খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক: আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৫০

দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক: আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৫০

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গজনিত জটিলতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ এই তিন মৃত্যুসহ চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের সংক্রমণ এবং হামের উপসর্গে মোট ৭৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত নিয়মিত হাম পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগীদের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে একদিনেই নিশ্চিত ও উপসর্গযুক্ত রোগী মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯ জনে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিশ্চিত রোগীর পাশাপাশি উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ উপসর্গ থাকা অনেক রোগী পরীক্ষার আগেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণ পরিস্থিতির হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১৩ হাজার ৩২৬ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জনের মধ্যে।

এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নিশ্চিত রোগীর তুলনায় উপসর্গযুক্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগ কেবল পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীদের নয়, উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদেরও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো শিশুমৃত্যুর সংখ্যা। সর্বশেষ তিন শিশুর মৃত্যুর পর ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৫০ শিশুর প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯২ হাজার ৮৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৯ হাজার ২৩৪ জন। অর্থাৎ অধিকাংশ রোগী যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি কিংবা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা নেয়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। সময়মতো রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত বয়সে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। যারা কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে পারেনি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা সংক্রমণ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

একই সঙ্গে যেসব এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেখানে নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, দেশে এখনও হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং আরও তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্বকে সামনে এনেছে।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩২৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ৮৩২ জন, যাদের মধ্যে ৮৯ হাজার ২৩৪ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর হাম ও হামের উপসর্গে মোট শিশুমৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৫০-এ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।