খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

গোল করেই লাল কার্ড! VAR-এর সিদ্ধান্তে ১০ জনের সুইৎজ়ারল্যান্ড, সুবিধায় আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ও সুইৎজারল্যান্ডের মধ্যকার রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় জমে ওঠে ম্যাচ। প্রথমে সমতা ফিরিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসলেও মুহূর্তের মধ্যেই বড় ধাক্কা খায়...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াই! আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে কী হতে পারে?

বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াই! আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে কী হতে পারে?

রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয় তুলে নিতে হয় আর্জেন্টিনাকে। এরপর শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ লড়াই শুধু একটি সেমিফাইনালের টিকিটের জন্য নয়, বরং লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ যাত্রার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে। তাই দুই দলের কাছেই এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার এবারের বিশ্বকাপ অভিযান মোটেও সহজ ছিল না। নকআউট পর্বের শুরু থেকেই লিওনেল স্কালোনির দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয় তুলে নিতে হয় আর্জেন্টিনাকে। এরপর শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

এই দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ কার্যকর থাকলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে বারবার সমস্যায় পড়েছে স্কালোনির শিষ্যরা। সুইজারল্যান্ডের মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ দলের বিপক্ষে এই দুর্বলতা বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেন সময়কে হার মানিয়ে খেলছেন।

এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার বিরল রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট ২১ গোল নিয়ে তিনি সর্বকালের অন্যতম সফল গোলদাতাদের একজন হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।

মেসির অভিজ্ঞতা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং সংকটময় মুহূর্তে দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য এখনও বিশ্বসেরা পর্যায়েই রয়েছে।

বিশ্বকাপের শুরুতে আর্জেন্টিনার প্রথম পাঁচ গোলই করেছিলেন মেসি। তবে পরবর্তী সময়ে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে প্রত্যাবর্তনের সূচনা করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এরপর সমতাসূচক গোল করেন মেসি এবং জয়সূচক গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ।

এই পরিবর্তন আর্জেন্টিনার জন্য ইতিবাচক দিক। কারণ শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে দলগতভাবে গোল করার প্রবণতা বড় ম্যাচে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সফল হতে হলে রক্ষণভাগকেও অনেক বেশি দৃঢ় হতে হবে।

মুরাত ইয়াকিনের অধীনে সুইজারল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ দলে পরিণত হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে তাদের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত কার্যকর।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা প্রদর্শন করে তারা প্রতিপক্ষকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি।

সুইজারল্যান্ডের সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো তাদের সংগঠিত ডিফেন্স, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ।

সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা মাঝমাঠে অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে পুরো দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং রক্ষণে সহায়তা দলকে ভারসাম্য এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে ম্যানুয়েল আকাঞ্জি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা সেন্টার-ব্যাক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এক-এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে থামানো, শারীরিক লড়াইয়ে আধিপত্য এবং পিছন থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতায় আকাঞ্জি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

মেসিকে আটকানোর দায়িত্ব অনেকটাই তার কাঁধেই থাকবে।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বড় দুঃসংবাদ পেয়েছে সুইজারল্যান্ড।

দলের তরুণ আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি চোটের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না।

মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম উদীয়মান তারকা হিসেবে নজর কেড়েছেন। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহও অর্জন করেছেন তিনি।

তার অনুপস্থিতি সুইজারল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।

কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে ফেভারিট হলেও ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না।

এর আগের ম্যাচগুলোতে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে স্কালোনির দল। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের মতো শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষে একই ধরনের প্রত্যাবর্তন করা অনেক বেশি কঠিন হবে।

তাই শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং অযথা ভুল এড়ানো হবে আর্জেন্টিনার প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি লিওনেল মেসির জন্য প্রতিটি নকআউট ম্যাচই এখন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

যদি আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে হেরে যায়, তবে এটিই হতে পারে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।

২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পরও তিনি যে একই রকম ক্ষুধা, নেতৃত্ব এবং ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য ধরে রেখেছেন, তা এবারের টুর্নামেন্টে আবারও প্রমাণ করেছেন।

সুইজারল্যান্ডের শক্তিশালী রক্ষণকে ভাঙা সহজ হবে না, তবে সীমিত জায়গায় সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে মেসির দক্ষতার সঙ্গে খুব কম খেলোয়াড়ই পাল্লা দিতে পারেন।

ম্যাচের শুরুতে সুইজারল্যান্ড রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বলের দখল ধরে রেখে মেসি, এনজো ফার্নান্দেজ এবং আক্রমণভাগের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করতে চাইবে।

মাঝমাঠের লড়াই, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের জাদুই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচটি ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালগুলোর একটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও অসাধারণ গোল করার ক্ষমতা, অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের দুর্ভেদ্য রক্ষণ এবং সংগঠিত দলগত ফুটবল—দুই বিপরীতধর্মী শক্তির লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক উপভোগ্য ম্যাচের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

যদি আর্জেন্টিনা তাদের রক্ষণভাগের ভুল কমাতে পারে এবং আক্রমণে ভারসাম্য বজায় রাখে, তবে সেমিফাইনালের পথে তারা এক ধাপ এগিয়ে থাকবে। তবে সুইজারল্যান্ড যদি তাদের পরিচিত শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।