিও ব্যাহত হবে না।

যদিও নরওয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান নিয়ে ব্যস্ত, তবুও হালান্ড প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সামনে তাঁদের জন্য কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারাতে হবে।

পরবর্তী পর্বে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা কিংবা ফ্রান্সের মতো দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই হালান্ড শুধু নিজের দলের প্রস্তুতিই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বীদের পারফরম্যান্সও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

ফুটবল এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রযুক্তিনির্ভর। গোললাইন প্রযুক্তি, সেমি-অটোমেটেড অফসাইড এবং ‘ভার’— সবই এসেছে খেলার মান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। তবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হালান্ডের মন্তব্য নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রযুক্তি যদি খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে, তাহলে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। তাই ভবিষ্যতে ফিফার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রযুক্তির নির্ভুলতা বজায় রেখে খেলার গতি ও উত্তেজনা অক্ষুণ্ণ রাখা।

কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি মিস এবং সেটিকে ঘিরে আর্লিং হালান্ডের প্রতিক্রিয়া বিশ্বকাপে ‘ভার’ বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। প্রযুক্তি ফুটবলকে আরও নির্ভুল করার সুযোগ এনে দিলেও অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ খেলোয়াড়ের মানসিক প্রস্তুতি ও ম্যাচের ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতেও ‘ভার’-এর প্রতিটি সিদ্ধান্ত তাই সমর্থক, খেলোয়াড় এবং বিশেষজ্ঞদের বাড়তি নজরে থাকবে।