খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে যশোরে কৃষক মুক্তি সংগ্রামের অবস্থান কর্মসূচি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় পরিবেশ ও জনজীবন সংকট হিসেবে পরিচিত ভবদহের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আগামীকাল (৩ আগস্ট) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে...
Homeবিশ্ব সংবাদউত্তেজনার আশঙ্কায় ইরান হামলা থেকে সরে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

উত্তেজনার আশঙ্কায় ইরান হামলা থেকে সরে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

বর্তমান পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা শান্ত মনে হলেও এর পেছনে এখনো বহু অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধ, সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস ভবিষ্যতে আবারও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরে এসেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করার বিষয় নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা শান্ত মনে হলেও এর পেছনে এখনো বহু অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধ, সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস ভবিষ্যতে আবারও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ সামনে আসছে। কেউ বলছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আবার কেউ মনে করছেন, বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি বিবেচনা করেই ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত সামরিক পথ থেকে আপাতত সরে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো রস হ্যারিসন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প কেন সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে কী ধরনের বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে বা কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে এই বৈঠকগুলো হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

রস হ্যারিসনের মতে, ইরান এই ঘটনাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করতে পারে। তেহরানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন একটি ইঙ্গিত হতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি নিতে চায়নি।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সেই বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটার ঘটনাকে তারা নিজেদের কৌশলগত অবস্থানের একটি সাফল্য হিসেবেও তুলে ধরতে পারে।

সাম্প্রতিক সংকটের সময় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়। বিশেষ করে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং ওমান পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ উত্তেজনা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা বা লিখিত চুক্তির ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা হামলা স্থগিত করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং স্পষ্ট কূটনৈতিক সমঝোতাই হতে পারে স্থায়ী শান্তির ভিত্তি।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।

এর ফলে এই জলপথে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা অবরোধ সৃষ্টি হলে সেটা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনও পুরোপুরি এক নয়। আর এই মতপার্থক্য ভবিষ্যতে আবারও নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

রস হ্যারিসনের মতে, গত কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার অন্যতম কারণ ছিল জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধ।

তার দাবি, ইরান ওই সমঝোতার একটি ধারাকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা বেশি গুরুত্ব পায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে। ওমানের সহায়তায় আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে প্রণালির দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়, যা ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

এই ভিন্ন ব্যাখ্যাই পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করছেন তিনি।

রস হ্যারিসনের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবরোধসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে স্পষ্ট সমঝোতা না হলে বর্তমান পরিস্থিতি কেবল সাময়িক বিরতি হিসেবেই বিবেচিত হবে।

তার ভাষায়, এখনকার এই বিরতি ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের আগে একটি অস্থায়ী শান্তির সময়ও হতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়।

যদি এই পথ কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায় বা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং বিভিন্ন দেশের আমদানি খরচও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ, এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের অর্থনীতিও এ ধরনের সংঘাতের কারণে চাপের মুখে পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট বিদ্যমান। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শুধু দুই দেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং মানবিক পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তাই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর আন্তর্জাতিক মহল জোর দিচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, পরবর্তী কয়েক দিন বা সপ্তাহ পরিস্থিতির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যদি উভয় পক্ষ আলোচনার সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পারস্পরিক দায়িত্ব নিয়ে একটি সুস্পষ্ট সমঝোতায় আসতে পারে, তাহলে উত্তেজনা কমতে পারে।

তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে অথবা নতুন কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক ঘটনা ঘটলে সার্বিক অবস্থা আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।