খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

টাঙ্গাইলে মধুপুরে ঘরে ঢুকে বিএনপি নেতার মাকে কুপিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ঘরে ঢুকে জালেমন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার শোলাকুড়ী...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়ঢাকায় আসছে মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দল: সার্জিও গোর

ঢাকায় আসছে মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দল: সার্জিও গোর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সার্জিও গোর। তিনি জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

ঢাকায় আসছে মার্কিন ব্যবসায়ী বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দল: সার্জিও গোর

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা আরও সক্রিয় হতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যেই আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের একটি দল ঢাকা সফরে আসছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সার্জিও গোর। তিনি জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সার্জিও গোর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।

তার ভাষায়, বৈঠকে এমন অনেক বিষয় উঠে এসেছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সার্জিও গোর জানান, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একদল ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এই প্রতিনিধি দলে এমন সব কোম্পানির প্রতিনিধিরা থাকবেন, যারা বাংলাদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন খাত সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেবেন। তারা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করবেন।

তার মতে, বাংলাদেশে শিল্প, প্রযুক্তি, উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ একাধিক খাতে বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এসব সম্ভাবনা যাচাই করতেই মার্কিন প্রতিনিধি দলটির এই সফর।

সার্জিও গোর আরও বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) শিথিল করা হয়েছে। এটি কেবল পর্যটকদের জন্য নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

তার মতে, যখন কোনো দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন দেওয়া হয়, তখন বিদেশি নাগরিকদের সেই দেশে ভ্রমণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি কমানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আরও বেশি পর্যটক, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ সহজ হবে।

বিশেষ দূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি। এখানকার তরুণ জনগোষ্ঠী, উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজার এবং শিল্পায়নের গতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দু’দেশই লাভবান হবে। নতুন বিনিয়োগে, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবে বংলাদেশ, তেমনি নতুন বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোও ।

সার্জিও গোর বিশেষভাবে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই খাতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

তবে তিনি শুধু ওষুধ শিল্পেই সম্ভাবনা সীমাবদ্ধ রাখেননি। তার মতে, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো এবং উৎপাদন শিল্পসহ আরও বহু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

তিনি বলেন, যে খাতেই সহযোগিতার সুযোগ থাকুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সার্জিও গোর বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হচ্ছে পারস্পরিক আস্থা। তিনি মনে করেন, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়লে সেই আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

তার ভাষায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতোমধ্যেই বহু ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করা এবং নতুন নতুন খাতে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ প্রমাণ করছে যে উভয় দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আন্তরিক।

বিশেষ দূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগ আসুক। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও আরও সম্প্রসারিত হোক।

তিনি বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী এবং সেই কারণেই তারা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহী।

সার্জিও গোরের মতে, মার্কিন ব্যবসায়ীদের এদেশে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, স্থানান্তর হবে প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী হবে বাংলাদেশের অর্থনীতিও

সার্জিও গোর বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। দুই দেশের সরকার এবং ব্যবসায়ী মহল যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আমাদের মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা কাজ করছি এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।

আগামী সপ্তাহে মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর করবেন। সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমার সফরের মাধ্যমে কাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও বাড়বে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করছেন। তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা