খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালভাইরাল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ কিনলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের পরিকল্পনা

ভাইরাল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ কিনলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের পরিকল্পনা

ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রতি বছরই কোরবানির পশুর বাজারে কিছু ব্যতিক্রমী পশু আলোচনায় আসে। তবে এবার বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত যেটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল, সেটি হলো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে পরিচিত একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষ। সাদা রঙের এই মহিষটি তার অদ্ভুত চেহারা ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের কারণে মুহূর্তেই মানুষের নজর কাড়ে। আর এবার জানা গেল, ভাইরাল হওয়া সেই মহিষটি কোরবানি না দিয়ে সরকারি তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মহিষটিকে নিজ উদ্যোগে কিনে নিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বিরল প্রজাতির এই অ্যালবিনো মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণ করা হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ

ঈদুল আজহার আগে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে লাখ লাখ গরু-মহিষ উঠলেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটি আলাদাভাবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। মূলত মহিষটির সাদা চুল, উজ্জ্বল চোখ এবং অস্বাভাবিক গায়ের রঙের কারণেই এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা এই মহিষটিকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় প্রাণীটি। শুধু দেশেই নয়, বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই মজা করেই মহিষটির নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে সেই নামই সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে যায়।

কোরবানি নয়, সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত

প্রথমদিকে ধারণা করা হচ্ছিল ঈদুল আজহায় মহিষটিকে কোরবানি দেওয়া হবে। কিন্তু ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটিকে কোরবানি না দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় বুধবার মহিষটিকে তার বর্তমান মালিকের বাসা থেকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে সেটিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাইরাল হয়ে যাওয়ার কারণে মহিষটিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। একই সঙ্গে এটি বিরল প্রজাতির হওয়ায় সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প নামে পরিচিত এই মহিষটি অত্যন্ত বিরল প্রজাতির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। কোরবানির সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমি নিজেই মহিষটি কিনে নিয়েছি। বর্তমানে এটি একটি খামারে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

কীভাবে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হলো মহিষটি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকায় মহিষটির বর্তমান মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে মালিক স্বেচ্ছায় প্রাণীটিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মতি দেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, প্রথমে মহিষটিকে নারায়ণগঞ্জে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। এখন এটিকে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রাণীটি বিরল হওয়ায় সংরক্ষণের দিকটিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচনায়

বাংলাদেশে একটি মহিষকে ঘিরে এমন আগ্রহ এর আগে খুব কমই দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ফলে এটি শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বিদেশেও ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো প্রাণী সাধারণত খুব কম দেখা যায়। জেনেটিক কারণে এ ধরনের প্রাণীর শরীরে স্বাভাবিক রঙ তৈরি হয় না। ফলে তাদের গায়ের রঙ সাদা বা ফ্যাকাশে হয়ে থাকে। এ কারণেই অ্যালবিনো মহিষগুলোকে অনেক সময় বিরল প্রজাতির প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে রয়েছে আরও অ্যালবিনো মহিষ

খামার মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ মাস আগে রাজশাহীর একটি পশুর হাট থেকে তারা এই মহিষটি সংগ্রহ করেন। পরে ধীরে ধীরে এটি বড় হতে থাকে এবং সবার নজরে আসে।

তিনি জানান, তাদের খামারে আরও ছয়টি অ্যালবিনো মহিষ রয়েছে। তবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

খামার কর্তৃপক্ষ বলছে, এত বড় পরিসরে একটি মহিষের পরিচিতি পাওয়ার ঘটনা তাদের জন্যও নতুন অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন শত শত মানুষ শুধু এক নজর মহিষটিকে দেখতে খামারে আসতেন।

চিড়িয়াখানায় রাখা হলে বাড়বে আকর্ষণ

সরকার যদি শেষ পর্যন্ত মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণ করে, তাহলে এটি দর্শনার্থীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু ও প্রাণীপ্রেমীদের কাছে এটি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।

একই সঙ্গে বিরল প্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে মানুষের সচেতনতাও বাড়বে। কারণ সাধারণত এ ধরনের প্রাণী খুব কম দেখা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক পরিচর্যার অভাবে টিকে থাকতে পারে না।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একটি বিরল প্রাণীকে কোরবানি না দিয়ে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সেটি দেখার সুযোগ পাবে।

সব মিলিয়ে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল হওয়া মহিষটি এখন আর শুধু একটি কোরবানির পশু নয়। এটি পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম আলোচিত প্রাণীতে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন—সবার মধ্যেই তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।