পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো পদ্মা সেতুতে। ঈদের ছুটিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত বাড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে সেতু থেকে মোট ৫ কোটি ৩২ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকালে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে রাতভর ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে সেতুর দুই প্রান্তে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল মাওয়া প্রান্তে।
মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৯৪টি যানবাহন চলাচল করেছে। এই প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। সেখান থেকে আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫০ টাকা টোল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এবারও পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। ফেরির দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়াই দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন যাত্রীরা।
এর আগের দিন মঙ্গলবার পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে সেই আয় আরও বেড়ে ৫ কোটির ঘর ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ঠিক আগের দুই-তিন দিন সাধারণত যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এ সময় কর্মজীবী মানুষ ছুটি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন। ফলে সড়কপথে যান চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
যদিও এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ডটি এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৬ জুন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পদ্মা সেতু দিয়ে ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। ওই দিন টোল আদায় হয়েছিল ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা। সেটিই এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড।
পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হতো, এখন কয়েক মিনিটেই নদী পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ঈদের সময় এই সুবিধা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য পদ্মা সেতু এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সেতু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যানজট এড়াতে টোল প্লাজায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতু শুধু যোগাযোগ সহজ করেনি, একই সঙ্গে নতুন আর্থিক রেকর্ড গড়েও আলোচনায় এসেছে।

