খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাস! প্রথমবার ৩০ মিনিটের হাফটাইম শো, ক্ষুব্ধ ফুটবল বিশ্ব

বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাস! প্রথমবার ৩০ মিনিটের হাফটাইম শো, ক্ষুব্ধ ফুটবল বিশ্ব

ঠিক সেই মডেল অনুসরণ করেই এবার বিশ্বকাপ ফাইনালকে আরও বর্ণাঢ্য করতে চাইছে ফিফা। বিশ্বের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। আলো, শব্দ, নৃত্য এবং বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে সাজানো হবে এই অনুষ্ঠান।

ফুটবল মানেই আবেগ, উত্তেজনা এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই ঐতিহ্যেই বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে আয়োজন করা হচ্ছে সুপার বোলের আদলে জাঁকজমকপূর্ণ হাফটাইম শো। আর সেই কারণেই ম্যাচের মধ্যবর্তী বিরতির সময় প্রচলিত ১৫ মিনিট থেকে বেড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত যেমন দর্শকদের জন্য নতুন বিনোদনের দরজা খুলে দিচ্ছে, তেমনই ফুটবলারদের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের ছন্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক বিশেষজ্ঞ, কোচ এবং সমর্থক।

এতদিন বিশ্বকাপে হাফটাইম বলতে বোঝাত মাত্র ১৫ মিনিটের বিরতি। এই সময়টুকু খেলোয়াড়রা বিশ্রাম নেন, কোচ কৌশল সাজান এবং দ্বিতীয়ার্ধের জন্য প্রস্তুতি নেন। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিতে আসছে বড় পরিবর্তন।

ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালকে আরও আকর্ষণীয় ও বৈশ্বিক বিনোদনের মঞ্চে পরিণত করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনালে থাকছে এক বিশাল সঙ্গীতানুষ্ঠান। এর আগে ফিফা জানিয়েছিল, অনুষ্ঠানটি প্রায় ১১ মিনিটের হবে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, সেই সময়সীমা বেড়ে প্রায় ২৫ মিনিট বা তারও বেশি হতে পারে। ফলে মোট বিরতি প্রায় আধ ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপার বোল হাফটাইম শো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের অন্যতম আকর্ষণ। ফুটবল নয়, অনেক দর্শক শুধু সেই সঙ্গীতানুষ্ঠান দেখার জন্যও টেলিভিশনের সামনে বসেন।

ঠিক সেই মডেল অনুসরণ করেই এবার বিশ্বকাপ ফাইনালকে আরও বর্ণাঢ্য করতে চাইছে ফিফা। বিশ্বের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। আলো, শব্দ, নৃত্য এবং বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে সাজানো হবে এই অনুষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাস্টিন বিবার ও শাকিরার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের পারফর্ম করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের তালিকা নিয়ে ফিফা এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

শুরুতে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বড় সম্প্রচার সংস্থা বিরতির সময় পুরো অনুষ্ঠান দেখাবে না বলে জানিয়েছিল। কারণ ফুটবল ম্যাচের বিশ্লেষণ এবং বিজ্ঞাপনের জন্য তাদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু বিরতির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সম্প্রচারকারীরাও হাফটাইম শো সরাসরি দেখানোর বিষয়ে নতুন করে ভাবছে। ফলে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক একই সঙ্গে ফুটবল ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গীতানুষ্ঠানের স্বাদ পেতে পারেন।

দীর্ঘ বিরতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে মাঠের খেলায়। ফুটবলারদের শরীর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উচ্চমাত্রার প্রতিযোগিতার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়। মাঝখানে অতিরিক্ত বিশ্রাম পেলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে, পেশির নমনীয়তা হ্রাস পেতে পারে এবং ম্যাচের গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শুধু খেলোয়াড়রাই নন, কোচদেরও নতুনভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। দীর্ঘ বিরতির মধ্যে খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি ধরে রাখা, পুনরায় ওয়ার্ম-আপ করানো এবং মানসিকভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে আবারও প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে। এতে পুরো ম্যাচ পরিচালনার ধরনই বদলে যেতে পারে।

ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি দীর্ঘদিন ধরেই ১৫ মিনিটের হাফটাইমকে আদর্শ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে।

এর আগে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল একটি প্রতিযোগিতায় ২৫ মিনিটের বিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আইএফএবি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তাদের অবস্থান ছিল, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ১৫ মিনিটের বেশি বিরতি দেওয়া উচিত নয়।

তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ব্যতিক্রমী আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ফিফা।

ফিফার এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে নতুন প্রজন্মের দর্শক এবং বিনোদনপ্রেমীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, ফুটবল ম্যাচের মূল আকর্ষণ হওয়া উচিত খেলা। অতিরিক্ত দীর্ঘ বিরতি ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করতে পারে এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের একাংশ সমর্থক ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শুধু সঙ্গীতশিল্পীরাই নন, বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইমে দর্শকদের জন্য থাকছে আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত শিশুতোষ অনুষ্ঠান সেসমে স্ট্রিট এবং দ্য মাপেটস-এর জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকেও মঞ্চে আনা হবে। এই চরিত্রগুলোর উপস্থিতি ছোটদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও আলাদা আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠবে।

১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া এই দুই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমান জনপ্রিয়। তাই ফাইনালের অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শো শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্যোগও।

এই কনসার্টের টিকিট বিক্রির একটি অংশ দেওয়া হবে গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে। ফিফার লক্ষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা।

ইতিমধ্যেই ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি টিকিট বিক্রি থেকে ১ ডলার করে এই তহবিলে জমা দেওয়া হচ্ছে। সংগৃহীত অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা উন্নয়ন এবং শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।

ফিফা গত কয়েক বছরে বিশ্বকাপকে আরও বৈশ্বিক বিনোদনের উৎসবে পরিণত করার চেষ্টা করছে। দলসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক সম্প্রচার এবং এখন হাফটাইম শো—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের চেহারা দ্রুত বদলাচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। এই নতুন আয়োজন কি দর্শকদের আরও বেশি আকৃষ্ট করবে, নাকি ফুটবলের ঐতিহ্য ও প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলবে?

উত্তর মিলবে বিশ্বকাপ ফাইনালের দিনই। তবে একথা নিশ্চিত, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু মাঠের লড়াইয়ের জন্য নয়, ইতিহাসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ হাফটাইম শোর কারণেও বহু বছর মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।