খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা কেন স্থগিত করল জানাল মার্কিন দূতাবাস

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি...
Homeবিশ্ব সংবাদবাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা কেন স্থগিত করল জানাল মার্কিন দূতাবাস

বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা কেন স্থগিত করল জানাল মার্কিন দূতাবাস

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হলো দেশটির করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য থেকেই অভিবাসীদের এমনভাবে যাচাই করা হবে

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা বা পাবলিক বেনিফিট ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং করদাতাদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটন, শিক্ষার্থী, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য আগের নিয়মই বহাল থাকবে।

শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হলো দেশটির করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য থেকেই অভিবাসীদের এমনভাবে যাচাই করা হবে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন বা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন।

দূতাবাসের মতে, অভিবাসন নীতিকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার অংশ হিসেবেই এই সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ভিসা যাচাই-বাছাই পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে ভিসা অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ এবং দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কেবল অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য প্রযোজ্য। ফলে যারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছেন বা করবেন, তারাই এই সাময়িক স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বেন।

অন্যদিকে, নিচের ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি—

পর্যটন (Tourist Visa)
শিক্ষার্থী (Student Visa)
ব্যবসায়িক (Business Visa)
বিনিময় কর্মসূচি (Exchange Visa)
অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট বা অস্থায়ী ভিসা

অর্থাৎ, যারা স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা, ব্যবসা বা অন্যান্য বৈধ উদ্দেশ্যে যেতে চান, তাদের আবেদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভিসাসংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন, সরকারি নীতি এবং জাতীয় স্বার্থের আলোকে নেওয়া হয়। তাই অভিবাসী ভিসা সংক্রান্ত বর্তমান নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

দূতাবাসের মতে, নতুন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

এই ঘোষণার ফলে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের আবেদন প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিলম্ব হতে পারে। তবে এটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং নীতিমালা পুনর্বিবেচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর একটি সাময়িক ব্যবস্থা।

অন্যদিকে, যেসব আবেদনকারী পর্যটন, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদি অন্যান্য উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত কোনো নতুন বাধা তৈরি করছে না। তারা আগের নিয়ম অনুযায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন নীতিতে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সরকারি সুবিধার যথাযথ ব্যবহারকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। নতুন এই পদক্ষেপও সেই নীতিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য হলো, যারা অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবেন, তারা যেন নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে জীবনযাপন করতে পারেন এবং সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচির ওপর অযথা নির্ভরশীল না হন। একই সঙ্গে ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।