Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলপিএসজির ঐতিহাসিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, ফ্রান্সজুড়ে উচ্ছ্বাস থেকে সহিংসতা—শত শত গ্রেপ্তার

পিএসজির ঐতিহাসিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, ফ্রান্সজুড়ে উচ্ছ্বাস থেকে সহিংসতা—শত শত গ্রেপ্তার

কিন্তু আনন্দ উদযাপনের সেই পরিবেশ খুব দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায় যোগ করেছে Paris Saint-Germain। টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করেছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে দেশজুড়ে চার শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে Arsenal F.C.-কে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পরপরই ফ্রান্সের রাজধানী Paris-সহ বিভিন্ন শহরে উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা। হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী রাস্তায় নেমে বিজয় উদযাপন শুরু করেন। আতশবাজি, ফ্লেয়ার এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

কিন্তু আনন্দ উদযাপনের সেই পরিবেশ খুব দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

উদযাপনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফ্লেয়ার জ্বালানো হচ্ছে, রাস্তায় ইলেকট্রিক মোটরবাইক পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু দোকানের কাচ ভাঙচুর করা হচ্ছে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অশান্তির সময় অন্তত ছয়টি যানবাহন, দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি বাস শেল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বাস ও রেল যোগাযোগেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্যারিস থেকে।

সংঘর্ষের সময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Laurent Nuñez এই পরিস্থিতিকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফুটবল জয়ের আনন্দ কখনোই জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে না।

ফ্রান্সে ফুটবল ঘিরে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। গত বছরও পিএসজির ইউরোপীয় শিরোপা জয় উদযাপনের সময় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় এক কিশোরসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছিল।

এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ক্রীড়া সাফল্যের পর উচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল Budapest-এ। নির্ধারিত সময়ে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।

রুদ্ধশ্বাস সেই শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় পিএসজি। ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতার শিরোপা নিজেদের করে নেয় ফরাসি ক্লাবটি।

এর এক বছর আগে তারা ফাইনালে Inter Milan-কে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা ধরে রাখার ভিত্তি তৈরি করেছিল।

এই জয়ের মাধ্যমে পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যুগে টানা দুইবার শিরোপা জয়ী মাত্র দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখায়। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিল Real Madrid CF।

শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৭১ বছরের ইতিহাসে মাত্র দশম ক্লাব হিসেবে পরপর দুই মৌসুমে শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েছে পিএসজি।

এই অর্জন প্রমাণ করে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে দলটি কতটা শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

পিএসজির প্রধান কোচ Luis Enrique-এর অধীনে দলটি গত দুই মৌসুমে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা সম্ভাব্য ১০টি ট্রফির মধ্যে ৮টিই জিতেছে।

শিরোপা জয়ের পর এনরিক বলেন, এই সাফল্য তাকে একই সঙ্গে উচ্ছ্বসিত ও আবেগাপ্লুত করেছে। তার মতে, টানা দুইবার ইউরোপের সেরা হওয়া একটি অসাধারণ অর্জন এবং এটি পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফল।

ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে মাঠে নামা পিএসজির বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই আগের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। এই ধারাবাহিকতা ও দলগত বোঝাপড়া ক্লাবটির সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দলের একমাত্র উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছিল গোলপোস্টে। নতুন গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভ দলে যোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

পিএসজির সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আগামী মৌসুমেও যদি তারা শিরোপা জিততে পারে, তাহলে ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী বিরল ক্লাবগুলোর তালিকায় নিজেদের নাম লেখাবে।

তবে সেই পথে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রেকর্ড। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে টানা পাঁচবার ইউরোপীয় কাপ জিতে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি, তা এখনও অক্ষত রয়েছে।

পিএসজির টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় নিঃসন্দেহে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম বড় ঘটনা। মাঠের পারফরম্যান্সে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। কিন্তু এই আনন্দ উদযাপন ঘিরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে যে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে, তা শিরোপা জয়ের উজ্জ্বল মুহূর্তকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে।

ফুটবল আবেগের খেলা, কিন্তু সেই আবেগ যখন নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন তা উৎসবকে সংকটে পরিণত করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এমন বড় অর্জনের আনন্দ যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, সেটিই এখন ফ্রান্সের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।