খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeলাইফস্টাইলজন্ডিস হলেই মসলাবিহীন খাবার খেতে হবে,এই ধারণা কতটা সত্য?

জন্ডিস হলেই মসলাবিহীন খাবার খেতে হবে,এই ধারণা কতটা সত্য?

জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়; বরং এটি একটি উপসর্গ। যখন রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামক একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন চোখের সাদা অংশ, ত্বক এবং কখনও কখনও নখ পর্যন্ত হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এই অবস্থাকেই জন্ডিস বলা হয়।

জন্ডিস এমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা, যার নাম শুনলেই অনেকের মনে ভয় কাজ করে। বিশেষ করে রোগী বা তার পরিবারের প্রথম প্রশ্ন থাকে”এখন কী খাওয়া যাবে?” আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, জন্ডিস হলে শুধু সেদ্ধ, মসলাবিহীন এবং একেবারে নিরামিষ ধরনের খাবারই খেতে হবে। অনেকেই মনে করেন, সামান্য মসলাও লিভারের ক্ষতি করে এবং রোগকে আরও জটিল করে তোলে।

কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে? সত্যিই কি জন্ডিসের সময় সব ধরনের মসলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ? নাকি এটি শুধুই একটি ভুল ধারণা? চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়; বরং এটি একটি উপসর্গ। যখন রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামক একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন চোখের সাদা অংশ, ত্বক এবং কখনও কখনও নখ পর্যন্ত হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এই অবস্থাকেই জন্ডিস বলা হয়।

স্বাভাবিকভাবে পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে বিলিরুবিন তৈরি হয়। লিভার এই বিলিরুবিনকে প্রক্রিয়াজাত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু লিভার যদি ঠিকমতো কাজ করতে না পারে অথবা পিত্তনালিতে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে বিলিরুবিন শরীরে জমে যায় এবং জন্ডিস দেখা দেয়।

জন্ডিসের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন,

  • ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস (হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ই)
  • লিভারের প্রদাহ
  • পিত্তথলির পাথর
  • পিত্তনালিতে বাধা
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ
  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • জন্মগত কিছু রোগ
  • লিভার সিরোসিস

খাবারই নয় জন্ডিসের মূল কারণ । বরং লিভারের সমস্যার কারণেই এটি দেখা দেয়।

আরও পড়ুন :  এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

এটি সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি।

অনেকেই মনে করেন, রান্নায় সামান্য হলুদ, জিরা, ধনিয়া কিংবা আদা ব্যবহার করলেই লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কিন্তু বাস্তবে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

হালকা পরিমাণে ব্যবহৃত সাধারণ মসলা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর নয়। বরং কিছু মসলা হজমে সহায়তা করতে পারে। যেমন—

  • হলুদে রয়েছে কারকিউমিন, যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক।
  • জিরা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • ধনিয়া খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি হজমে ভূমিকা রাখে।
  • আদা বমিভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ঝাল, অতিরিক্ত তেল ও ভারী রান্না লিভারের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

আসল সমস্যা মসলায় নয়, বরং

  • অতিরিক্ত তেল
  • ডিপ ফ্রাই খাবার
  • অতিরিক্ত ঘি বা মাখন
  • ফাস্টফুড
  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
  • অতিরিক্ত ঝাল

এসব খাবার হজমে বেশি সময় লাগে এবং শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। ফলে জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তি আরও ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন।

জন্ডিসে শরীরের প্রধান প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং বিশ্রাম।

খাবার এমন হতে হবে যাতে সহজে হজম হয় এবং শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়।

শরীরকে পানিশূন্য হতে দেবেন না।

পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত (চিনি কম), স্যুপ ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

পর্যাপ্ত তরল শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে।

ভিটামিনসমৃদ্ধ ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

আরও পড়ুন :  ভারতের স্বাধীনতা দিবস:বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বানিজ্য বন্ধ

যেমন,

  • আপেল
  • পেয়ারা
  • কমলা
  • মাল্টা
  • আঙুর
  • পেঁপে
  • তরমুজ

তবে ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল নির্বাচন করা উচিত।

সবুজ শাকসবজি, লাউ, কুমড়া, গাজর, ঝিঙা, পটল, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি সহজে হজম হয় এবং শরীরের জন্য উপকারী।

পূর্বে মনে করা হতো জন্ডিসে প্রোটিন কম খাওয়া উচিত।

বর্তমানে চিকিৎসকেরা বলেন, অধিকাংশ রোগীর জন্য পরিমিত প্রোটিন প্রয়োজন।

ভালো উৎস হতে পারে,

  • ডাল
  • মুগ ডাল
  • মাছ
  • ডিম (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
  • মুরগির বুকের মাংস
  • টক দই

ভাত, রুটি, ওটস, সুজি, আলু ইত্যাদি শরীরকে শক্তি দেয়।

তবে বেশী তৈলাক্ত খাবার খাওয়া ঠিক নয়।

জন্ডিসে অনেকের ক্ষুধা কমে যায়।

তাই একসঙ্গে অনেক খাবার না খেয়ে দিনে ৫-৬ বার অল্প অল্প করে খাওয়া ভালো।

এতে হজম সহজ হয় এবং শরীরও পর্যাপ্ত শক্তি পায়।

যদিও সব ধরনের মসলা নিষিদ্ধ নয়, তবুও কিছু খাবার সীমিত রাখা উচিত।

যেমন,

  • অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার
  • বিরিয়ানি
  • কাচ্চি
  • ফাস্টফুড
  • বার্গার
  • পিজা
  • অতিরিক্ত ঝাল খাবার
  • কোমল পানীয়
  • অতিরিক্ত মিষ্টি
  • প্রক্রিয়াজাত খাবার
  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস

যারা অ্যালকোহল পান করেন, তাদের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জন্ডিসের সময় অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে।

কারণ অ্যালকোহল সরাসরি লিভারের কোষের ক্ষতি করে এবং রোগকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

অনেকে জন্ডিস হলে বিভিন্ন ভেষজ ও কবিরাজি ওষুধ খেতে শুরু করেন।

কিন্তু সব ভেষজ ওষুধ নিরাপদ নয়।

কিছু ভেষজ উপাদান লিভারের জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে।

আরও পড়ুন :  রোনাল্ডো অবসর নিলেই দেউলিয়া পর্তুগাল ফুটবল? চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে তোলপাড় বিশ্ব!

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো হারবাল বা বিকল্প ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

শুধু খাবার নয়, পর্যাপ্ত বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক পরিশ্রম কম রাখলে শরীর দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য পায়।

এসব লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা গেলে দেরী না করে হাসপাতালে যেতে হবে,

  • জ্বরের সঙ্গে জন্ডিস
  • বারবার বমি
  • অচেতন ভাব
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা
  • পেট ফুলে যাওয়া
  • রক্তক্ষরণ
  • গাঢ় কালো মল
  • তীব্র পেটব্যথা
  • শ্বাসকষ্ট

এসব ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

এটি সত্য নয়। সুষম ও সহজপাচ্য খাবারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার সাধারণত ক্ষতিকর নয়।

অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার এড়ানো উচিত, তবে হালকা মসলা সাধারণত সমস্যা সৃষ্টি করে না।

এটি অত্যন্ত ভুল ধারণা।

বরং পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে।

আখের রস অনেকের কাছে জনপ্রিয় হলেও এটি জন্ডিসের চিকিৎসা নয়। অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি আখের রস খেলে সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকতে পারে।

জন্ডিসের কারণের ওপর নির্ভর করে সুস্থ হওয়ার সময় ভিন্ন হয়।

ভাইরাসজনিত সাধারণ জন্ডিস অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।

অন্যদিকে পিত্তথলির পাথর, লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা অন্য জটিল কারণে জন্ডিস হলে চিকিৎসার সময় আরও বেশি লাগতে পারে।

তাই নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ