খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

পেনাল্টি মিস করেও ম্যাচের নায়ক এমবাপে! মরক্কোকে ২-০ হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

বিশ্বকাপের আরেকটি শক্তিশালী পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আবারও প্রমাণ করেছে কেন তারা শিরোপার অন্যতম...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালWorld Cup কোয়ার্টার ফাইনালে নাটক! VAR বিতর্কের পর পেনাল্টি মিস করলেন কিলিয়ান...

World Cup কোয়ার্টার ফাইনালে নাটক! VAR বিতর্কের পর পেনাল্টি মিস করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে

মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো পুরো ম্যাচজুড়েই অসাধারণ আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। এমবাপ্পের পেনাল্টি ঠেকানো শুধু নয়, ফ্রান্সের একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণও তিনি সফলভাবে প্রতিহত করেন।

ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দল গোলশূন্য থাকলেও মাঠে নাটকীয় মুহূর্তের কোনো অভাব ছিল না। বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, দীর্ঘ ভিএআর (VAR) পর্যালোচনা এবং মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর অসাধারণ পারফরম্যান্স ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণের দিক থেকে ফ্রান্স ছিল অনেক বেশি এগিয়ে। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা দ্রুত পাস এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে মরক্কোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। অন্যদিকে মরক্কো নিজেদের অর্ধে নেমে গিয়ে রক্ষণ সামলাতেই বেশি মনোযোগ দেয়।

ফরাসি দল একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা পায়নি। মরক্কোর রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো বারবার দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে যখন ফ্রান্স একটি পেনাল্টি পায়। তবে পেনাল্টি নেওয়ার আগে রেফারি ভিএআরের সাহায্যে আক্রমণ গঠনের সময় মরক্কোর ডিফেন্ডার আক্রাফ হাকিমির ওপর কোনো ফাউল হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করেন।

এই সিদ্ধান্ত নিতে বেশ দীর্ঘ সময় লেগে যায়। মাঠে দাঁড়িয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তখন অধৈর্যতা দেখা দেয় এবং চারদিক থেকে শিসের শব্দ শোনা যায়।

অনেকের মতে, এত দীর্ঘ অপেক্ষা খেলোয়াড়ের মনোযোগে প্রভাব ফেলেছে। ম্যাচ বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশও মনে করেন, এই বিলম্ব ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করেছে।

অবশেষে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্পট কিকে দাঁড়ালেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

তার নেওয়া শট ছিল তুলনামূলক দুর্বল এবং সহজেই তা আটকে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। পুরো স্টেডিয়াম যেন মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। সাধারণত এমন সুযোগে খুব কমই ভুল করেন এমবাপ্পে, তাই এই মিস ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করে।

মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো পুরো ম্যাচজুড়েই অসাধারণ আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। এমবাপ্পের পেনাল্টি ঠেকানো শুধু নয়, ফ্রান্সের একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণও তিনি সফলভাবে প্রতিহত করেন।

বিশ্বমানের এই গোলরক্ষক প্রতিটি মুহূর্তে নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। তার দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নিখুঁত অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা মরক্কোকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

ফ্রান্সের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকেই আসে পেনাল্টির সুযোগ। মাইকেল অলিসে দারুণ একটি পাস বাড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পের উদ্দেশে। এমবাপ্পে বল নিয়ন্ত্রণ করে মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউইকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ফাউল করা হয়।

রেফারি কোনো দ্বিধা না করে সরাসরি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। রিপ্লেতেও দেখা যায়, সিদ্ধান্তটি যথাযথ ছিল এবং মরক্কোর খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো আপত্তি দেখা যায়নি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্স বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়।

অ্যাড্রিয়েন রাবিও একটি কর্নার থেকে দুর্দান্ত অবস্থানে হেড করার সুযোগ পেলেও বল অনেক ওপরে পাঠিয়ে দেন। সুযোগটি নষ্ট হওয়ার পর নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি তিনি।

এর কিছুক্ষণ পর ডিজিরে দুয়ের নিখুঁত ক্রসে উসমান দেম্বেলে হেড করলেও সেটিও গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

ফ্রান্সের ধারাবাহিক আক্রমণ দেখে মনে হচ্ছিল, গোল আসতে আর খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মরক্কোর রক্ষণ অটুট থাকে।

মরক্কো ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে খুব একটা কার্যকর হতে পারেনি। প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণে ব্রাহিম দিয়াজ একাই বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু ফরাসি ডিফেন্ডারদের ভিড়ে তিনি দ্রুত বল হারিয়ে ফেলেন। পরে ফাউলের আবেদন জানালেও রেফারি খেলাটি চালিয়ে যেতে বলেন।

মরক্কোর আক্রমণে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। ফলে তারা খুব কম সময়ই ফ্রান্সের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।

স্টেডিয়ামের পরিবেশও ছিল বেশ আলোচনার বিষয়। অনেকেই আশা করেছিলেন মরক্কোর সমর্থকেরা নিজেদের দলকে জোরালোভাবে উৎসাহ দেবেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তারা বেশিরভাগ সময় ফ্রান্সকে লক্ষ্য করেই দুয়োধ্বনি দেন। নিজেদের দল বলের দখল পেলেও গ্যালারিতে প্রত্যাশিত উচ্ছ্বাস খুব একটা দেখা যায়নি।

এতে ম্যাচের পরিবেশ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত সাংবাদিকরাও।

এই ম্যাচের দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনা আবারও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত বিলম্ব খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি এবং ম্যাচের গতি নষ্ট করে দেয়।

বিশেষ করে পেনাল্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দীর্ঘ অপেক্ষা খেলোয়াড়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসের পর এই আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

গোলশূন্য অবস্থায় শুরু হওয়া এই কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচটি নাটকীয়তা, উত্তেজনা এবং বিতর্কে ভরপুর ছিল। ফ্রান্স বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে মরক্কো রক্ষণে দুর্দান্ত শৃঙ্খলা দেখিয়ে ম্যাচে টিকে থাকে।

সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন ইয়াসিন বোনো, যিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি রুখে দিয়ে দলকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান। একই সঙ্গে দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনা ফুটবল বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দেয়।

ম্যাচের পরবর্তী সময়ে কোন দল শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসবে, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা। তবে প্রথমার্ধেই এই ম্যাচ প্রমাণ করে দেয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি মুহূর্তই হতে পারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ।