দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ দুপুরের মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্ভাব্য এই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং স্থানীয় আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে দেশের কিছু অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তাই নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, জেলে, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এর পাশাপাশি একই সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত একসঙ্গে হলে স্বাভাবিক জনজীবন কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযানগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সম্ভাব্য ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এই সংকেতের অর্থ হলো, নদীপথে আবহাওয়ার সাময়িক অবনতি ঘটতে পারে এবং দমকা বাতাস বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সতর্ক সংকেত জারি করা হলে মাঝি-মাল্লা এবং নৌযান পরিচালনাকারীদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা উচিত। প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে নোঙর করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
বর্তমানে বাংলাদেশে বর্ষাকাল চলছে। এই সময়ে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। একইসঙ্গে স্থানীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে মেঘের সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় স্বল্প সময়ের মধ্যে কালো মেঘ জমে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দিনের যেকোনো সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কখনো কয়েক মিনিটের মধ্যেই আকাশ পরিষ্কার থেকে কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং ঝড়ো বাতাস শুরু হয়। তাই এই সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় ধান, সবজি কিংবা অন্যান্য ফসল মাঠে রয়েছে, সেখানে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে কাটা ফসল দ্রুত নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
এছাড়া কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। খোলা মাঠে অবস্থান করা বা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
নদীপথে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং নৌযানের চালকদের জন্য আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ঝড়ো হাওয়ার সময় ছোট নৌযান সহজেই নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া নদীপথে যাত্রা না করাই ভালো।
যদি কোনো নৌযান ইতোমধ্যে নদীতে অবস্থান করে, তাহলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নোঙর করার চেষ্টা করতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বজ্রসহ বৃষ্টির সময় কিছু সাধারণ সতর্কতা অনুসরণ করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রথমত, বজ্রপাত শুরু হলে খোলা মাঠ, নদী, পুকুর কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুতের খুঁটি, বড় গাছ বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। তৃতীয়ত, ঘরের ভেতরে অবস্থান করলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত। এছাড়া মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, শহরাঞ্চলেও ঝড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। দমকা বাতাসে দুর্বল বিলবোর্ড, টিনের চাল কিংবা গাছের ডাল ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো।
মোটরসাইকেল আরোহী, রিকশাচালক এবং পথচারীদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঝড়ের সময় গাছের নিচে দাঁড়ানো কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির আশপাশে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্বাভাসেও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী, জেলে, কৃষক এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

