খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইরান-ওমান গোপন সমঝোতা ঘিরে উত্তেজনা, হরমুজ় প্রণালী নিয়ে বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরান-ওমান গোপন সমঝোতা ঘিরে উত্তেজনা, হরমুজ় প্রণালী নিয়ে বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র ওমানের গোপন বোঝাপড়ার খবর সামনে আসতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাফ বার্তা, হরমুজ় প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের সঙ্গে কোনও ধরনের সমঝোতা হলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে পারে ওমান।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই সরু সমুদ্রপথ দিয়েই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। ফলে এই পথের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে কোনও উত্তেজনা সরাসরি প্রভাব ফেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

সম্প্রতি ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের উপর যৌথ নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনা আদায়ের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে তেহরান। শুধু তাই নয়, এই সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়াও নাকি প্রস্তুত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই খবর সামনে আসতেই ওয়াশিংটনে শুরু হয় চরম অস্বস্তি।

আরও পড়ুন :  জুড বেলিংহ্যাম কেন লাল কার্ড পেলেন না? ‘দুই স্তরের রেফারিং’ বিতর্কে ফুটবল বিশ্ব উত্তাল!

বুধবার মার্কিন ক্যাবিনেট বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমেরিকার মিত্র দেশ হয়েও ওমান যদি ইরানের সঙ্গে এমন কোনও সমঝোতায় যায়, তা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। এমনকি প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট, হরমুজ় প্রণালীর উপর কোনও একক দেশের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে নারাজ আমেরিকা। তাঁর কথায়, “এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কেউ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। আমেরিকা নজরদারি চালাবে, কিন্তু কোনও দেশের একচেটিয়া আধিপত্য বরদাস্ত করা হবে না।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওমান বহু বছর ধরেই আমেরিকার অন্যতম কৌশলগত অংশীদার। সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ওমানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। সেই দেশের বিরুদ্ধেই ট্রাম্পের এমন কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন :  মেসির জন্য ডালাসে ডলার বৃষ্টি! বিশ্বরেকর্ডের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়ার পর থেকেই হরমুজ় প্রণালীকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে ইরান। প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে নির্বিঘ্নে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে সব জাহাজের উপর কর বা খাজনা চাপানোর পরিকল্পনার খবর সামনে আসে। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনবিরোধী বলেই মনে করছে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলি।

ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের উপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ় প্রণালীতে অস্থিরতা তৈরি হলে জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

যদিও ট্রাম্প পরে দাবি করেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি এখনও হয়নি। তিনি ইরানের সরকারি টেলিভিশনের রিপোর্টও খারিজ করে দেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর সতর্কবার্তা ছিল অত্যন্ত কড়া। ট্রাম্প জানান, আমেরিকা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং কোনওভাবেই আন্তর্জাতিক জলপথের স্বাধীনতা খর্ব হতে দেবে না।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে ৯ নতুন নিয়মে বদলে গেল ফুটবল! ভিএআর বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভ নাকি বড় সাফল্য?

এ দিকে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ওমান সরকারের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওমানের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা এ বিষয়ে মুখ খোলেনি।

বিশ্ব কূটনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শক্তির লড়াই আরও তীব্র হতে পারে। এক দিকে ইরানের বাড়তে থাকা প্রভাব, অন্য দিকে আমেরিকার কড়া অবস্থান— সব মিলিয়ে হরমুজ় প্রণালী এখন আবারও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনে এই ইস্যু শুধু আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কেই নয়, গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হরমুজ় প্রণালী শুধু একটি জলপথ নয়, এটি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান লাইফলাইন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ