Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফরাসি ওপেনে যুদ্ধের ছায়া: রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বে হাত মেলালেন না খেলোয়াড়রা, ফাইনালে মিরা...

ফরাসি ওপেনে যুদ্ধের ছায়া: রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বে হাত মেলালেন না খেলোয়াড়রা, ফাইনালে মিরা আন্দ্রিভা

মাত্র ১৯ বছর বয়সী মিরা আন্দ্রিভা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে মার্তা কস্তিউককে ৬-১, ৬-৩ সেটে পরাজিত করেন। শুরু থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক খেলা খেলেন এবং প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেননি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবার টেনিস কোর্টেও

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতি বা যুদ্ধের প্রভাব নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেভাবে বিভিন্ন খেলাধুলার মঞ্চে ছায়া ফেলছে, তা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। এবার তারই আরেকটি দৃশ্য দেখা গেল ফরাসি ওপেন টেনিস টুর্নামেন্টে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধ এখনও থামার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। আর সেই উত্তেজনা, সেই মানসিক দূরত্ব এখন পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক টেনিস কোর্টেও।

ফরাসি ওপেন সেমিফাইনালে অস্বস্তিকর মুহূর্ত

বৃহস্পতিবার ফরাসি ওপেনের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হন রাশিয়ার তরুণ খেলোয়াড় মিরা আন্দ্রিভা এবং ইউক্রেনের মার্তা কস্তিউক। ম্যাচটি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক আবহের কারণেও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।

ম্যাচ শেষে সাধারণত খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান—এটি টেনিসের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। কিন্তু এই ম্যাচে সেই দৃশ্য দেখা যায়নি। আন্দ্রিভা ও কস্তিউক কেউই একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি। এমনকি ম্যাচের আগে বা পরে একসঙ্গে কোনো ছবিও তোলেননি।

এই ছোট্ট ঘটনাই বুঝিয়ে দেয়, যুদ্ধ কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই—এটি মানুষের সম্পর্কেও গভীর প্রভাব ফেলছে।

দুর্দান্ত জয় নিয়ে ফাইনালে আন্দ্রিভা

মাত্র ১৯ বছর বয়সী মিরা আন্দ্রিভা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে মার্তা কস্তিউককে ৬-১, ৬-৩ সেটে পরাজিত করেন। শুরু থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক খেলা খেলেন এবং প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেননি।

প্রথম ম্যাচ পয়েন্টেই জয় নিশ্চিত করেন আন্দ্রিভা। তাঁর এই জয়ের মাধ্যমে তিনি সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক।

ফাইনালে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষা

ফাইনালে আন্দ্রিভার প্রতিপক্ষ পোল্যান্ডের মাজা খোয়ালিনস্কা। অপর সেমিফাইনালে তিনি ডায়ানা স্নাইডারকে ৭-৬, ৬-৪ সেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন।

এখন টেনিসপ্রেমীদের চোখ ফাইনালের দিকে—যেখানে দেখা যাবে তরুণ দুই প্রতিভার লড়াই। আন্দ্রিভার আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে, তবে খোয়ালিনস্কাও কম শক্তিশালী নন।

দর্শকদের আবেগ এবং সমর্থন

এই ম্যাচে দর্শকদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। মার্তা কস্তিউককে সমর্থন করতে অনেক ইউক্রেনীয় দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তাদের গায়ে ছিল ইউক্রেনের পতাকা, আর পুরো ম্যাচজুড়ে তারা নিজেদের খেলোয়াড়কে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

যদিও কস্তিউক ম্যাচটি হেরে যান, তবুও দর্শকদের করতালি এবং সমর্থন তাকে সম্মানজনক বিদায় দেয়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় আন্দ্রিভা নিরপেক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তবুও তার সমর্থক কম ছিল না।

ম্যাচের আগেও ছিল দূরত্ব

ম্যাচের আগেই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সম্পর্ক যে স্বাভাবিক নয়, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টসের সময় সাধারণত খেলোয়াড়রা একসঙ্গে ছবি তোলেন। কিন্তু এই ম্যাচে তারা আলাদা আলাদা ছবি তোলেন।

এই আচরণ শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন বলেই মনে করছেন অনেকেই।

যুদ্ধের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর

মার্তা কস্তিউক অতীতে একাধিকবার রাশিয়ার আক্রমণের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তিনি এবং তার দেশের অন্যান্য খেলোয়াড়রা বারবার এই যুদ্ধের নিন্দা জানিয়েছেন।

এই কারণে রাশিয়ান খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

আন্দ্রিভার অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ শেষে আন্দ্রিভা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠতে পেরে আমি ভীষণ খুশি। এত ধরনের অনুভূতি হচ্ছে, যা ভাষায় বোঝানো কঠিন। আমি নিজেকে বলেছিলাম—যাই হোক না কেন, কোর্টে নিজের সেরাটা দেব। সেটাই করেছি।”

তার এই কথাতেই বোঝা যায়, ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও বাইরের চাপ সামলেও তিনি নিজের খেলায় মনোযোগ ধরে রেখেছেন।

খেলাধুলা ও রাজনীতি—এক অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, খেলাধুলা কখনও পুরোপুরি রাজনীতি থেকে আলাদা থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, যুদ্ধ বা কূটনৈতিক উত্তেজনা—সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলে ক্রীড়াজগতে।

ফরাসি ওপেনের এই সেমিফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ ছিল না, বরং এটি ছিল বর্তমান বিশ্বের এক বাস্তব চিত্র—যেখানে প্রতিযোগিতা, আবেগ এবং রাজনীতি একসঙ্গে মিশে গেছে।

শেষ কথা

মিরা আন্দ্রিভার ফাইনালে ওঠা নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হলো—এই ম্যাচ আমাদের দেখিয়েছে, খেলাধুলার মঞ্চেও মানবিক সম্পর্ক কতটা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে আন্দ্রিভা তার এই দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখতে পারেন কি না এবং নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন কি না।