ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এখনও দেশের মূল ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষার প্রবেশ না ঘটলেও, একাধিক রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই বৃষ্টির প্রভাব কি পশ্চিমবঙ্গেও পড়বে?
সাধারণত কেরালা উপকূল দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার প্রবেশ ঘটে। এ বছর সেই আগমন কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে তাঁদের মতে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারে।
বর্ষার আনুষ্ঠানিক আগমন না হলেও ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর্দ্রতা বৃদ্ধি, নিম্নচাপজনিত পরিস্থিতি এবং বায়ুমণ্ডলের সক্রিয়তার কারণে একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে চলতি সপ্তাহে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। যেসব রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অসম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং মিজোরাম।
এই অঞ্চলগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বর্ষণের পাশাপাশি কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও আবহাওয়া ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কেরালা, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং কর্ণাটকের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
এছাড়াও আরব সাগর সংলগ্ন লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জেও প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ আপাতত সেই তালিকায় নেই। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে চলতি সপ্তাহে বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে পরিষ্কার থাকতে পারে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বা মাঝারি বৃষ্টি হলেও তা সামগ্রিকভাবে গরমের পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারবে না।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় গরম এবং উচ্চ আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চলতি সপ্তাহ জুড়েই বজায় থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে।
ফলে বৃষ্টির আশায় থাকা মানুষের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর নেই। আবহাওয়াবিদদের মতে, উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে গরমের তীব্রতা ও অস্বস্তি আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে, ফলে গরমের হাত থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে ভারতের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির সক্রিয়তা বাড়লেও পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে, বড় ধরনের বর্ষণের সম্ভাবনা আপাতত কম। উত্তর-পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির মুখোমুখি হতে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষিণবঙ্গে গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশের দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। কারণ মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির ওপরই আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়ার চিত্র অনেকটাই নির্ভর করবে।

