খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রায় চার বছর ধরে কার্যকর থাকা...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালরাজধানীদল নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে পুলিশ- ডিএমপি কমিশনার

দল নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে পুলিশ- ডিএমপি কমিশনার

কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা। কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং কেবল আইনের ভিত্তিতেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জুন-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। অপরাধীকে কখনোই রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে বিবেচনা করা যাবে না। অপরাধী শুধুই অপরাধী, তার কোনো দল বা মত নেই।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। সবার জন্য সমান আইন নিশ্চিত করাই পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব।

সভায় রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকায় অপরাধ দমনে সক্রিয় থাকতে হবে।

বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, মাদককারবারি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং কোনোভাবেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া যাবে না।

তার মতে, পুলিশের ধারাবাহিক ও দৃশ্যমান তৎপরতা অপরাধ প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিএমপি কমিশনার প্রতিটি থানার কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিয়মিত টহল, সন্দেহভাজন অপরাধীদের নজরদারিতে রাখা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি থানাকে নিজেদের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার ওপর।

পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে পুরস্কার ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, যারা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের ভালো কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। কর্মক্ষেত্রে সফলতা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের জন্য পুরস্কার প্রদান অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসদাচরণ কিংবা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বহীন আচরণ সহ্য করা হবে না। প্রতিটি সদস্যকে পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করাও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

জুন-২০২৬ মাসের কর্মমূল্যায়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব সম্মাননা প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের আরও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, রাজধানীর সব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় অপরাধ প্রতিরোধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, বরং গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিটকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।