রাজধানীর মিরপুর-১০ ফলপট্টি এলাকায় অনুষ্ঠিত এক জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায়কে অবৈধ ঘোষণা করা হলে সরকার ও সংসদের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ দাবিতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতারাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তাই এখন গণভোটকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদও অবৈধ। গোস্ত হালাল হলেও ঝোল হারাম হওয়ার সুযোগ নেই। তাই গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম। আর সরকার হারাম হলে দেশে কোনো বৈধ সরকার নেই।”
জামায়াত আমির বলেন, জনগণের মতামতের ঊর্ধ্বে কিছু নেই। প্রয়োজনের তাগিদে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটিকে সম্মান জানিয়ে সরকারকে আর বিলম্ব না করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল। তাই সরকারের উচিত জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং তাদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লব বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে এসেছে। খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণরায় উপেক্ষা করা হলে তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। তাই দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান এবং আব্দুর রহমান মূসা।
এছাড়া বক্তব্য দেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি শান্ত তালুকদার, জুলাই শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান এবং আরেক শহীদের পিতা মোশাররফ হোসেন।

