শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে ভারতীয় দলে জায়গা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চোটের কারণে সাই সুদর্শন সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ায় তাঁর পরিবর্ত হিসেবে কাকে দলে নেওয়া হবে, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সরফরাজ খান।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করেও দীর্ঘদিন ভারতীয় টেস্ট দলে ব্রাত্য হয়ে থাকা সরফরাজ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্ট ঘিরে ক্রিকেটমহলে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। আর তার পরেই সুদর্শনের চোটের খবর সামনে আসায় সরফরাজের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজে সাই সুদর্শনকে পাওয়া যাবে না। চোটের কারণে তাঁকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মেডিক্যাল টিম।
তাঁর পরিবর্ত হিসেবে কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে তাঁদের মধ্যে সরফরাজ খান অন্যতম প্রধান দাবিদার। পাশাপাশি সাইক রশিখের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে সরফরাজের দাবি যথেষ্ট শক্তিশালী।
ভারতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সরফরাজের ব্যাট নিয়মিত কথা বলেছে।
রণজি ট্রফি থেকে বিজয় হাজারে ট্রফি—বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় রান করেছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর পরিসংখ্যানও যথেষ্ট নজরকাড়া।
৬২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে প্রায় ৬৪.৭৩ গড়ে রান করেছেন সরফরাজ। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ায় তাঁকে নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালে ভারতীয় টেস্ট দলে সুযোগ পান সরফরাজ। ওই বছর মাত্র ছয়টি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচগুলোতে মোট ৩৭১ রান করেন।
এর মধ্যে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১৫০ রানের। ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেও এরপর আর ভারতীয় টেস্ট দলে নিয়মিত জায়গা করে নিতে পারেননি।
ফলে সরফরাজকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—ঘরোয়া ক্রিকেটে এত ভালো পারফরম্যান্সের পরও কেন তাঁকে জাতীয় দলের বাইরে রাখা হচ্ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে সরফরাজের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট নতুন করে সেই বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ছবি নয়, ২০১৯ সালের তেলুগু সিনেমা ‘জার্সি’-র একটি দৃশ্য পোস্ট করেন। সেই ছবিতে লেখা ছিল—তিনি হয়তো অন্যদের হিসাবের মধ্যে পড়ছেন না, কিন্তু নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করে যাবেন।
সরফরাজ সরাসরি কাউকে উদ্দেশ করে কিছু বলেননি। তবে পোস্টটির সময় এবং বক্তব্য দেখে অনেকেই মনে করছেন, ভারতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশার কথাই হয়তো তিনি পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।
এর পরেই সাই সুদর্শনের চোটের খবর সামনে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সরফরাজের সেই পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সুদর্শনের অনুপস্থিতি সরফরাজের সামনে আবারও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে।
এখন নির্বাচকদের সামনে মূল প্রশ্ন, তাঁর সাম্প্রতিক ঘরোয়া পারফরম্যান্সকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে। টেস্ট ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন সরফরাজ। পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতাও তাঁর পক্ষে বড় যুক্তি।
তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচক কমিটি। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে সুদর্শনের পরিবর্ত হিসেবে সরফরাজই দলে আসছেন।
সুদর্শনের পরিবর্ত হিসেবে সরফরাজের পাশাপাশি সাইক রশিখের নামও ভাবা হচ্ছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনিও নিয়মিত পারফর্ম করছেন। ফলে নির্বাচকদের সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে।
তবে সরফরাজের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হলো, তিনি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাই শ্রীলঙ্কার মতো সিরিজে তাঁকে ফের সুযোগ দেওয়া হলে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তুলনামূলক কম সময় লাগতে পারে।
সরফরাজের জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনা চলছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পরও যখন তিনি দলে জায়গা পাননি, তখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে ক্রিকেটে সুযোগ অনেক সময় আসে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে। এবার সাই সুদর্শনের চোট সরফরাজের সামনে তেমনই একটি সুযোগ এনে দিতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টের পর সত্যিই কি শ্রীলঙ্কা সিরিজের জন্য টিম ইন্ডিয়ার দরজা আবার খুলে যায় সরফরাজের জন্য।


