বালাদেশে আবারও বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। জুন মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে পেট্রোল, অকটেন এবং কেরোসিনের মূল্য লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে সরকার। তবে স্বস্তির খবর হলো, ডিজেলের দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন এ মূল্য আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
রোববার (৩১ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্যতালিকার তথ্য জানানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকার ঘোষিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অকটেনের দাম বেড়ে হয়েছে ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা।
নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাদের। তবে ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় পরিবহন ও কৃষিখাতে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
গত ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, মে মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা।
সেই হিসাবে জুন মাসে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজেলের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে প্রতি মাসে মূল্য সমন্বয় করা হয়। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাসের প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ে।
এ কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতেও মাসভিত্তিক মূল্য সমন্বয় অব্যাহত থাকতে পারে।
চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছিল। এরপর মে মাসে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যার ফলে প্রায় প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশীয় বাজারেও তার সুফল পাওয়া সম্ভব হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে মূল্য বাড়লে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি সরাসরি মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং কেরোসিননির্ভর বিভিন্ন খাতের ব্যয় বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করেন, তাদের মাসিক জ্বালানি ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।
তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় পণ্য পরিবহন, কৃষি সেচ এবং গণপরিবহন খাতে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারেও তাৎক্ষণিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ সীমিত থাকতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন দ্রুত দেশীয় বাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে।
সরকারের মতে, এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতকে আরও বাস্তবমুখী ও টেকসই করতে সহায়তা করবে। তবে সাধারণ ভোক্তারা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলে দেশের বাজারেও দ্রুত তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে।
জুন মাসের শুরুতেই পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি পেলেও ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় নীতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারীদের ব্যয় কিছুটা বাড়লেও ডিজেলের দাম স্থিতিশীল থাকায় পরিবহন ও কৃষিখাতে বড় ধরনের চাপ আপাতত এড়ানো গেছে।

