খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বাংলাদেশ কিনছে চীনা J-10CE যুদ্ধবিমান!

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ২০টি...
Homeঅর্থ-বানিজ্যবাজেটে শুল্ক বৃদ্ধি: বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি প্রায় বন্ধের পথে

বাজেটে শুল্ক বৃদ্ধি: বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি প্রায় বন্ধের পথে

মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে হিসাব-নিকাশে পড়েছেন।

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পর দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর Benapole Land Port দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত শুল্কের চাপে আমদানিকারকদের বড় অংশ লোকসানের আশঙ্কায় আপাতত মাছ আমদানি বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা National Board of Revenue মাছ আমদানির ওপর মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে হিসাব-নিকাশে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে মাছের দামে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আগে প্রতি কেজি মিঠা পানির মাছ আমদানিতে শুল্ক দিতে হতো ৮৬ টাকা ১০ পয়সা। নতুন বাজেট কার্যকর হওয়ার পর সেই শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সায়। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে প্রায় ৪৬ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

একইভাবে সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রেও শুল্ক বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আগে যেখানে প্রতি কেজিতে ৪৩ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হতো, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে।

বাজেট ঘোষণার পরদিন থেকেই নতুন শুল্কহার অনুযায়ী আদায় শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মাছ আমদানিকারক রহমত আলী বলেন, ভারতীয় মাছের দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এতে লাভের বদলে লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী এখন আমদানি থেকে সরে আসছেন।

তার মতে, আমদানি কমে গেলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হবে। আর সরবরাহ কমলে দাম বাড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে কাস্টমস। এমন পরিস্থিতিতে নতুন অর্থবছরে উচ্চ শুল্কের কারণে আমদানি কমে গেলে রাজস্ব ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি শুল্ক সবসময় বেশি রাজস্ব নিশ্চিত করে না। অনেক সময় অতিরিক্ত শুল্ক ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করে, যার ফলে আমদানি কমে যায় এবং রাজস্ব আদায়ও কমে।

মাছ আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বন্দরের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও। শ্রমিকদের কাজ কমে গেছে, ট্রাকচালকেরাও অপেক্ষায় থাকছেন দীর্ঘ সময়।

একজন বন্দর শ্রমিক জানান, টানা দুই দিন অপেক্ষা করেও মাছবোঝাই কোনো ট্রাক খালাসের সুযোগ পাননি। এতে শ্রমিকদের আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

Benapole Import and Export Association-এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ট্রাকের পণ্যের ওজনের পরিবর্তে চাকার সংখ্যার ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের কারণে আগেই মাছ আমদানি কিছুটা কমেছিল। নতুন বাজেটে আবার শুল্ক বাড়ানোয় ব্যবসায়ীরা আরও বেশি চাপে পড়েছেন।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা না করা হলে আমদানি আরও কমে যাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক মাছ আমদানি হতো। কিন্তু নতুন বাজেট ঘোষণার পর থেকে সেই সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। যা এই খাতের বর্তমান সংকটের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় মাছ আমদানি কমে গেলে দেশের বাজারে মাছের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব মাছ স্থানীয়ভাবে কম উৎপাদিত হয়, সেগুলোর দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

এতে সাধারণ ক্রেতাদের খরচ বাড়বে, আর বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপও আরও বাড়তে পারে।