Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeট্রেন্ডিং নিউজবাইক বা স্কুটি চালান? সঠিক হেলমেট বেছে জীবন বাঁচান, কোন ধরনের হেলমেট...

বাইক বা স্কুটি চালান? সঠিক হেলমেট বেছে জীবন বাঁচান, কোন ধরনের হেলমেট সবচেয়ে নিরাপদ জানুন

সড়ক দুর্ঘটনা কখনও আগাম সতর্ক করে আসে না। কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করলে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

বাইক বা স্কুটি আজ শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, অনেকের কাছে এটি শখ, স্বাধীনতা এবং ভ্রমণের সঙ্গী। কিন্তু যতই আধুনিক বা দামি বাইক হোক, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো হেলমেট। একটি ভালো মানের হেলমেট দুর্ঘটনার সময় প্রাণঘাতী আঘাত থেকে মাথাকে রক্ষা করতে পারে। তাই শুধুমাত্র রং, ডিজাইন বা স্টাইল দেখে নয়, নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই হেলমেট নির্বাচন করা উচিত।

সড়ক দুর্ঘটনা কখনও আগাম সতর্ক করে আসে না। কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করলে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তাই হেলমেট শুধু আইন মানার জন্য নয়, নিজের জীবন রক্ষার জন্যও অপরিহার্য।

হেলমেট কেনার সময় অবশ্যই দেখতে হবে সেটি আন্তর্জাতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী সার্টিফায়েড কি না। সঠিক মাপের হেলমেট না হলে দুর্ঘটনার সময় তা সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

বর্তমানে সবচেয়ে নিরাপদ হেলমেট হিসেবে ফুল-ফেস হেলমেটকে বিবেচনা করা হয়। এই ধরনের হেলমেট মাথা, কপাল, গাল, চোয়াল এবং থুতনি সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখে।

এর সামনে স্বচ্ছ ভিজার বা কভার থাকে, যা ধুলোবালি, পোকামাকড়, ছোট পাথর কিংবা বাতাস থেকে চোখকে রক্ষা করে। দুর্ঘটনার সময় চোয়াল ও মুখের অংশও সুরক্ষিত থাকে, যা অন্য অনেক হেলমেটে সম্ভব হয় না।

যারা প্রতিদিন বাইক চালান বা দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য ফুল-ফেস হেলমেট সবচেয়ে উপযোগী।

মডুলার হেলমেটকে অনেকেই ফ্লিপ-আপ হেলমেট নামে চেনেন। এটি মূলত ফুল-ফেস হেলমেটের মতো হলেও সামনের অংশ ওপরে তোলা যায়।

যানজটে দাঁড়িয়ে থাকলে, কারও সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে বা গরম অনুভব করলে পুরো হেলমেট খোলার দরকার পড়ে না। শুধু সামনের অংশটি ওপরে তুললেই কাজ হয়ে যায়।

ভালো মানের মডুলার হেলমেট মাথা, চোখ এবং থুতনির পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেয়। যারা আরাম ও আধুনিক ডিজাইনের পাশাপাশি নিরাপত্তাও চান, তাদের জন্য এটি চমৎকার একটি বিকল্প।

ওপেন-ফেস হেলমেট বা খোলা-মুখের হেলমেট শহরের মধ্যে স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

এতে মাথার পেছনের অংশ, কপাল এবং কান সুরক্ষিত থাকে। তবে থুতনির অংশ খোলা থাকে। অধিকাংশ মডেলে স্বচ্ছ ভিজার থাকে, যা চোখ ও মুখকে ধুলোবালি থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়।

যাত্রী হিসেবে বাইকের পেছনে বসার জন্যও অনেকেই এই ধরনের হেলমেট ব্যবহার করেন। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ফুল-ফেস হেলমেটের তুলনায় কম কার্যকর।

অনেক চালক হেলমেট পরতে অস্বস্তি অনুভব করেন। তাদের মধ্যে হাফ হেলমেটের জনপ্রিয়তা বেশি।

এই হেলমেট শুধুমাত্র মাথার উপরের অংশ ঢেকে রাখে। বাতাস চলাচলের সুযোগ বেশি থাকায় গরম আবহাওয়ায় এটি তুলনামূলক আরামদায়ক।

তবে বাস্তবতা হলো, দুর্ঘটনার সময় মুখ, চোয়াল এবং মাথার বড় অংশ উন্মুক্ত থাকায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হাফ হেলমেটকে আদর্শ বিকল্প বলা যায় না।

যারা পাহাড়ি রাস্তা, গ্রামীণ পথ বা দীর্ঘ বাইক ট্যুরে যেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ডুয়াল-স্পোর্ট হেলমেট বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

এই হেলমেটের উপরের দিকে একটি ছাউনি বা ভিসর থাকে, যা সূর্যের আলো সরাসরি চোখে পড়া কমায়। একই সঙ্গে উড়ে আসা ছোট ডালপালা, পাথর বা অন্যান্য বস্তুর আঘাত থেকেও সুরক্ষা দেয়।

এর ভিজার সাধারণ ফুল-ফেস হেলমেটের তুলনায় বড় হয়, ফলে চারপাশ ভালোভাবে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য এতে উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা থাকে, যা চালককে স্বস্তি দেয়।

দূরপাল্লার রাইডারদের কাছে এই হেলমেট অত্যন্ত জনপ্রিয়।

অফ-রোড বা মোটোক্রস হেলমেট তৈরি করা হয়েছে দুর্গম ও অসমতল পথে চলাচলের জন্য।

এই হেলমেটের থুতনির অংশ সামনের দিকে কিছুটা বেরিয়ে থাকে, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া সহজ হয়। এছাড়া সামনের অংশে বিশেষ সান ভিজার থাকে, যা তীব্র রোদ থেকে চোখকে রক্ষা করে।

পাহাড়ি রাস্তা, কাদা-মাটি বা অ্যাডভেঞ্চার রাইডিংয়ের জন্য এই ধরনের হেলমেট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

একটি হেলমেট দেখতে সুন্দর হলেই তা নিরাপদ হবে, এমন নয়। কেনার সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।

প্রথমত, হেলমেটের নিরাপত্তা সার্টিফিকেশন পরীক্ষা করুন।

দ্বিতীয়ত, মাথার মাপ অনুযায়ী সঠিক সাইজ নির্বাচন করুন। খুব ঢিলা বা খুব টাইট হেলমেট কোনো ক্ষেত্রেই ভালো নয়।

তৃতীয়ত, ভেতরের প্যাডিং, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্ট্র্যাপের মান যাচাই করুন।

চতুর্থত, ভিজার পরিষ্কার ও স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী কি না তা দেখুন।

নিরাপত্তার বিচারে ফুল-ফেস হেলমেট এখনো সবার শীর্ষে। কারণ এটি মাথা ও মুখের প্রায় পুরো অংশ ঢেকে রাখে এবং দুর্ঘটনার সময় সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেয়।

তবে ব্যবহার, ভ্রমণের ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মডুলার, ডুয়াল-স্পোর্ট কিংবা অফ-রোড হেলমেটও চমৎকার বিকল্প হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে হেলমেটই ব্যবহার করুন না কেন, সেটি যেন মানসম্পন্ন, সার্টিফায়েড এবং সঠিক মাপের হয়।

বাইক চালানোর আনন্দ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। একটি ভালো হেলমেট শুধু আইন মেনে চলার উপকরণ নয়, এটি আপনার জীবনের সুরক্ষাকবচ। তাই নতুন বাইক কেনার সঙ্গে সঙ্গে একটি মানসম্পন্ন হেলমেট কেনাকেও সমান গুরুত্ব দিন। মনে রাখবেন, দুর্ঘটনা এড়ানো সব সময় সম্ভব না হলেও সঠিক হেলমেট আপনার জীবন বাঁচাতে পারে।