খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজদিল্লিতে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ সদস্য

দিল্লিতে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশ সদস্য

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। আহত কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় আবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে পুলিশের দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), দুই পরিদর্শকসহ অন্তত পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সীমিত বলপ্রয়োগের পাশাপাশি টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিল্লির কনট প্লেস সংলগ্ন টলস্টয় মার্গ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে টলস্টয় মার্গের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা ইট পাটকেল ,পাথর ও বোতল ছুড়ে মারতে শুরু করে। এসময় সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগত আহত হন। তাকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন :  যুদ্ধের আবহে জ্বালানি সংকট, ২০৪৭-এর বিকশিত ভারত নিয়ে বড় বার্তা মোদির

সংঘর্ষে শুধু এসিপি বিবেক ভগতই নন, আরও দুইজন পুলিশ পরিদর্শক এবং কয়েকজন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। আহত কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতেই তারা বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়নি। বরং বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া বিক্ষোভের আয়োজক এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের ঘটনাস্থলে ডেকে জনতাকে শান্ত করার অনুরোধ করা হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ, উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা নিজেদের সংগঠকদের অনুরোধও উপেক্ষা করেন এবং অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক করে তোলেন।

পুলিশের অভিযোগ, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর নিক্ষেপ করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারীর হাতে লাঠি দেখা যায়। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি তলোয়ার ও খুকরির মতো ধারালো অস্ত্র বহন করছিলেন।

আরও পড়ুন :  আবহাওয়াই ভিলেন! দিল্লিতে বিপজ্জনক হারে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, আক্রান্ত ১,৩৪৯

এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে সীমিত বলপ্রয়োগ করে।

একই সঙ্গে দুই থেকে তিনটি টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়, যাতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। কয়েক মিনিটের উত্তেজনার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

পুলিশের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো।

ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ আরও গুরুতর একটি অভিযোগ সামনে আনে। তাদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে এক পুলিশ সদস্যকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই সদস্যকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত অন্যদেরও হামলায় অংশ নিতে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  হরমুজ প্রণালি: বিকল্প রুট কি বিশ্বে তেল-গ্যাস সংকট ঠেকাতে পারবে?

এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংঘর্ষের পর যন্তর মন্তর, টলস্টয় মার্গ এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের জন্য কারা দায়ী, তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশ আশা করছে, এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ