Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডআইপিএল স্পেশালআইপিএল ২০২৬ ফাইনাল: টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নে আরসিবি, চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত...

আইপিএল ২০২৬ ফাইনাল: টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নে আরসিবি, চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত গুজরাট টাইটানস

ফাইনালে জয় পেলে আরসিবি টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হবে। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংস এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। ফলে রজত পাতিদারের নেতৃত্বাধীন দলটির সামনে রয়েছে অভিজাত ক্লাবে জায়গা করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬-এর মহারণ আজ। গতবারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি) মুখোমুখি হচ্ছে শক্তিশালী গুজরাট টাইটানসের। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ফাইনাল ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুঙ্গে উত্তেজনা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুধু ট্রফিই নয়, ইতিহাস গড়ার সুযোগও রয়েছে দুই দলের সামনে।

গত বছর ঠিক এই নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল ট্রফি জিতেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার পর শিরোপা হাতে তুলে নেওয়া সেই দল এবার আরও বড় কৃতিত্বের সামনে দাঁড়িয়ে।

ফাইনালে জয় পেলে আরসিবি টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হবে। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংস এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। ফলে রজত পাতিদারের নেতৃত্বাধীন দলটির সামনে রয়েছে অভিজাত ক্লাবে জায়গা করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।

আইপিএল ২০২৬-এর লীগ পর্বে আরসিবি এবং গুজরাট টাইটানস—দুই দলই ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছিল। তবে উন্নত নেট রান রেটের কারণে শীর্ষস্থান দখল করে ব্যাঙ্গালুরু।

প্রথম কোয়ালিফায়ারে ধরমশালায় দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে গুজরাটকে ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আরসিবি। অন্যদিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় গুজরাট টাইটানস।

গুজরাট টাইটানসের সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি তাদের দুই ওপেনার শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শন। পুরো মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিক ব্যাটিং করে দুজনই অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন।

শুভমান গিল ইতিমধ্যেই ৭২২ রান সংগ্রহ করেছেন, আর সাই সুদর্শনের ঝুলিতে রয়েছে ৭১০ রান। বিশেষ করে রাজস্থানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গিলের ৫৩ বলে ১০৪ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস গুজরাটকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।

শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিং বিভাগেও রয়েছে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গুজরাটের প্রধান অস্ত্র কাগিসো রাবাদা ২৮ উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপের দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন।

তবে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন আরসিবির অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ফাইনালের আগে পর্যন্ত তিনি তুলে নিয়েছেন ২৬টি উইকেট। ফলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এই দুই বোলারের পারফরম্যান্স ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

এবারের আইপিএলে আরসিবির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং ইউনিট। বিরাট কোহলি, দেবদত্ত পাডিক্কাল, অধিনায়ক রজত পাতিদার, ফিল সল্ট, টিম ডেভিড এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপ প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে তারা বড় স্কোর গড়েছে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে। ফাইনালেও এই তারকাদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে আরসিবি সমর্থকরা।

যদিও তার দল রাজস্থান রয়্যালস ফাইনালে উঠতে পারেনি, তবুও এবারের আইপিএল দীর্ঘদিন মনে থাকবে ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সুরিয়াবংশীর জন্য।

অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতায় পুরো টুর্নামেন্ট কাঁপিয়ে দিয়েছেন এই তরুণ। এখন পর্যন্ত তার সংগ্রহ ৭৭৬ রান, যা তাকে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে। ফাইনালে গিল বা সুদর্শন তাকে টপকে যেতে না পারলে তিনিই হবেন এবারের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

শুধু রানই নয়, সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরে তিনি ভেঙেছেন কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। আরও অবাক করার বিষয় হলো, তার এই রান এসেছে ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং খুব কমই দেখা যায়।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে প্রথম এলিমিনেটরে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি প্রায় একাই ম্যাচ জিতিয়ে দেন। অল্পের জন্য হাতছাড়া হয় আইপিএলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

এছাড়া লীগ পর্বে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি এবং দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ৯৬ রানের আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস তাকে ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

বৈভব সুরিয়াবংশীর ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা। শচীন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড় এবং সুনীল গাভাস্কারের মতো তারকারা প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করেছেন।

শুধু ভারত নয়, পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের মুখেও শোনা যাচ্ছে তার প্রশংসা। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেন এই তরুণ।

এবারের আইপিএলের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি ছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যর্থতা। মৌসুমের শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল দলটি।

১৪ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৪টিতে জয় পেয়ে তারা সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া দলগুলোর একটি হয়ে যায়।

এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে যশপ্রীত বুমরাহর খারাপ ফর্ম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে পরিচিত বুমরাহ এবার ১৩ ম্যাচে মাত্র ৪টি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন। তার বোলিং গড়ও ছিল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপগুলোর মধ্যে একটি।

পাঞ্জাব কিংস মৌসুমের প্রথম দিকে টানা ছয় ম্যাচে অপরাজিত থেকে প্লে-অফের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এরপরই ঘটে অবিশ্বাস্য পতন। টানা ছয় ম্যাচ হেরে তারা শেষ পর্যন্ত প্লে-অফের স্বপ্ন ভেঙে ফেলে।

অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সও শুরুতে ভয়াবহ পারফরম্যান্স করে। প্রথম ছয় ম্যাচে একটিও জয় না পাওয়ায় তাদের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ সাত ম্যাচের ছয়টিতে জয় পেয়ে তারা আবার লড়াইয়ে ফিরে আসে।

তবুও শেষ পর্যন্ত প্লে-অফ নিশ্চিত করতে পারেনি কেকেআর। দলের বোলিং বিভাগে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেওয়া হলেও নানা কারণে তাকে পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতে, এই বিষয়টিও কেকেআরের বোলিং দুর্বলতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একদিকে অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস এবং শক্তিশালী ব্যাটিং নিয়ে মাঠে নামছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। অন্যদিকে দুরন্ত ফর্মে থাকা শুভমান গিল, সাই সুদর্শন এবং কাগিসো রাবাদাকে ভরসা করে লড়াইয়ে নামবে গুজরাট টাইটানস।

দুই দলই পুরো মৌসুমে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। তাই ফাইনালে কে জিতবে, তা আগেভাগে বলা কঠিন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—আইপিএল ২০২৬-এর এই মহারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য হতে চলেছে রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং উচ্চমানের ক্রিকেটে ভরপুর এক স্মরণীয় রাত।